‘কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আমার ছেলেকে অপহরণ করেছে’


678 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘কৈখালী ইউপি চেয়ারম্যান আমার ছেলেকে অপহরণ করেছে’
ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মাহাবুব ও আশরাফুল আলম  ::
শ্যামনগরের তারানিপুর গ্রামের আবদুল মজিদ তার ছেলেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তার অভিযোগ তার ছেলে ইসরাফিলকে(১৫)অপহরন করে ভারতে অথবা অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এমনকি তাকে জ্বলন্ত ইটভাটায় নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশংকা করছেন তিনি।
আর ছেলে অপহরনের এসব অভিযোগ শ্যামনগরের কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। তবে আবদুর রহিম বলেন তার বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগ মিথ্যা। তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী হবার পর তার প্রতিপক্ষ নির্বাচনে হেরে গিয়ে এধরনের কল্পনাপ্রসূত অভিযোগ আনছেন।
বৃদ্ধ আবদুল মজিদ শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে জানান তিনি একজন বালু শ্রমিক । নদীতে ডুব দিয়ে বালু তুলে তা বিক্রি করেন শ্যামনগরের ভেটখালি এলাকায়। তিনি জানান কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের একটি ইটভাটা আছে ঈশ্বরীপুরে। ওই ভাটার জন্য চেয়ারম্যান তার ম্যানেজার আবদুর রাশেদের  মাধ্যমে প্রতি  ফুট ১৩ টাকা হিসাবে ২৪ হাজার ফুট বালু ক্রয় করেন। ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা মূল্যের  বিপরীতে মাত্র ৫৭ হাজার টাকা দেন তিনি। পাওনা  ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আদায়ের জন্য ২ ফেব্রুয়ারি মজিদ তার ছেলেকে পাঠান ভাটা ম্যানেজার রাশেদের কাছে। কিন্তু টাকা পরিশোধের বদলে ইসরাফিলের মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে মারপিট করে ভাটার মধ্যে আটকে রাখা হয়। তিনি জানান রাত ১০ টায় ছেলের খোঁজে ভাটায় গেলে জানানো হয় তাকে চেয়ারম্যান নিজের মোটর সাইকেলে বাড়িতে নিয়ে গেছেন। চেয়ারম্যানের বাড়িতে গেলে তাকে বলা হয়, তোর ছেলেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেয়াদবি করার সাধ মিটিয়ে দিয়েছি। তাকে আর কখনও এদেশে পাবি না।
বৃদ্ধ আবদুল মজিদ সংবাদ সম্মেলনে জানান ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি পুলিশের আশ্রয় নেন। কিন্তু শ্যামনগর থানা পুলিশ মামলা নিতে চায়নি। নিরুপায় হয়ে তিনি সাতক্ষীরা আমলী আদালত ৫ নম্বরে অভিযোগ দেন। এতে প্রধান আসামি করা হয় কৈখালি ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমকে। অপর সাত আসামি হলেন আবদুর রহমান, আবদুর রাশেদ,হাবিবুর রহমান হাবিব, আবদুল মান্নান, আবু তাহের, রায়হান গাজি ও রফিকুল ইসলাম। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আদালতের নির্দেশে শ্যামনগর থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেছে। ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)মোস্তাফিজুর রহমান জানান মামলাটি তদন্তের জন্য এসআই মাইনুল আহসান কবিরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে চেয়ারম্যান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন আবদুল মজিদ যে অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। নির্বাচনের পর থেকে তাকে হেয় করার জন্য পরাজিত প্রার্থী  তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এ মামলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি জানান বালু ব্যবসায়ী মজিদ তার কাছে কোনো টাকা পাবেন না। তার ছেলেকে অপরনের অভিযোগ মিথ্যা। সাতদিন আগেও তার ছেলেকে তার বাড়িতে দেখা গেছে বলে এলাকার লোকজন তাকে জানিয়েছেন।