কয়রায় মদিনাবাদ মডেল প্রাথমিক স্কুলে শ্রেনী কক্ষের সংকট


422 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কয়রায় মদিনাবাদ মডেল প্রাথমিক স্কুলে শ্রেনী কক্ষের সংকট
আগস্ট ৪, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মনিরুজ্জামান মনু,কয়রা :
কয়রা উপজেলা সদরের অবস্থিত মদিনাবাদ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় সাতশ’শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৪টি শ্রেনীকক্ষ রয়েছে। উপজেলা শিক্ষক সমিতির ঘরে এবং রিসোর্স সেন্টারের ঘরে চলছে পাঠদান। শ্রেনী কক্ষ সংকটের কারনে ছোট ছোট বেঞ্চে ৪/৫ জন করে শিক্ষার্র্থীর একত্রে হয়ে কোনঠাশার মধ্যে দিয়ে পাঠ দান গ্রহন করতে হচ্ছে।এতে করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট সহ পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।

মদিনাবাদ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি কয়রা উপজেলার একমাত্র মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় হলেও বরাবরই স্কুলটির শ্রেনীকক্ষ সংকট বিদ্যমান। দির্ঘদিন যাবৎ জীর্নশীর্ন টিনশেটের একটি ঘরে পাঠদান চলাকালে সেটি ভেঙে ২০০৬ সালে দুই কক্ষ বিশিষ্ট ১টি সাইক্লোন শেল্টার-কাম প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মিত হয়।এ ভবনের দুটি কক্ষেই চতুর্থ শ্রেনীর ১৫০ জন শিক্ষার্থী ঠাসা-টাসি করে পাঠ গ্রহন করতে দেখা যায়। শ্রেনী কক্ষ সংকটের কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজ উদ্যোগে ভবনটির নিচ তলার ফাকা জায়গায় কাঠের রেলিং করে ৩টি কক্ষ তৈরি করে ১টি কক্ষে প্রথম শ্রেনীর ৮০ জন এবং দ্বিতীয় শ্রেনীর ১০২ জন এবং ৫ম শ্রেনীর ১টি শাখার ৪০ জন শিক্ষার্থী ঠাসাঠাসী করে পাট গ্রহন করছে।কক্ষগুলি আবার খুবই জীর্ন শীর্ন বৃষ্টি এলেই রেলিং এর ফাকা দিয়ে বৃষ্টির পানি এসে বই-খাতা ভিজে যায়।বিদ্যালয়টির পূর্ব পার্শে ৩ কক্ষ বিশিষ্ট একটি পুরাতন ভবনে পাঠদানে ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় সেটি ছেড়ে দিয়ে বর্তমােেনউপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির ঘরে পাঠদান চলছে।শিক্ষকদের অফিস কক্ষ এবং শ্রেনীকক্ষ সংকটের কারনে ২০০৩ সালে আইডিয়াল প্রকল্পের আওতায় ৩ কক্ষ বিশিষ্ট ১টি ১তলা ভবন নির্মিত হয় এর ১টিতে অফিস কক্ষ অন্য দুটিতে ৫ম শ্রেনীর ১৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছে সেখানেও ঠাসাটাসি অবস্থা। বাধ্য হয়ে স্কুল কমপাউন্ডের মধ্যে নির্মিত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির টিনসেটের ১টি কক্ষে ৩য় শ্রেনীর ১২৫ জন শিক্ষার্থী ক্লাস করছে।এছাড়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের একটি কক্ষ চেয়ে নিয়ে সেখানে প্রাক প্রাথমিকের ৪৮ জন শিশুকে ক্লাস করানো হচ্ছে।যে কোন মুহুর্তে শিক্ষক সমিতি এবং রিসোর্স সেন্টার তাদের কার্যালয় নিয়ে নিলে ৩য় এবং প্রাক প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠ গ্রহনের জায়গা থাকবেনা বলে জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সুত্রে মতে এই বিদ্যালয়টি ২০০৯ সাল থেকে অদ্যবধি প্রতিবছর ১০/১৫ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি লাভ করে থাকে।কয়েকবার খুলনা জেলার শ্রেষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসাবেও নির্বাচিত হয়েছে।প্রাথমিক সমাপনি পরীক্ষায় প্রতিবছর পাশের হার ১০০%।বিদ্যালয়ের সাতশ’কোমলমতি শিক্ষার্থীকে ১২টি শাখায় পাঠাদান করতে ১৩ জন শিক্ষক ও ১জন কর্মচারী হিমশিম খেয়ে ওঠে।এত সমাস্যার মাঝেও বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টে বিদ্যালয়টি প্রায় প্রতিবছর উপজেলার শ্রেষ্ট সহ জেলা পর্যায়ে কয়েকবার রানার্স আপ হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তফা শহিদ সরোয়ার জানান, দির্ঘদিন যাবৎ শ্রেনী কক্ষ সংকটের কারনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এতে করে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শ্রেনীকক্ষ সংকটের কারনে শিক্ষক সমিতিরে একটি কক্ষ এবং রিসোর্স সেন্টারের একটি কক্ষ চেয়ে নিয়ে আপাতত সেখানে প্রায় দুই শতাধীক শিক্ষার্থীর পাঠ দান করানো হচ্ছে। এমুহুর্তে শ্রেনী কক্ষ সংকট দুর করে শিক্ষার পরিবেশ ফেরাতে নুতুন ভবন নির্মান সহ পুরাতন ভবন সংষ্কার করা জরুরী বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন শ্রেনীকক্ষ সংকটের বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায় জানানোর পাশাপাশি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আকবার হোসেন বলেন মদিনাবাদ মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যাক্ত টিনসেটের ঘরটি মেরামতের জন্য চেষ্ঠা চলছে। তা ছাড়া ঐ ঘরটি মেরামত করা হলে আপাতত শ্রেনীকক্ষ সংকট থাকবেনা বলে তিনি জানান। খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার পারভিন জাহান বলেন এ বিষয়টি আমার জানা নেই তবে জেলার যে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেনী কক্ষ সংকট রয়েছে সে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মানের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবর লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।