কয়রায় অবিরাম বর্ষনে রোপা আমন,বীজতলা ও মৎস্য ঘের প্লাবিত


709 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কয়রায় অবিরাম বর্ষনে রোপা আমন,বীজতলা ও মৎস্য ঘের প্লাবিত
আগস্ট ২১, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মনিরুজ্জামান মনু,কয়রা :
সপ্তাহ যেতে না যেতেই আবারও প্রবল বর্ষন কয়রার মানুষের মরা ওপরে খাঁড়াড় ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। শনিবার মধ্যে রাত থেকে কয়রা উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে অবিরাম বর্ষনে নিম্ম এলাকা প্লাবিত হয়ে জনজীবন বির্পযস্ত হয়ে পড়েছে।সেই সাথে মাছের ঘের, আমন ফসলের বীজতলা ও রোপনকৃত ধান ক্ষেত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। শত শত ঘরবাড়ি জলমগ্ন হয়ে যাওয়ায় জনজীবনে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। খেটে খাওয়া অসহায় মানূষ কাজ করতে না পারায় দর্বিসহ জীবন যাপন করছে।

এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা গেছে,একাধিক স্থানে পাউবো বেড়ী বাঁধে ফাটল লেগেছে, তবে ৩’টি পয়েন্টে বাাঁধের অবস্থা মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছিল বেশ আগে থেকে। শনিবার মধ্যে রাত থেকে একাটানা প্রবল বৃষ্টিপাত হওয়ায় উপজেলার সকল ইউনিয়নের মৎস্য ঘের ও আমন ধানের বীজতলা পানিতে তলিয়ে গেছে। রবিবার সারাদিন এক টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। ফলে সকল ইউনিয়নে বিশেষ করে আমাদী,বাগালী,মহেশ্বরীপুর,মহারাজপুর,কয়রা সদর,উত্তর বেদকাশি,দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের  শত শত কাচা ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত বা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এসব স্থানের বাসিন্দারা চরম বিপাকে রয়েছে। ৭ টি ইউনিয়নের অধিকাংশ চাষীরা তাদের আমন ধান চাষের জন্য তৈরিকৃত বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রব্যর্মূল্যের বাজারে হাজার হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরিকৃত বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রমে তারা ধান চাষ নিয়ে সংশয় গ্রস্ত হয়ে পড়েছে কৃষকরা। অনেক চাষী ইতিমধ্যে ধান রোয়ার কাজও করেছে। যা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পচে নষ্ট হতে পারে ভেবে হতাশ হয়ে পড়েছে।

উপজেলার হাজার হাজার একর মৎস্য ঘের প্রবল বৃষ্টিপাতে একাকার হয়ে যাওয়ায় মৎস্য চাষীরা রয়েছে চরম বিপাকে। উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিলে জাল নিয়ে সাধারন মানুষকে মাছ ধরার লড়াইয়ে নামতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ঘেরের মধ্যে সাবু দানা জালিয়ে, চিড়া, চিনি ঢেলে মাছ ধরে রাখার প্রয়াস চালাচ্ছে। এদিকে মঠবাড়ীড় পবনা ও উত্তর বেদকাশির হরিহররপুর ও গাজি পাড়াড় বেড়ী বাঁধে ফাটল দেখা  দেওয়ায় এলাকার মানষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে আছে। এ ছাড়া  ৫নং কয়রা,দশহালিয়া,পাথরখালী,খাশিটানা,আংটিহারা,জোড়শিং,মাটিয়ভাঙ্গা ,গোবরা, হরিনখোলা,ঘাটাখালী বেড়ি বাধের অবস্থা খুবই ঝুকিপুর্ন অবস্থায় রয়েছে। এ সকল এলাকার সাধারন মানূষ ভাঙ্গন আতংকে নিঘুম রাত কাটাচ্ছে। অন্যদিকে টানা বষর্নে  সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসার এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, অবিরাম বর্ষনের ফলে অধিকাংশ মৎস্য ঘের পানিতে তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার এস এম মিজান মাহমুদ বলেন বীজ তলা ও রোপা আমন পানিতে তলিয়ে থাকায় ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা চেয়ারম্যান  আখম তমিজ উদ্দিন বলেন,অবিরাম বর্ষনে আমন চাষের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে এছাড়া মৎস্য ঘেরের মাছের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক সে গুলোর ক্ষয় ক্ষতির পরিমান নিরুপন করা হচ্ছে। পাউবোর শেকসান কর্মকতা মোঃ খায়রুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও  তাকে পাওয়া যায়নি।