সাতক্ষীরা থেকে কোটি টাকা নিয়ে উধাও সেই মাল্টিপারপাসের প্রতারণার নতুন ফাঁদ


337 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা থেকে কোটি টাকা নিয়ে উধাও সেই মাল্টিপারপাসের প্রতারণার নতুন ফাঁদ
অক্টোবর ৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
সাতক্ষীরায় ফাষ্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড ভিক্ষুকসহ একাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েও উধাও হওয়ার পর আবারও তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। শুধু তাই নয় এবার গ্রাহকদের নামে আদালতে মামলা দায়ের করেছে এই প্রতিষ্ঠান। অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে ফাষ্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত হিসেবে কোটি টাকা সংগ্রহ করে ২০১৪ সালের মে মাসে লাপাত্তা হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারও শুরু করেছে সেই ফাস্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার নতুন ফাঁদ। গ্রাহকদের প্রতারণার পরেও বহাল তবিয়তে এসব প্রতারক চক্র। সাতক্ষীরায় বিভিন্ন নামে বেনামে গড়ে উঠেছে এসব কো-অপারেটিভ প্রতারণার কার্যক্রম। কিন্তু হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া অধিকাংশ প্রতারক চক্র রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১০ সালে এ প্রতিষ্ঠাটি যাত্রা শুরু করে। ডিপোজিট ডিপিএস’র নামে অধিক মুনাফার কথা বলে অসংখ্য গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হয় কয়েক লক্ষ টাকা। এক পর্যায়ে  প্রায় ২শ’ গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে তারা লাপাত্তা হয়ে যায়। সূত্রে জানা গেছে, ওই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক রফিকুল ইসলাম ডিপোজিট করে ৮ লক্ষ টাকা, মিজানুর রহমানের কাছ থেকে ডিপোজিটের নামে নেয়া হয় ২ লক্ষ টাকা, আব্দুর রশিদের ১ লক্ষ টাকা, ক্যাপ্টেন বাবু’র ১ লক্ষ টাকা, আব্দুর রহিম নামের আরেক গ্রাহকের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা, চায়ের দোকানী ছালেহা খাতুনের নিকট থেকে ৪ লক্ষ  ৩৫ হাজার টাকা, ভিক্ষুক সায়েরা বিবি’র কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা। এভাবে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা জানান, অধিক মুনাফার কথা বলে আমাদের কে ওই প্রতিষ্ঠানে একাউন্ট করায়। আমরা সেই আশায় আমাদের সর্বস্ব জমা রাখি।  প্রথমে শহরের মিনি মার্কেটে অফিস খুলে বসে। এর পরে নারিকেলতলা মোড়ে সাইন বোর্ড তুলে এই প্রতিষ্ঠানটি  গ্রাহকদের নানাভাবে হয়রানী ও প্রতারনার ফাঁদ শুরু করে। পরবর্তীতে খুলনা রোড মোড় নাফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিচ তলায় চলে যায়। ২০১৪ সালে মে মাসে এই প্রতিষ্ঠানটি হঠাৎ সেখান থেকে লাপাত্তা হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে নতুনভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ডাঃ ওমর ফারুক কাটিয়া টাউন বাজার সংলগ্ন শাহী মসজিদের পাশে তার হোমিও প্যাথিক চেম্বার বিসমিল্লা ক্লিনিকের উপর প্রতিষ্ঠানের সাইন বোর্ড খাটিয়ে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের মে মাসে প্রতিষ্ঠান বন্ধ  হয়ে গেলে গা বাঁচাতে ফাষ্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এস.এম শরিফ-উজ-জামান রুমি কোন রেজুলেশন ছাড়াই স্থানীয় একটি পত্রিকায় অব্যাহতি জানান।
শহরের হাসিনা পল্লী ফোনের মালিক গ্রাহক আব্দুর রশিদ ও আর এক গ্রাহক  সায়রা বিবি জানান, চেয়ারম্যান এস.এম শরিফ-উজ-জামান রুমির স্বাক্ষরে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। তার স্বাক্ষরিত চেক আমাদের কাছে রয়েছে। ভিক্ষুকসহ গ্রাহকদের আতœসাৎকৃত টাকায় তৈরী হয়েছে বেতনা ট্রেডার্স এমন দাবী করেছেন গ্রাহকরা। হতাশাগ্রস্থ হয়ে চেয়ারম্যান এস.এম শরিফ-উজ-জামান রুমির স্বরনাপন্ন হন গ্রাহকরা। তিনি গ্রহকদের আশ্বস্ত করে বলেন ম্যানেজার ডাঃ ওমর ফারুক আসলে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। কিন্তু টাকা ফেরত পাওয়া তো দুরের কথা উল্টো গ্রাহকদের নামে এই প্রতিষ্ঠানটি সাতক্ষীরার বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭/১১৭(গ) ধারায় মামলা করেছে। যার নং ৮২৫/১৬ (সাত)। এ সব ঘটনায় ফাস্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহরের মুনজিতপুর এলাকার ছালামত উল্লাহর ছেলে এস.এম. শরিফ উজ-জামান রুমির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ম্যানেজার ডাঃ ওমর ফারুকের সাথে আমার অনেকদিন যোগাযোগ নেই। তার সাথে যোগাযোগ হলে শুনে দেখবো কেন গ্রাহকদের নামে মামলা করেছে। এখন ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নাই। প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার ডাঃ ওমর ফারুক টাকা তোলাসহ সব কিছুই দেখাশুনা করতো। কিন্তু আমার কাছে কোন হিসাব-নিকাশ দিত না। এ ব্যাপারে ম্যানেজার ডাঃ ওমর ফারুকের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
চলতি বছরের ১লা জুলাই সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর ছালেহা খাতুন বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করে। স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এস.আই দেলোয়ার সদর থানায় ফাষ্ট মাল্টিপারপাস কো- অপারেটিভ সোসাইটির ম্যানেজার ডাঃ ওমর ফারুক কে নিয়ে গ্রাহকদের  টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে সে বিষয়ে আলোচনায় বসেন। আলোচনায় ম্যানেজার গ্রাহকদের টাকা পরিশোধের জন্য তিন দিন সময় চেয়ে নেয়। এর পর থেকে সে লাপাত্তা হয়ে গেছে। লাপাত্তার ২ মাস পর গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ২৭.০৯.১৬ তারিখে মামলা করে ম্যানেজার ডাঃ ওমর ফারুক। এদিকে ওই মাল্টিপারপাসের গ্রাহক ভিক্ষুক সায়েরা বিবি সাংবাদিকদের জানায়, সারা জীবন ভিক্ষা করে অনেক কষ্টে ৮০ হাজার টাকা জমিয়েছি। সেই টাকা আমি ওখানে জমা রাখি। এখন তারা পালাইছে। এখন শেষ বয়সে আমার কি হবে বাপ?  তোমরা আমার টাকার ব্যবস্থা করে দাও। তা নইলে আমি মরে যাব। অন্যান্য গ্রাহকরা  আরো জানায়, ওই মাল্টিপারপাসের চেয়ারম্যান এস.এম শরিফ-উজ জামান রুমি, ম্যানেজার শহরের কাটিয়া এলাকার সামছুর রহমানের ছেলে ডাঃ ওমর ফারুক ও  শেখ ফারুক আহমেদ বাবলু মূলত এই তিন জন মিলে প্রতারণার জাল বিছিয়ে  গ্রাহকদের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সচেতন মহলের দাবী ফাষ্ট মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের প্রতারণার নতুন ফঁদে যেন সাধারণ মানুষ না পড়ে। এ জন্য এ ধরনের প্রতারক চক্রদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।