কয়রায় ৬ স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে লোনা পানিতে সয়লাব ৩০ গ্রাম


74 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কয়রায় ৬ স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে লোনা পানিতে সয়লাব ৩০ গ্রাম
মে ২১, ২০২০ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কয়রা প্রতিনিধি ::

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে জলোচ্ছ্বাসের মতো পানির তোড়ে খুলনার কয়রায় ৬টি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে এসব বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এতে উপকূলীয় ২৫/৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে লোনা পানিতে।

এছাড়া উপজেলায় অসংখ্য কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালা ভেঙ্গে সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরেও খুলনা অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বইছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের গোলখালী গ্রামের তাসলিম মোল্লার বাড়ির সামনে বাঁধ ভেঙ্গে তীব্র স্রোতের পানি গ্রামে প্রবেশ করেছে। উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের গাজীপাড়া এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে আশপাশের ৪টি গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে। বাঁধ ভেঙ্গেছে কয়রা সদরের হরিণখোলা ও দশহালিয়া মজিবর মাস্টারের বাড়ি এলাকায়। এছাড়া হামখুণ্ডর লোকা গ্রামে ও দক্ষিণ বেদশকাশীর মাটিয়াভাঙ্গা এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, বাঁধ ভাঙ্গার সঙ্গে সঙ্গে এসব এলাকার প্রায় ২৫/৩০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে শত শত পুকুর ও চিংড়ি ঘের। এসব স্থানে দিয়ে লোনা পানি ঢুকে তা আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংসদ আকতারুজ্জামান বাবু সমকালকে বলেন, ৬টি স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল নদীর পানিতে তলিয়ে আছে। গ্রামের পর গ্রাম লোনা পানিতে ভাসছে। দ্রুত ভাঙ্গা বাঁধ মেরামত করা না গেলে এ লোনা পানিই দীর্ঘস্থায়ী বিপদ ডেকে আনবে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা জানান, এখন পর্যন্ত ৬টি স্থানে বাঁধ ভাঙার তথ্য পাওয়া গেছে। বাইরে এখনও ঝড় চলছে-তাই বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল ওয়াদুদ জানান, দাকোপের বাঁধ এখনও নিরাপদ আছে। তবে ঝড়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত এবং গাছপালা উপড়েপড়ার খবর আসছে। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় এখনও বয়ে যাওয়ায় কেউ বাইরে বের হতে পারছে না।

খুলনা জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জেলার ৮১৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ২ লাখ ৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।