কেন কমে গেল কাটারের ধার?


411 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কেন কমে গেল কাটারের ধার?
জুন ২১, ২০১৭ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
চার ম্যাচে মাত্র ১ উইকেট। স্ট্রাইক রেট ১৭৪। ইকোনমি রেট ৬.৩১। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, এটা চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মোস্তাফিজুর রহমানের বোলিং পারফরম্যান্স!

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ দলের কোনো বোলারই সফল নন। তবু মোস্তাফিজের ব্যর্থতা নিয়েই বেশি আলোচনা। কারণ, দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেই বিস্ময় জাগিয়েছিলেন এই তরুণ বাঁহাতি পেসার। সেই থেকে তাঁর কাছে প্রত্যাশাও বেশি। বাংলাদেশ দলের আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ কাল ব্যাপারটা বেশ বুঝিয়ে বললেন, ‘দর্শকদের কথা কী বলব, আমাদের খেলোয়াড়দেরই তার কাছে অনেক বেশি প্রত্যাশা। ও বিশেষ কিছু না করলেই মনে হয় খুব বুঝি খারাপ বোলিং করল।’

মোস্তাফিজের খারাপ সময়টাকে তাসকিনের মনে হচ্ছে সাময়িক। কিন্তু একটু গভীরে গেলে বিষয়টা নিয়ে একটা শঙ্কাও যে জাগছে!

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে মোস্তাফিজুর রহমানের ‘স্টক বল’ কাটার দেখতে না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ সরওয়ার ইমরান। তাঁর ধারণা, মোস্তাফিজের বোলিংয়ে কিছু একটা বদলাতে গিয়েই গড়বড় হয়ে যাচ্ছে কাটারে।

মোস্তাফিজের কাটার অনেকটাই কন্ডিশন-নির্ভর। বাংলাদেশ বা উপমহাদেশের উইকেটে সেটা যে রকম হয়, ইংল্যান্ডের উইকেটে সে রকম হয়নি। কিন্তু শুধুই কি উইকেট আর কন্ডিশন? তাঁর কাটারের ধার কমে যাওয়ার আর কোনো কারণ নেই তো!

অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা কিন্তু উইকেটের পাশাপাশি সম্ভাব্য আরও কয়েকটা কারণের কথা বললেন কাল, ‘একটা হতে পারে তার খারাপ সময় যাচ্ছে। এটা সব ক্রিকেটারেরই যায়। অথবা অন্য দলগুলো তার বোলিং খুব ভালোভাবে পড়ে ফেলেছে। আরেকটা হলো ক্যারিয়ারের শুরুতেই ওর চোটে পড়া। হয়তো ভেতরে একটা ভয় কাজ করে। কাটারের পাশাপাশি আরও কিছু বোলিংয়ের অনুশীলন করেছে মোস্তাফিজ। সেটারও একটা প্রভাব পড়ে থাকতে পারে।’

মাশরাফির শেষ কথাটা শুনে মনে হয়, সরওয়ার ইমরানের পর্যবেক্ষণ পুরোপুরি ভুল নয়। দলের একটি সূত্রেও জানা গেছে প্রায় একই রকম তথ্য। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে থেকেই মোস্তাফিজের বোলিংয়ে নতুন কিছু অস্ত্র যোগ করার চেষ্টা করেছেন জাতীয় দলের কোচিং স্টাফরা। বিশেষ করে ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে যেন বল ভেতরে ঢোকাতে পারেন, সেটা।

বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার এই চেষ্টাই মোস্তাফিজের কাটারের ধার কমিয়ে দিচ্ছে—এমন পর্যবেক্ষণ দলের ভেতরেও আছে। বল ভেতরে ঢোকাতে গিয়ে মোস্তাফিজকে উল্টোভাবে কবজি ঘোরাতে হচ্ছে। নেটে কাটারের অনুশীলন কমিয়ে এই অনুশীলনটাই বেশি বেশি করাতে ম্যাচে কাটার দিতে সমস্যায় পড়ছেন তিনি। উইকেটের সাহায্য পেলে তবু কিছু হতো। ইংল্যান্ডে তো সেটাও ছিল না! এ ছাড়া একটা মানসিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে মোস্তাফিজের মধ্যে। নেটে যে বলটা বেশি অনুশীলন করবেন, বোলার ম্যাচে সেটাই বেশি করতে চাইবেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক সদস্যের মন্তব্য, ‘ড্রেসিংরুম থেকে যখন বলে দেওয়া হয়, অমুক ডেলিভারিটা ভালো করে দেওয়ার চেষ্টা করো, তখন বোলারের মনে অদৃশ্য একটা চাপ আসে। সে তখন ওটাই করার চেষ্টা করে। মোস্তাফিজও সেটা করতে গিয়েই (বল ভেতরে ঢোকানো) সমস্যায় পড়েছে। ওর শক্তি কাটার। এই স্টক বল তাকে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হতে সাহায্য করবে। তার উচিত, সেটা ঠিক রেখে অন্য কিছুর চেষ্টা করা।’

শুধু শক্তি নয়, বলা যায় মোস্তাফিজের বোলিংয়ের একমাত্র অস্ত্রই হলো কাটার। কাটার ছাড়া মোস্তাফিজ আর গুলি ছাড়া বন্দুক যেন একই কথা। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে তূণে আরও তির থাকা চাই। মোস্তাফিজের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা কোচরা সে কারণেই করেছেন। কিন্তু নতুন কিছু আরোপ করতে গিয়ে বোলিংয়ের সহজাত গুণ কেন হারিয়ে যাবে? মোস্তাফিজ তা নিতে পারছেন না, নাকি কোচরাই ওষুধটা দিতে পারছেন না ঠিকভাবে?

মাশরাফি সে আলোচনায় না গিয়ে দলের সব বোলারকে দিলেন একটা বার্তা, ‘শুধু মোস্তাফিজের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। এটা ওর ওপর এবং দলের ওপরও চাপ তৈরি করে। এমন তো নয় যে ব্যাটিং উইকেটে অন্য দেশের বোলাররা কেউ ভালো বল করেনি। সত্যি কথা হলো, আমরা দল হিসেবেই ভালো বোলিং করতে পারিনি।’

অধিনায়কের কথায় মোস্তাফিজের ওপর চাপ কি একটু কমল? মাশরাফির পরামর্শ অবশ্য আছে তাঁর জন্যও, ‘খেলার মধ্যে থাকলে অনেক কিছুই বোঝা যায় না। এখন অনেকটা সময় ফাঁকা। ওর উচিত হবে বিষয়টা নিয়ে ভাবা। কোথায় তার সমস্যা, বোলিংয়ে তার আর কী যোগ করা উচিত। নিজের চেয়ে বড় কোচ আর কেউ নেই।’