‘কোমেন’ বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে


340 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘কোমেন’ বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে
জুলাই ৩০, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
‘কোমেন’ আজ বৃহস্পতিবার দুপুর বা বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এ পূর্বাভাস দিয়েছে। এরই মধ্যে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সকাল নয়টার বার্তায় বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ওই সময় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০৫ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দুপুর বা বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
‘কোমেন’ এর অগ্রভাগ গতকাল বুধবার মধ্যরাতেই কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ উপকূলে আঘাত হেনে উত্তর-পূর্ব দিকে চট্টগ্রাম উপকূলের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এতে সেন্ট মার্টিনে গাছচাপায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় কক্সবাজার উপকূলের বাসিন্দারা। ছবি: প্রথম আলো
এরই মধ্যে কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া ও, পেকুয়াসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫-৬ হাজার লোককে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আমাদের মহেশখালী প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকে উপজেলার উপকূলীয় দ্বীপ দর ঘাট, মাতার বাড়ি ও, সোনাদিয়ার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে। দর ঘাটের অনেকে পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল নাসের বলেন, ১২৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এরই মধ্যে অনেককে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
আমাদের পটুয়াখালী অফিস থেকে জানানো হয়েছে, পটুয়াখালীতে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে এবং সেখানে দমকা বাতাস বইছে। পটুয়াখালী নদীবন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ নৌপথে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলো গভীর সাগর থেকে উপকূলে ফিরে আসছে। মহিপুর মৎস্য বন্দরের আড়ত মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র দাস জানান, ইতিমধ্যে অন্তত এক হাজার মাছ ধরার ট্রলার মহিপুর, আলপির, ফাতরা ও গঙ্গামতিসহ বিভিন্ন চ্যানেলে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফসিউর রহমান বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পর্যটকেরা যাতে সাগরে নামা থেকে বিরত থাকেন সে জন্য হ্যান্ডমাইক দিয়ে ঘোষণা চালিয়ে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য মাইকিং শুনে বাড়ির শিশুদের সবার আগে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাচ্ছেন অভিভাবকেরা। ছবিটি কক্সবাজার থেকে তোলা। ছবি: প্রথম আলো
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড় সম্পর্কিত একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে প্রশাসনের সহায়তার সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য জেলার ৩৪১টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ও গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম ছাড়াও নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা এবং এসব এলাকার অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চলে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে তিন থেকে ৬ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে।
সূত্র – প্রথম আলো