খলিষখালীর এসএটিসি কলেজ দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা


366 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খলিষখালীর এসএটিসি কলেজ দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা
জানুয়ারি ৩০, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল :
দেশে জনসংখ্যা যখন প্রকট তখনই যুগোপযুগী বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে জনসমস্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করে অন্যতম পথ প্রদর্শক হিসাবে জ্ঞানের আলো বিলিয়ে চলেছে প্রিন্সিপাল আক্তারুজ্জামান বিজ্ঞান, কৃষি, কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজ।

কলেজটি ২০০২ সালে ৩ একর ৫ শতক জমিতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার দলুয়া-পাটকেলঘাটা সড়কের পাশে খলিষখালীর ছায়াঘেরা পাখিডাকা নিভৃত পল্লীতে ২০০৩ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি নিয়ে অগ্রযাত্রা শুরু করে।
বর্তমান প্রতিষ্ঠানটি দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী করে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত অব্যহত রেখেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার মূল ¯্রােত থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীকে আবারো শিক্ষার মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এভিএএস সংস্থা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক মানব সম্পদ তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। সুদীর্ঘ ক্যাম্পাস, মনোরম পরিবেশ, ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বাস্তব অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি এবং হাতে কলমে কম্পিউটার শিক্ষা এখানে বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য খলিষখালী এসএটিসি কলেজ থেকে কর্মদক্ষতা অর্জন করে সরকারের কৃষি বিভাগে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসাবে অনেকেই কর্মরত আছে। এরমধ্যে নগরঘাটা সাবেক চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের পুত্র আসাদুল ইসলাম তালাতে, কৃষ্ণা ঘোষ বাগেরহাট, হেমন্ত সরকার পটুয়াখালী, নতুন নিয়োগে উপজেলার গাছা গ্রামে দেবদাস সরকারের কৃষি কর্মকর্তা হিসাবে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে। এছাড়া অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন স্কুল কলেজে কৃষি বিষয়ে শিক্ষকতা করছে। কলেজটির দায়িত্বে থাকা অধ্যক্ষ এম এম আসাদুজ্জামানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মানব সম্পদ তৈরীর এ কারখানা হতে ২০০৮ সাল হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কৃষি ডিপ্লোমায় কৃতিত্ব অর্জন করেছে ২৭৭ জন। বর্তমান প্রথম সেমিষ্টারে ৬৬, তৃতীয় সেমিষ্টারে ৫৩, পঞ্চম সেমিষ্টারে ৩৬, সপ্তম সেমিষ্টারে ৩৯ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। অপরদিকে বিএম শাখায় ২০০৫ হতে ২০১৫ পর্যন্ত ১০১৮ জন শিক্ষর্থী কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বর্তমান অধ্যয়নরত ৩১১ জন একাদশ ও দ্বাদশ।
এছাড়া ভোকেশনাল শাখায় ২০০৭ হতে ২০১৫ পর্যন্ত ৩৫৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়ে বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত ও চাকুরীজীবি। বর্তমান নবম ও দশম শাখায় ৮৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তিনি আরো জানান, চলতি বছর শিক্ষার্থী ভর্তির চাপ বেশি থাকলেও নির্দিষ্ট থাকায় অনেক শিক্ষার্থীকে ভর্তি নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন তিনি। উপজেলার মঙ্গলানন্দকাটি গ্রামের শেখ নজরুল ইসলামের পুত্র পাটকেলঘাটা হারুণ-অর-রশিদ মহাবিদ্যালয় হতে উচ্চ মাধ্যমিক হতে অকৃতকার্য হয়ে পিতার ক্ষেতখামারে কাজ করতে থাকে। এভিএএস সংস্থার পরিচালক প্রিন্সিপাল আক্তারুজ্জামান জানান, পঁচা পাট ধোয়া (পাটের আশ ছাড়ানো) ডোবা হতে উঠিয়ে এনে প্রথম ব্যাচেই তাকে মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর কলেজে কৃতিত্ব অর্জন করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে এখন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছে। ঐ সংস্থার পরিচালক এ্যাসোসিয়েশন ফর ভিলেজ এ্যাডভাস্টমেন্ট সোসাইটি (এভিএএস) এর লক্ষ্য দক্ষ মানব সম্পদ তৈরী করে দেশকে আরো এগিয়ে নিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি কাজ করে যাবেন।
তিনি আনন্দ চিত্তে এ প্রতিবেদককে জানান, কৃষি প্রধান এ দেশে কৃষি ডিপ্লোমায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এভিএএস সংস্থা ইতিমধ্যেই একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যে প্রকল্প এভিএএস প্রতিষ্ঠান হতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এদিকে এ প্রতিবেদন তৈরীর পূর্বে একাধিক ছাত্র-ছাত্রী এ প্রতিবেদকের নিকট দুঃখের সাথে জানায় এভিএএস সংস্থা যখন দক্ষ মানব সম্পদ তৈরীতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে তখনই একটি স্বার্থান্বেষী কুচক্রী মহল এর অগ্রযাত্রা স্থবির করতে অপপ্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।