কেশবপুরের ভান্ডারখোলা সম্মিলনী স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ


314 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কেশবপুরের ভান্ডারখোলা সম্মিলনী স্কুলের সভাপতির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
মে ২৮, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর ::
কেশবপুরের ঐতিহ্যবাহী ভান্ডারখোলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতির রেষারেসিতে প্রতিষ্ঠানটির সকল কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে প্রতিষ্ঠানটি তাঁর ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সাবেক সভাপতি বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে ২টি পদে শিক্ষক নিয়োগের নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ তুলেছে। এ ঘটনায় সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন জেলা শিক্ষা অফিসারসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ভান্ডারখোলা সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছারিতা ও কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে কেশবপুর থানার নাশকতার মামলার আসামী (মামলা নং-৭/১২) ও ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক মশিয়ার রহমানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে যশোর বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- ১২৯/১৬। এ মামলা চলমান থাকাসহ ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ৬ মাস থাকা অবস্থায় ২০১৭ সালের ১২ ফেব্র“য়ারী যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক দপ্তরের স্মারক নং- বিঅ-৬/৬৩৮৪/১৮২৫ ইস্যুকৃতপত্রে ৬ মাসের জন্যে ওই বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠিত হয়। এরপর ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ২ বছরের জন্যে বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আমজাদ হোসেনকে সভাপতি করে পূর্ণাঙ্গ ম্যানেজিং কমিটি গঠন করেন।
বেসরকারি শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ পরিপত্র ও বিধিবিধানের ১০ নং শর্তে উলে¬¬খ রয়েছে, নিয়োগ পরীক্ষা শুরুর পূর্বে ওই নিয়োগের ওপর বা ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রমের ওপর কোন মামলা বা কোর্টের স্থগিতাদেশ আছে কি না তা খোঁজ খবর নেয়া এবং যদি থাকে তাহলে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং তাৎক্ষণিকভাবে জেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা। কিন্ত এ শর্ত উপেক্ষা করে গত ২০১৮ সালের ৪ এপ্রিল ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারি গ্রন্থগারিক পদে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। ইতোমধ্যে অতিগোপনে ওই ২টি পদে নিয়োগ দিতে বিভিন্ন মহলে দেনদরবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ইব্রাহিম হোসেন ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দাবি করে অভিযোগ করেন, তাঁর কমিটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার ৬ মাস আগেই চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন অবৈধ পন্থায় ওই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনীত হন। এরপর তিনি দুটি শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের নামে আট জন প্রার্থীর কাছ থেকে লাখ লাখ টাকার অর্থ বাণিজ্য করে জামায়াত সমর্থিত শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চাকরী পাবার আশায় কেউ মুখ না খুললেও এ ঘটনা এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। যার কারণে তিনি ওই পাতানো নিয়োগ বন্ধের দাবিতে জেলা শিক্ষা অফিসারসহ প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফফার (ভারপ্রাপ্ত) বলেন, সাবেক সভাপতি ইব্রাহিম হোসেনের বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটির ৬ সদস্য অনাস্থা এনে পদত্যাগ করেন। ফলে কোরাম সংকটের কারণে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনকে আহবায়ক করে এডহক কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। সভাপতির নির্দেশক্রমে গত ৪ এপ্রিল তাঁর প্রতিষ্ঠানের দুটি পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এখনও নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। তবে কারও কাছ থেকে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না তা তিনি জানেন না।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, কোন অবৈধপন্থায় নয়, তিনি নির্বাচনের মাধ্যমে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি হয়েছেন। তাছাড়া শিক্ষক নিয়োগে কে না টাকা খায়। তিনি দম্ভের সাথে বলেন, লিখে দেন আমি এক কোটি নয় প্রার্থীদের কাছ থেকে ১২ কোটি টাকা নিয়েছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
##