কৃষিতে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্দ্যোক্তা পুরস্কার অর্জণ করেছে সায়মা খাতুন


648 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কৃষিতে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্দ্যোক্তা পুরস্কার অর্জণ করেছে সায়মা খাতুন
এপ্রিল ১৬, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

এস কে সিরাজ ::
দক্ষিণ-পশ্চিম সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের নারী ক্ষুদ্র উদ্দ্যোক্তা তৈরির রোল মডেল হিসেবে পরিচিত “নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ)” এর নারী উদ্যেক্তা বরাবরের মত এবারও সিটি ক্ষুদ্র উদ্যেক্তা পুরস্কার অর্জণ করেছে।
শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনি ইউনিয়নের পানখালী চন্ডিপুর গ্রামের সদস্য সায়মা খাতুন এবার  কৃষিতে শ্রেষ্ঠ নারী ক্ষুদ্র উদ্যেক্তা পুরস্কার অর্জণ করেছে। ভূমিহীন হতে জমির মালিক বনে যাওয়া সায়মা খাতুন আট ভাইবোনের মধ্যে তার অবস্থান সর্ব কানিষ্ঠ। অভাব অনটনের সংসারে শিক্ষার খুব বেশি সুযোগ পাইনি। তিনি পঞ্চম শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করে ১৯৯৫ সালে ভূমিহীন মোঃ মান্দার মোল্লার দ্বিতীয় পুত্র, বেকার মোঃ সফিকুল ইসলামের এর সাথে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

জীবনে পথ পরিবর্তনের শুরু টা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, তিনি নওয়াবেঁকী গণমূখী  ফাউন্ডেশনের (এনজিএফ) বুড়িগোয়াালিনী শাখা থেকে মাত্র ৪০০০ টাকা ঋণ নিয়ে শুরু করেন জীবন সংগ্রামের কঠিন যুদ্ধ।  পর্যায় ক্রমে তিনি ঋণ গ্রহন করেন এবং নানামুখী কৃষি পেশায় বিনিয়োগ করেন। তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহন করে লবনাক্ত পানিতে সোনা ফলিয়েছেন এবং তার প্রত্যেকটি উদ্যোগ ছিল পরিবেশবান্ধব। ২০০৯ সালে তিনি ৩,০০,০০০ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন এবং সিডর পরবর্তী দুর্যোগ মোকাবেলায় সংস্থার বিভিন্ন কৃষি কারীগরী প্রশিক্ষনে অংশগ্রহন করেন যেমন  মনো সেক্স তেলাপিয়া, গলদা চিংড়ির মিশ্র চাষ, গরু ও ছাগল পালন এবং বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষ ইত্যাদি। এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি এ অঞ্চলের পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে যুদ্ধ করে তার প্রত্যেকটি কৃষি উদ্যেগে সফলতা অর্জণ করেন। সর্বশেষ তিনি ১০/০৮/২০১৫ তারিখে এনিজিএফ হতে পুনঃরায় ৫,০০,০০০ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ, গরু, ছাগল পালনের পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষ শুরু করেন এবং নিজের উৎপাদিত সবজির স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় তিনি লভ্যাংশের মুখ দেখেন এবং সেই টাকায় এবার তিনি তার স্বপ্নের ঠিকানা পাকা বাড়ী তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন। একজন সফল সায়মা খাতুন শুধু নিজেরই আঁেখর গোছাঁন নি, পাশাপাশি তিনি আরও ৩০ জন মানুষের খন্ডকালীন কর্ম সংস্থানের যোগান দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, আমার সাফল্য এখানেই শেষ করতে চাই না। আমারই এই উদ্যোগকে আরও বৃহৎ পরিসরে উন্নীত করে আরও অধিক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান এর সুযোগ সৃষ্টি করতে চাই।

তিনি বলেন, খামারে নিয়মিত মাটি-পানি পরীক্ষা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন  করেছি। কেননা এই এলাকায় একক বাগদা চিংড়ি চাষের ব্যাপক প্রবণতা রয়েছে। সম্প্রতি বছরগুলিতে বাগদা চিংড়ি চাষে ব্যাপক ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে সেহেতু একক চিংড়ি চাষের পরিবর্তে মিশ্র মাছ চাষের গুরুত্বারোপ করে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে আমি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সাফল্য অর্জন করেছি এবং এ চাষ পদ্ধতিতে ঝুঁকির পরিমান বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। আমার এই চাষ পদ্ধতি এখন অনেককেই গ্রহন করছে এবং তারা সফলতাও পাচ্ছে।

গতকাল ১৫ই এপ্রিল ১২তম সিটি ক্ষুদ্র উদ্্েযক্তা পুরুস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ.ফ.ম মোস্তাফা কামাল বলেন, দশেরে র্অথনীততিে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদরে ভূমকিা ১১শতাংশ থকেে বাড়ানো দরকার তনিি বলনে, তাদরে ভূমকিা আরো বশেি হওয়া সম্ভব। অনুষ্ঠানে বভিন্নি ক্যাটাগরতিে ব্যক্তি র্পযায়ে ১২ জন এবং দুটি প্রতষ্ঠিানকে পুরস্কার দিয়েছে সিটি ব্যাংকরে সিটি ফাউন্ডশেন।#