খাদ্য নিরাপত্তায় সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী


269 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খাদ্য নিরাপত্তায় সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
এপ্রিল ৭, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যত দ্রুত সম্ভব ‘ফুড ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সার্ক ফুড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। দক্ষিণ এশিয়ার একজন মানুষকেও যাতে খাদ্যের অভাবে প্রাণ হারাতে না হয়, সে লক্ষ্যে সার্ক খাদ্য ব্যাংক হবে আমাদের বিপদের বন্ধু।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি অভিজাত হোটেলে তৃতীয় সার্ক কৃষিমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষকদের হাতে শস্যবীজের অধিকার সংরক্ষিত রাখার জন্য একটি ‘সার্ক বীজ ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান। বাংলাদেশ কৃষি মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তিনদিন ব্যাপী এ বৈঠকের আয়োজন করেছে।

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে ভারতের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী রাধা মোহন এবং সার্ক মহাসচিব অর্জুন বাহাদুর থাপা বক্তৃতা করেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চলের দেশগুলোর দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণে একযোগে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই একটি মানুষও যেন অনাহারে না থাকে, অপুষ্টিতে না ভোগে। আমরা প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চাই। কিন্তু কোনো একক দেশের পক্ষে তা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন যৌথ উদ্যোগ।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সবসময়ই আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতায় এক রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রথম তুলে ধরেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তখন থেকেই বাংলাদেশ তার বৈদেশিক নীতিতে আঞ্চলিক সহযোগিতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে আমাদের বেশ কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। এগুলো হচ্ছে-স্বল্প দামে উন্নত বীজ সরবরাহ নিশ্চিত করা, কৃষি কাজে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনা, ভূ-গর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা হ্রাস করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি; রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব-পদ্ধতির কৃষির প্রবর্তন; কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার সম্প্রসারণ; কৃষি উৎপাদন খরচ হ্রাস; কৃষক পর্যায়ে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ; কৃষি বিপণন ব্যবস্থা জোরদার; প্রান্তিক চাষীদের স্বার্থ সুরক্ষা; গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং মাছের রোগ প্রতিরোধসহ উন্নত চাষ পদ্ধতি চালু করা এবং এসব কর্ম সম্পাদনের জন্য উন্নততর গবেষণা পরিচালনা করা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সার্কভুক্ত বেশিরভাগ দেশেরই অর্থনীতি এখনও প্রধানত কৃষিনির্ভর। যদিও কোনো কোনো দেশের জিডিপিতে কৃষির অবদান ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য ও পুষ্টির যোগান এবং শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে কৃষি এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে খাদ্যের অবস্থান শীর্ষে। সভ্যতা এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব সাফল্য সত্ত্বেও আজও বিশ্বের সকল মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাবার এবং পুষ্টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বিশ্বের ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন মানুষের মধ্যে এখনও প্রায় ৮০৫ মিলিয়ন মানুষ অপুষ্টিতে ভোগে। অর্থাৎ প্রতি ৯ জনে একজন অপুষ্টিতে ভুগছেন। আবার এরমধ্যে ৭৯১ মিলিয়ন মানুষের বসবাস উন্নয়নশীল দেশে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ২৭৬ দশমিক ৪ মিলিয়ন মানুষ এই অপুষ্টিতে ভোগার দলভুক্ত।’

খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে কৃষি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একইসঙ্গে এটি একটি বহুমাত্রিক এবং জটিল বিষয়। আমি আশা করব, এই বৈঠকে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রী এবং বিশেষজ্ঞ মহল আলোচনার মাধ্যমে এমন কিছু সুপারিশ দেবেন, যা এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিকে একটি টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দক্ষিণ এশীয় জনগণের জন্য খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা বিধানই হোক আমাদের এই সম্মেলনের অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার সকল দেশে খাদ্য নিরাপত্তা তৈরির ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত আইনি কাঠামো প্রণয়ন ও প্রয়োগে আমার সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।’

শেখ হাসিনা দক্ষিণ এশিয়াকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত সুখী-সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।