খাদিজা এখনও সুস্থ হননি


378 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খাদিজা এখনও সুস্থ হননি
অক্টোবর ৪, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
এক বছরেও সুস্থ হতে পারেননি কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস। তার বাম হাত ও পা এখনও ঠিকমতো কাজ করছে না। এ জন্য তিনি নিয়মিত হাত ও পায়ের ব্যায়াম করছেন। সুস্থ হয়ে ওঠা ও ভালোভাবে বেঁচে থাকার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খাদিজার বাম হাতে একটা অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এ জন্য ৫ লাখ টাকার মতো লাগবে। টাকা জোগাড় করতে না পারায় এখনও অস্ত্রোপচার করাতে পারছে না তার পরিবার। ২০১৬ সালের ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাল্ফপাসে মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগমকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা ওইদিন এমসি কলেজে স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা দিয়ে বের হওয়ার পর হামলার শিকার হন। রক্তাক্ত খাদিজাকে উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে গত বছরের ৪ অক্টোবর বিকেলে অস্ত্রোপচার করে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তাকে। ১৩ অক্টোবর তার লাইফ সাপোর্ট খোলার পর ‘মাস্‌ল চেইন’ কেটে যাওয়ায় তার ডান হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়। তিন দফা অস্ত্রোপচারের পর মৃতু্যর মুখ থেকে ফিরে আসেন খাদিজা। তবে শরীরের বাম পাশ স্বাভাবিক সাড়া না দেওয়ায় তাকে সাভারের সিআরপিতেও তিন মাস চিকিৎসা নিতে হয়। চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাড়ি ফেরেন খাদিজা।
দেশব্যাপী আলোচিত ও বিভীষিকাময় ওই হামলার ঘটনায় চলতি বছরের ৮ মার্চ সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালত বদরুলকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতারকৃত বদরুল বর্তমানে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে।
সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার হাউসা গ্রামের সৌদি প্রবাসী মাসুক মিয়ার মেয়ে খাদিজা বলেন, কলেজের স্যারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আবার ভর্তি হতে বলেছেন। আমি বেশিক্ষণ পড়তে পারি না। মাথায় প্রচন্ড ব্যথা হয়। ইচ্ছা আছে আগামী সেশন থেকে কলেজে ভর্তি হবো। পড়ালেখা শেষ করে ব্যাংকার হতে চান বলে জানান খাদিজা।

 

খাদিজার বড় ভাই শাহরান হক শাহীন জানান, কিছুদিনের মধ্যে খাদিজাকে চিকিৎসার ফলোআপের জন্য আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। লেখাপড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সুস্থ হয়ে না ওঠায় পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না তার। এখন নিজের ব্যায়াম আর ছোট ভাইকে পড়িয়ে সময় কাটছে তার। আগামী শিক্ষাবর্ষে খাদিজাকে আবার কলেজে পাঠানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।
খাদিজার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করেছিলেন খাদিজা বেগমের চাচা আবদুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, স্কয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খাদিজার বাম হাতে একটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। এ জন্য ৫ লাখ টাকার মতো লাগবে।