কয়রা-কাশিরহাট সড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই রাস্তা নাকি পুকুর !


121 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
কয়রা-কাশিরহাট সড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই রাস্তা নাকি পুকুর !
জুন ১৮, ২০২১ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ মনিরুজ্জামান মনু ::

কয়রা-কাশিরহাট সড়ক দেখে বোঝার উপায় নেই রাস্তা নাকি পুকুর। দেখলে মনে হবে রাস্তা নয়, যেন পুকুর। যানবাহনের বদলে সড়কটিতে নৌকা চালানো যাবে। কষ্টের যেন শেষ নেই মানুষের। কথাগুলো বলছিলেন কয়রা সদর ইউনিয়ানের এক নং কয়রা গ্রামের ট্রাক চালক তুসার কান্তি মন্ডল। কয়রা উপজেলা সদর থেকে কাশির হাটখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়াতে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অবস্থা বর্তমানে এতটাই খারাপ যে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে পুকুরে পরিনত হয়েছে। যা দেখে বুঝার উপায় নেই ,এটা সড়ক না পুকুর। সরেজমিনে দেখা গেছে , কয়রা উপজেলা সদর হতে বেদকাশী কাছারীবাড়ি হয়ে কাশির হাটখোলা খেয়াঘাট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রায় নয় কিলোমিটার রাস্তা। বিগত বছর আম্ফানে সড়কটি অনেক জায়গায় ভেঙ্গে উত্তর বেদকাশী হতে কাশিরহাট খেয়াঘাট অভিমুখে রাস্তা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া নয় কিলোমিটার রাস্তার অর্ধশতাধিক জায়গার ছোট বড় গর্তগুলি কয়েকদিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও গর্তে বালি-কাদা জমে ভরাট হয়ে গেছে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে সেখানে গর্ত ছিল। এই ভাঙ্গা চোরা সড়ক নিয়ে বিপাকে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। বিশেষ করে বাহির থেকে আসা মাল বোঝাই গাড়িগুলোর জন্য সড়কটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নরম বালি-কাদার গর্তে চাকা পড়ে গাড়ি আটকে যাচ্ছে। আবার কখনো উল্টে যাচ্ছে। পরে মালমাল আনলোড করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গর্ত থেকে গাড়ি তুলতে হচ্ছে। কয়রা সদরের দক্ষিণাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পাতাখালী এলাকার মানুষের কয়রা উপজেলা সদর ও খুলনা জেলা সদরে যাতায়াত ও মালামাল আনা নেয়ার একমাত্র রাস্তা। দক্ষিণ বেদকাশী ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নে অবস্থিত পুলিশ ক্যাম্প, ফরেস্ট অফিস, কাস্টমস অফিস, পাউবোর অফিস, যেখানে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা এটি। এছাড়া প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনে এ রাস্তা দিয়ে উপজেলা সদর ও জেলা সদর খুলনায় যাতায়াত করে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির কাজ বিগত বছর শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্টান। কাজ অনেকটা এগিয়ে যায়। তবে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ হলে রাস্তার কাজ আবার বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বৃষ্টি মৌসুমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি মেরামতের উদ্যোগ গ্রহন না করলে উত্তর ও দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়ানের হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছে এলাকার জনসাধারন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন,আম্ফানের সময় কয়রা-কাশিরহাট সড়কটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সে ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে আবারও এলাকা প্লাবিত হলে সড়কটি চলাচলের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, জনগুরত্বপূর্ণ সড়কটির কাজ শুরু করার জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি। কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার। খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিসুজ্জামান মাসুদ বলেন , সড়কটির কাজ চলমান ছিল। কিন্তু আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্থ হলে তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করার।