কয়রায় পাউবোর কার্যালয় বখাটেদের দখলে : কর্মকর্তারা অফিসে আসেন না দুই বছর !


282 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কয়রায় পাউবোর  কার্যালয় বখাটেদের দখলে : কর্মকর্তারা অফিসে আসেন না দুই বছর !
অক্টোবর ৭, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কয়রা প্রতিনিধি :

পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা-২ বিভাগের আওতাধীন খুলনার কয়রায় আমাদী  জায়গীরমহলে অবস্থিত উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দুই বছর ধরে অফিসে আসতে দেখা যায়নি। ফলে সার্বক্ষণিক তালাবদ্ধ থাকার কারণে অফিসটি পরিত্যক্ত ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে।দিনরাত সেখানে পরিনত হয়েছে বখাটেদের আড্ডাখানায় । দেখাশুনার  অভাবে ভেতরের আসবাব পত্র সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নষ্ট হচ্ছে। কর্মকর্তাদের যাতায়াতে ব্যবহৃত স্পিডবোটটি বিকল অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এর যন্ত্রাংশও খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। এ ছাড়া অফিসের কাজে ব্যবহৃত সরকারি মোটরসাইকেলটিরও কোনো হদিস নেই। অনেক সম্পদ এখন পাউবোর হাতছাড়া হতে চলেছে । সরকারি এ সম্পদ রক্ষায় কতৃপক্ষের জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত দু’বছরের মধ্যে পাউবোর কোন কর্মকর্তা কর্মচারীদের অফিসের তালা খুলতে দেখা যায়নি ।স্থানীয় সমাজ সেবক সরদার জহুরুর ইসলাম বলেন, কয়েক বছর আগে এ অফিসে মাঝে মধ্যে পাউবোর কর্মকর্তারা আসতেন। তখন এখানে লোকজনের আনাগোনাও ছিল। কিন্তু এখন লোকজন না থাকায় অফিসটি ভুতুড়ে বাড়িতে পরিনত হযেছে। তাছাড়া কোন তদরকি না থাকায় অনেক মালামাল লোকে নিয়ে  যাচ্ছে।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলায় পাউবোর কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর অফিসটি স্থাপন করা হয়। সেখানে একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই), তিনজন উপসহকারী প্রকৌশলী (সেকশন অফিসার), চারজন কার্য-সহকারীসহ মোট ১০ জন লোকবল থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে অফিসটিতে একজন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, একজন সেকশন অফিসার ও দু’জন কার্য-সহকারী কর্মরত। কিন্তু তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে সাতক্ষীরা জেলা শহরে বাস করেন। কর্মস্থলে না এসেও তারা সেখান থেকেই বেতন-ভাতাসহ সরকারি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।  পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে অফিসটির অবকাঠামো নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানে অফিস করার উপযোগী পরিবেশ নেই। তাই সাতক্ষীরা থেকেই সব কিছু দেখভাল করা হচ্ছে। তবে সব কাজ তদারকির জন্য একজন উপসহকারী প্রকৌশলী ও দু’জন কার্য-সহকারী সার্বক্ষণিকভাবে কর্মস্থলে রয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষের অভিযোগ, কর্মস্থলে না এসেও সরকারি সুবিধা ভোগ করছেন তারা। অথচ কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে অরক্ষিত বেড়িবাঁধগুলো নিয়মিত ভাঙনের কবলে পড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে।
কয়রা  উপজেলা  চেয়ারম্যান আখম তমিজ উদ্দিন বলেন, যে কোনো কাজে তাদের সাতক্ষীরা থেকে খবর দিয়ে আনতে হয়। তারা তাদের দায়িত্বের প্রতি একেবারেই উদাসীন। বিষয়টি নিয়ে জেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা হয়েছে বলে তিনি প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
পাউবো সাতক্ষীরা-২ বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী অপূর্ব কুমার ভৌমিক বলেন, দু’বছর ধরে অফিসে কেউ যায় না, বিষয়টি সঠিক নয়। তারা বাইরে থাকলেও নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াত করেন বলে জানি। তবে বিষয়টি তদন্ত  করে দেখা হবে।