কয়রায় চড়া দামে আমনের বীজ বিক্রি : কর্তৃপক্ষ নীরব


570 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কয়রায় চড়া দামে আমনের বীজ বিক্রি : কর্তৃপক্ষ নীরব
জুলাই ৮, ২০১৭ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি ::
খুলনার কয়রায় ধানের ডিলার ও সাব ডিলারের দোকানগুলোয় চড়া মূল্যে রোপা আমনের বীজ বিক্রয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১০ কেজি বীজ ধানের প্যাকেটের গায়ে বিএডিসি কর্তৃক সীলযুক্ত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন টাকা বেশী নেওয়া হচ্ছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। উচ্চ মূল্যে আমনের বীজ বিক্রি হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। ২নং কয়রা গ্রামের কৃষক গ্লোব গাজী কয়রা সদরের ডিলার কয়রা এন্টারপ্রাইজে ভিত্তি ৪৯ ধানের বীজ কিনতে গেলে এক প্যাকেটের দাম ৬৫০ টাকা চাওয়ায় ধান না কিনে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। ১নং কয়রা গ্রামের কৃষক মামুন জানায়, কয়রা সদরের ডিলার মেসার্স ভাই ভাই বাণিজ্য ভান্ডার থেকে ২ বস্তা ভিত্তি বীজ-৩০ ধান ১১শ টাকায় কিনেছি। ৫নং কয়রা গ্রামের কৃষক সঞ্জিত মন্ডল জানায়, উত্তর বেদকাশির বতুল বাজারে পুস্পনের দোকানে ভিত্তি ১০ ধান কিনতে গেলে তার কাছ থেকে ৬৫০ টাকা নেয়া হয়েছে। কয়রা সদরের সাব ডিলার সততা এন্টারপ্রাইজ, কয়রা এন্টারপ্রাইজ, রিয়া ষ্টোর, ঝিলিয়াঘাটা বাজারের রায় ষ্টোর, উত্তর বেদকাশির বতুল বাজারের মেসার্স পুস্পেন অধিকারী, বড়বাড়ি বাজারে মাসুদ ষ্টোর, আনিস ষ্টোর, কাছারিবাড়ি বাজারে পলাশ অধিকারী, প্রভাষ অধিকারী, কাঠমারচরের আরশাদ ষ্টোর, দক্ষিন বেদকাশির জোড়শিং বাজারে লিপি ষ্টোর, ঘড়িলাল বাজারে ২টি সারের দোকান, মহারাজপুরের আযাদ ষ্টোর সহ বাগালী ও আমাদী ইউনিয়নে উচ্চ মূল্যে আমনের বীজ বিক্রি হতে দেখা যায়।
এদিকে, উত্তর বেদকাশির কাছারিবাড়ি বাজারের সাব ডিলার প্রভাষের দোকানে ৭৫০ টাকা দরে ভিত্তি ৪৯, ভিত্তি ২৩ ধান সহ অন্যান্য প্রজাতির বীজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। সরকারি মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন দাম কেন নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রভাষ মন্ডল বলেন, পাইকগাছার গজালিয়ার ডিলার মেসার্স লাভলু ষ্টোর থেকে বীজ কিনতে তাদের সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অধিক দামে ক্রয় করতে হচ্ছে। কয়রা সদরের ডিলার রেজাউল করিম বলেন, খুলনায় বিএডিসি’র অফিস থেকে বীজ ধান নিতে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী নেয়া হয়। সে কারনে কৃষকের কাছে বেশী দামে বীজ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। ডিলাররা আরো জানায় বিএডিসি থেকে চাহিদার তুলনায় কম বীজ সরবরাহ করা হয়। তাই বাধ্য হয়ে বিভিন্ন মজুদদার কোম্পানির কাছ থেকে বেশী দামে বীজ ক্রয় করায় আমাদেরও বেশী দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় ব্যবসায়ীরা হরহামেসে বীজের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।  উপজেলা কৃষি অফিসার  এস এম মিজান মাহমুদ বলেন, ডিলাররা বীজের দাম বেশী নিচ্ছে এ ধরনের কথা শুনেছি তবে তা নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে বিএডিসি’র খুলনাঞ্চলের বীজ বিপননের উপ-পরিচালক মোঃ লিয়াকত আলী বলেন, বিএডিসি থেকে ডিলারদের কাছে সরবরাহকৃত বীজ ধানের দাম বেশী নেয়া হয় না। বরং ডিলারদের ৪ শতাংশ হারে কমিশন প্রদান করা হয়। তারপর ডিলাররা কৃষকদের কাছ থেকে বীজের দাম কেন বেশী নিচ্ছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানান।