ক্যাচ মিসে বাংলাদেশের হতাশার হার


115 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ক্যাচ মিসে বাংলাদেশের হতাশার হার
অক্টোবর ২৪, ২০২১ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ধুঁকতে ধুঁকতে বিশ্বকাপের মূলপর্বে এসে প্রথম ম্যাচেই হারের স্বাদ নিতে হলো টাইগাররা। সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেটে হারলো মাহমুদউল্লাহরা। লঙ্কানদের বিপক্ষে এই হার বাংলাদেশের ক্যাচ মিসের মাশুল। ওপেনার লিটন দাসের কল্যাণে দুইবার ১৪ ও ২৩ রানে ক্যাচ তুলে দিয়ে লাইফ পাওয়া ভানুকা রাজাপক্ষ শেষ পর্যন্ত খেলেন ৩১ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো ইনিংস। ১৪ রানে আফিফের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে প্রথমবার। আর ২৩ রানে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে দ্বিতীয় দফায় লিটনের কল্যাণে লাইফ পান রাজাপক্ষ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যাচ মিস করায় ম্যাচে আর ফেরা হয়নি বাংলাদেশের। টাইগারদের এই দুর্বলতাকে পুঁজি করে দাপটের সঙ্গেই ম্যাচ জয় নিশ্চিত করে শ্রীলংকা।

বাংলাদেশের দেয়া ১৭২ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে নাসুম আহমেদের ডেলিভারিতে ফেরেন কুশল পেরেরা। এতে বিশ্বকাপ অভিষেকেই উইকেট নিয়ে স্মরণীয় করেন বাংলাদেশি স্পিনার।

এক উইকেট হারিয়েই আসালাঙ্কা ও নিশাঙ্কার ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কা। এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে লঙ্কানদের রান ১ উইকেটে ৫৪। এই সময়ে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ৪২ রান করেছিল। এরপর থেকেই ঝড় তুলেন আসালাঙ্কা, নিশাঙ্কাও কম যান না। লঙ্কানদের এমন কার্যকরী ব্যাটিংয়ে একটা সময় বেশ অস্বস্তিতে ছিল বাংলাদেশ।

নবম ওভারের প্রথম বলে নিশাঙ্কাকে ফিরিয়ে স্বস্তি ফেরান সাকিব। তাকে ফিরিয়ে ৪৫ বলে ৬৯ রানের জুটি ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার। ২১ বলে ২৪ রান করে সাকিবের কাছে বোল্ড হন নিশানকা। চতুর্থ বলে আভিষ্কা ফার্নান্ডোকে বোল্ড করেন সাকিব।

সাকিবের জোড়া আঘাতের পরের ওভারে শ্রীলঙ্কার চার নম্বর উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ছয় রানে ফেরান এই পেসার।

৭৯ রানে চতুর্থ উইকেট হারানোর পর বেশ চাপেই পড়েছিল লঙ্কানরা। কিন্তু পঞ্চম উইকেট জুটিতে ভানুকা রাজাপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আসালাঙ্কা ৮৬ রানের জুটি গড়লে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ৩১ বলে ৫৩ রান তুলে আউট হন রাজাপক্ষে। এরপর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়েন আসালাঙ্কা। ৪৯ বলে ৮০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এছাড়া ১ রানে মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক দাসুন শানাকা।

এর আগে বিশ্বকাপ সুপার টুয়েলভের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নাঈম শেখ ও লিটন দাসের ফিফটিতে চার উইকেটে ১৭১ রান করে টাইগাররা। নাঈম ৬২ ও মুশফিক ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

শারজায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ধীরগতিতে শুরু করে টাইগার দুই ওপেনার। পাওয়ারপ্লে শেষ হবার আগের বলে লিটনকে হারায় বাংলাদেশ। লিটন ফিরেছেন ১৬ বলে ১৬ রান করেই। পাওয়ারপ্লেতে বাংলাদেশ তুলেছে ১ উইকেটে ৪১ রান। সর্বশেষ ৭ ম্যাচে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি এটিই।

তিন নাম্বারে নেমেই চার দিয়ে শুরু করেন সাকিব। তবে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। দলীয় ৫৬ রানে করুনারত্নে পান বাংলাদেশ ইনিংসের সবচেয়ে বড় উইকেটটা। ৭ বলে ১০ রান করে ফেরেন সাকিব।

দ্রুত লিটন ও সাকিবকে হারানোর ধাক্কা সামলে নেয় বাংলাদেশ। ওপেনার নাঈম শেখ ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম সামাল দেন দলকে। নাঈম শেখ তুলে নেন টুর্নামেন্টে তার দ্বিতীয় ফিফটি। ৪৪ বলে ফিফটি তুলেন নাঈম। তবে ফিফটির পর ইনিংস বড় করতে পারেননি নাঈম। ১৭তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন তিনি। ৫২ বলে ৬২ রান করে বিদায় নেন টাইগার এই ওপেনার। নাঈমের এই ইনিংসটি ৬টি চারে সাজানো। এরপর ব্যাট করতে নেমে ৭ রান করতে পেরেছেন আফিফ।

নাঈম ফিরলেও আক্রমণাত্নক ব্যাটিংয়ে কুড়ি ওভারের বিশ্বকাপে প্রথম ফিফটি তুলে নেন মুশফিক। কুমারার বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুশফিকের এটি ২৯তম ম্যাচ।এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুশফিকের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ৪৭, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের এটি ষষ্ঠ ফিফটি।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে মুশফিক খেলে যান শেষ পর্যন্ত। ৩৭ বলে ৫টি চার এবং দুটি ছক্কার সুবাদে অপরাজিত থাকেন ৫৭ রানে। আর ৫ বলে ১০ রানে মাঠ ছাড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

শ্রীলঙ্কার হয়ে বল হাতে একটি করে উইকেট পান করুনারত্নে, কুমারা ও ফার্নান্ডো।

শ্রীলঙ্কা একাদশ:

কুশল পেরেরা, পাথুম নিসাঙ্কা, চরিত আসালাঙ্কা, আভিস্কা ফার্নান্ডো, ভানুকা রাজাপক্ষে, দাশুন শানাকা (অধিনায়ক), ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, চামিকা করুনারত্নে, দুষ্মন্ত চামিরা, লাহিরু কুমারা, বিনুরা ফার্নান্ডো

বাংলাদেশ একাদশ:

লিটন দাস, মোহাম্মদ নাঈম, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান, মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাসুম আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান।