কেশবপুরে সরকারী খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ !


669 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কেশবপুরে সরকারী খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ !
মে ৩০, ২০১৮ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

* ২০ গ্রামে জলাবদ্ধতা
* শত শত হেক্টর জমি অনাবাদি
* হুমকির মুখে ৬ গ্রামীণ সড়ক

জি কে আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ,কেশবপুর প্রতিনিধি ॥
কেশবপুরের সীমান্তবর্তী ময়নাপুর-সানতলা খাল অবৈধ দখলদাররা দখল করে মাছের ঘের করার ফলে ৩ উপজেলার ২০ গ্রামের জলাবদ্ধতা অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। পানি নিষ্কাশন পথ না থাকায় ওই এলাকার ১০টি বিলের শত শত হেক্টর জমিতে এক যুগ ধরে আউশ, আমন আবাদ বন্ধ রয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে একটি ঈদগাহ, ৩টি শ্মশান ও ৬টি ইটের সোলিং রাস্তা। এলাকাবাসি খালটি দখল মুক্ত করতে একাধিক দপ্তরে আবেদন করেও অদ্যবধি কোন প্রতিকার মেলেনি।
কেশবপুর, মনিরামপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী শ্রী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে একটি খাল ময়নাপুর সানতলা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রায় আড়াই কিলো মিটার দূরে বিল খুকশিয়ায় গিয়ে মিশেছে। কেশবপুরের সানতলা, কিসমতসানতালা, আড়–য়া, কালিচরণপুর, ডুমুরিয়া উপজেলার মান্দ্রা, মনিরামপুরের কুমোরডাঙ্গাসহ ২০ গ্রামের বর্ষার অতিরিক্ত পানি এই খাল দিয়ে শ্রীনদীতে নিষ্কাশন হয়ে থাকে। এ খালের পানি দিয়ে আবাদ হতো ১০/১২ বিলের শত শত হেক্টর জমিতে আউশ, আমন ও বোরো ধান। ২০০৫ সালের দিকে ওই খালে আড়া আড়িভাবে মাটির বাঁধ দিয়ে দখল করে মাছ চাষ শুরু করে ডুমুরিয়া উপজেলার তপন মন্ডল, মান্দ্রা গ্রামের মশিয়ার রহমান, কেশবপুরের তাপস মন্ডল, বারেন্দ্র নাথ মন্ডল, উজ্জ্বল মন্ডলসহ ১০/১২ জন অবৈধ দখলদার। প্রশাসনের দেখভালের অভাবে পর্যায়ক্রমে পুরো খালটিই অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে যায়। সেই থেকে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে ৩ উপজেলার ময়নাপুর, সানতলা, কিসমতসানতলা, কালিচরণপুর, আড়–য়া, কুমোরডাঙ্গা, মান্দ্রাসহ কমপক্ষে ২০ গ্রাম প্রতি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধ থাকে। এ সুযোগে স্থানীয় ধর্ণাঢ্যরা জলাবদ্ধ বিলগুলিতে মাছের ঘের করায় মাছ ধরতে না পেরে শত শত জেলে পরিবার বেকার হয়ে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। বাধ্য হয় তাঁরা পেশা বদলাতে। ওই খালের ৭/৮ জায়গায় মাটির বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ করা হয়েছে।
এলাকার কৃষক কালিপদ সরকার বলেন, এক সময় ওই খালের পানি সেচ দিয়ে ১০/১২টি বিল এলাকার হাজারও কৃষক আউশ, আমন ও বোরো আবাদ করতো। বর্তমান খালটি এলাকার প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারদের দখলে চলে যাওয়ায় বর্ষার অতিরিক্ত পানি ও বিলের পানি ওই খাল দিয়ে নিষ্কাশন হচ্ছে না। এমনকি ওই সব দখলদাররা বোরো মৌসুমে ধান চাষ করতেও খালের পানি ব্যবহার করতে দেয় না। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমে বাড়িঘর প্ল¬াবিত হয়ে মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পেহাতে হয়। বিলগুলিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা দেখা দেয়ায় প্রতি শুষ্ক মৌসুমে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে পানি নিষ্কাশন করে কৃষকদের বোরো আবাদ করতে হয়।
স্থানীয় মেম্বার আলমগীর হোসেন বলেন, ময়নাপুর-সানতলা সরকারি খালে সারা বছর পানি আটকে রাখার কারণে এলাকার একটি ঈদগাহ ও ৩টি শ্মাশান ধসে নষ্ট হয়ে গেছে। ওই খালে বিলীন হয়েছে ৬টি ইটের সোলিং রাস্তা। জনগণের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ক্ষতিগ্রস্থরা প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের বিভন্ন দপ্তরে আবেদন করলেও অদ্যাবধি কোন প্রতিকার মেলেনি। তিনি খালটি উন্মুক্তসহ পুর্নখনন দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সুফলাকাটি ইউপি চেয়ারম্যান মাস্টার আব্দুস সামাদ বলেন, জনস্বার্থে খালটি উন্মুক্ত হোক তা আমিও চাই। প্রয়োজনে প্রশাসনকে সহযোগিতা করে খালটি উন্মুক্ত করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. কবীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, এ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ তিনি পাননি। তাছাড়া ওই খাল কোনো ব্যক্তিকে ইজারা দেয়া হয়নি। অচিরেই সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটি অবমুক্ত করা হবে। #