কয়রার উত্তর বেদকাশী আবারও প্লাবিত


147 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কয়রার উত্তর বেদকাশী আবারও প্লাবিত
ডিসেম্বর ৫, ২০২১ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মনিরুজ্জামান মনু ::

শাকবড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে খুলনার কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতিরঘেরী ও হরিহরপুর গ্রাম আবারও প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দুই গ্রামের দুই’শ পরিবার। ঠিকাদারের গাফিলতিতে এ অবস্থারহার সৃষ্টি হয়েছে অভিযোগ পানিবন্দি পারিবারের। পানিবন্দি পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে,বঙ্গবসাগরের সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শাকবাড়িয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পায়। নদীতে প্রবল স্রোত ও স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শনিবার রাতে হরিহারপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ পুনরায় ভেঙ্গে যায়।চলতি বছরের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে একই স্থানে ভেঙ্গে যায়।স্থানীয় মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে ভেঙ্গে যাওয়া পয়েন্টটি বাধতে সক্ষম হন।ওই স্থানের বেড়িবাঁধ নির্মানের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার যথাসময়ে সঠিক ভাবে বাঁধ নির্মান না করায় আবার ভেঙ্গে গেলো। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন (বোর্ড বিভাগ-২) সূত্রে জানা গেছে,জরুরী ভিত্তিতে খুলনার কয়রা উপজেলার পোল্ডার ১৪/১ এর হরিপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশ থেকে ৪১০ মিটার পর্যন্ত টিউব দ্বারা রিং বাঁধ ও মাটি দিয়ে স্লোাপ নির্মান কাজের জন্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মেসার্স জিয়াউল ট্রেডার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। গাতিরঘেরী গ্রামের গনেশ গাইন বলেন,ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের পর প্রায় পাঁচ মাস পানিবন্দি ছিলাম।মাসখানেক আগে বাঁধ হওয়ায় মনে করেছিলাম বিধাতা হয়তো আমাদের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছেন।কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতিতে আবারও বাঁধ ভেঙ্গে আমরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। জানিনা এদশা থেকে আবার কবে মুক্ত হবো। হরিহরপুর গ্রামের সিতা মন্ডল বলেন,ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে ঘরবাড়ী ভেঙ্গে গেয়েছিল। ছয়মাস ধরে খুপড়ি ঘরে পরিবার পরিজন নিয়ে বাস করেছি।বাঁধ হওয়ায় নতুন করে ঘর তৈরী করার স্বপ্ন দেখছিলাম। কিন্তু সেটা দুঃস্বপ্ন থেকে গেলো। আবরও পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম বলেন,হরিহরপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশে অবদার কাজটি মুল ঠিকাদারের কাছ থেকে কালাম নামে এক লেবার শ্রমিক সাব কন্টাক্টে কিনে করছিল। টিউবে বালি ভরে রিং বাঁধ দিয়েছিল।কিন্তু মাটি দিয়ে স্লোাপের কাজ না করে চলে যায়।টিউবের তল দিয়ে পানি লিকেজ হওয়ায় রিং বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ-২) উপ-সহকারী প্রকৌশল মশিউল আবেদিন বলেন,ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শাকবাড়িয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিহরপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে যায়।ওই স্থানে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া আছে। দ্রুত সময়ের মধ্য ওই এলাকার মানুষকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা যাবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন,শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গাতিরঘেরী ও হরিহরপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।পানিবন্দি মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা ও কম্বল দেওয়া হয়েছে।