খাদিজার ওপর বর্বরোচিত হামলার চার্জশিট মেডিকেল রিপোর্ট এলেই


286 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খাদিজার ওপর বর্বরোচিত হামলার চার্জশিট মেডিকেল রিপোর্ট এলেই
অক্টোবর ১২, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :

সিলেটে কলেজছাত্রী খাদিজার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনার চার্জশিট দ্রুতই আদালতে দিতে চায় পুলিশ। সেই লক্ষ্যেই পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ঘটনার সব কিছু যেহেতু পরিষ্কার সে কারণে পুলিশ ন্যায়বিচারের স্বার্থেই চার্জশিট দ্রুততম সময়ে দাখিল করবে। সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেডিকেল রিপোর্ট এলেই তারা আদালতে চার্জশিট দাখিল করবেন।

তবে, মেডিকেল রিপোর্ট কবে নাগাদ আসতে পারে- সেটি নিশ্চিত হয়ে কিছু বলতে পারছেন না তারা। সাধারণত রোগী সুস্থ হওয়ার পরই মেডিকেল থেকে পুলিশকে রিপোর্ট প্রদান করা হয়। গত ৩রা অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে শাবি ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। ঘটনার পর থেকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খাদিজা আক্তার নার্গিস। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, এখনও শঙ্কামুক্ত নয় সে।

এদিকে, খাদিজার উপর হামলার ঘটনায় এখন উত্তাল সিলেট। প্রতিদিনই পালিত হচ্ছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। আর এসব কর্মসূচিতে এসে যোগ দিয়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। দাবি উঠেছে- মামলার দ্রুত বিচারের মাধ্যমে হামলাকারী বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির। ঘটনার পর দুই দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল বদরুল আলম। সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে তাকে রিলিজ দেয়া হলে সিলেটের শাহপরান থানা পুলিশ বদরুলকে বুধবার আদালতে হাজির করে। সিলেটের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে বদরুল জানিয়েছে- ‘প্রেমে সাড়া না দেয়ায় খাদিজাকে কুপিয়েছে।’ দেশজুড়ে আলোচিত এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও ছবি রয়েছে পুুলিশের হাতে। বদরুলের জবানবন্দি রয়েছে। এর পাশাপাশি পুলিশ তিন ধাপে সাক্ষ্য নিচ্ছে। খাদিজার উপর হামলা চলাকালীন যারা ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিল, যারা বদরুলকে আটক করে এবং যারা খাদিজাকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে তাদের সবার বক্তব্য সাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করছে পুলিশ। এ প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ে শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের দক্ষিণ জোনের কর্মকর্তারা।

সিলেট নগর পুলিশের দক্ষিণ অংশের উপ-পুলিশ কমিশনার বাসুদেব বণিক গতকাল বিকালে জানিয়েছেন, পুলিশ তদন্ত শেষ করলেও মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মেডিকেল রিপোর্ট হাতে এলে চার্জশিট প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, যেহেতু ঘটনাটি মর্মান্তিক এ কারণে পুলিশ ন্যায়বিচারের স্বার্থেই খাদিজার উপর হামলার ঘটনার চার্জশিট দাখিল করবে।

এদিকে, হামলাকারী বদরুল আলম আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর পুলিশ এখন তদন্তের অন্যান্য কাজ শুরু করে দিয়েছে। মহানগর পুলিশের কমিশনার কামরুল আহসান সহ সিনিয়র কর্মকর্তা এ ঘটনার তদন্তের জন্য সিরিয়াস রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শাহপরান থানার এসি সাজ্জাদুল আলম।

তিনি জানান, সাক্ষীদের বক্তব্য নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মেডিকেল রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। তবে, ঘটনাকালীন সময়ের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি ইতিমধ্যে তারা সংগ্রহ করেছেন। এসব ভিডিও ও ছবি আদালতে প্রেরণ করা হবে। তিনি বলেন, খাদিজার উপর হামলা মামলার তদন্তে পুলিশ কোনো গাফলাতি করছে না। বরং সুষ্ঠুভাবে তদন্ত সম্পন্ন করার পর দ্রুততম সময়ে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে।

ওদিকে, পুলিশ ঘটনার দিনই খাদিজার উপর হামলায় যে চাপাতি ব্যবহার করা হয়েছিল সেটি জব্দ করেছে পুলিশ। ওই চাপাতি নগরীর আম্বরখানার একটি দোকান থেকে ঘটনার দিন বিকালেই কিনেছে বদরুল। এবং ওই চাপাতি দিয়ে সে খাদিজার উপর হামলা চালাতে গিয়েছিল। আর হামলার পর যখন পুলিশ ও স্থানীয়রা তার দিকে এগিয়ে আসে তখনও বদরুল চাপাতি রাস্তার পাশে ফেলে দিয়েছিল।

খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থার মানববন্ধন: খাদিজা বেগম নার্গিসকে কোপানোর ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থা। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ)’র প্রেসিডেন্ট মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম। সিলেট জেলা ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সংস্থার সভাপতি রুবেল আহমদ নান্নুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও ক্রীড়া সংগঠন আজাদুর রহমান আজাদ, জেলা ক্লাব সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক হাজী মিলাদ আহমদ, সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের ট্রেজারার সিরাজ আহমদ। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম জাকারিয়া চৌধুরী শিপলুর পরিচালনায় মানববন্ধনে সংস্থার নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মান্না চৌধুরী, কামরুল হাসান, আজাদুর রহমান চঞ্চল, রাজা চৌধুরী, আজিজ রহমান, রাজু আহমদ, জাবেদ আহমদ রাসেল, রিপন আহমদ, জামিল আহমদ, ইমতিয়াজ আহমদ, সুফিয়ান খালেদ, খালেদ আহমদ, লিটন আহমদ, মিজানুর রহমান।

এ ছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- খাদিজার বাবা মাসুক আহমদ, সোনালী অতীত ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী চেরাগ, টিলাগড় ক্লাবের প্রতিনিধি কাদির আহমদ, সিলেট উন্নয়ন সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক আলী আকবর রাজন, ধারাভাষ্যকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান, রেফারি আরিছ আহমদ, জাতীয় ব্যাডমিন্টন তারকা এনামুল হক, প্রদীপ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রাশু প্রমুখ। মানববন্ধনে একাত্মতা পোষণ করে উপস্থিত হন জেলা রেফারি অ্যাসোসিয়েশন, ধারাভাষ্যকার অ্যাসোসিয়েশন, ফুটবল সাপোর্টার ফোরাম, ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়া সংস্থার সদস্য এবং সর্বস্তরের ক্রীড়াপ্রেমীরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।