খানা-খন্দ,ধুলা-বালি আর জানজটের শহরে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা শহর। প্রধান সড়কের দু’ধারে রাখা হচ্ছে অসংখ্য ট্রাক । কে দেখবে ?


645 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খানা-খন্দ,ধুলা-বালি আর জানজটের শহরে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা শহর। প্রধান সড়কের দু’ধারে রাখা হচ্ছে অসংখ্য ট্রাক । কে দেখবে ?
আগস্ট ১২, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষ প্রতিনিধি :
খানা-খন্দ,ধুলা-বালি আর জানজটের শহরে পরিণত হয়েছে সাতক্ষীরা জেলা শহর। বিশেষ করে সাতক্ষীরা সিটি কলেজ মোড় থেকে বাঁকাল কোল্ডস্টোর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটর সড়ক চলাচলের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। রাস্তার উপর ভরে গেছে ছোট ছোট অসংখ্য পাথর আর খোয়ার টুকরায়। রাস্তার ছালচামড়া উঠে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়েছে যে, যানবাহন তো দূরের কথা, প্রধান সড়ক দিয়ে পায়ে হাঁটারও পরিস্থিতি নেই। অথচ প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার পথচারীকে চলতে হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ এই সড়ক দিয়েই। শুধু তাই নয়, সাতক্ষীরা ইটাগাছা হাটের মোড় থেকে বাঁকালস্থ ছফুরননেছা মহিলা কলেজ পর্যন্ত (সাতক্ষীরা-মুন্সগঞ্জ সড়কের) সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকার দু’ধারে রাখা হয়েছে যত্রতত্র কয়েক’শ ট্রাক। এই এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জানজটে নাকাল হয়ে পড়ছে পথচারীরা। কিন্তু দেখার কেউ নেই। কে দেখবে সাধারণ মানুষের এসব দুর্ভোগের কথা ? এই প্রশ্ন এখন জেলা শহরের প্রায় প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে। কিন্তু কে দেবে এসব প্রশ্নের জবাব ?
চলতি বর্ষা মৌসুমের আগেই সাতক্ষীরা-মুন্সিগঞ্জ সড়কের জেলা শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে বাঁকাল পর্যন্ত সংস্কার কাজ করা হয়। ব্যায় করা হয় প্রায় অর্ধকোটি টাকা। কিন্তু মাত্র কয়েক দিনের টানা বর্ষনে জেলা শহরের ব্যবস্ততম এই সড়কের ছাল-চামড়া উঠে গেছে। অসংখ্য খানা,খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যন্ত নিম্মমানের সংস্কার কাজ হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পাথর,খোয়ার টুকরা আর ধুলা,বালিতে ভরে গেছে সমস্ত রাস্তা।
বাঁকাল গ্রামের বৃদ্ধ আজিজুর রহমান (৭০) জানালেন, জেলা শহরে চলছি বহুকাল ধরে। কিন্তু এতো ভয়াবহ পরিস্থিতি কখনও দেখিনি। যানবাহন তো দূরের কথা পায়ে হাটারও পরিস্থিতি নেই। তিনি বলেন, জেলা শহরের ছফুরণনেছা মহিলা কলেজ থেকে কামালনগর হাটের মোড় পর্যন্ত মেইন সড়কের দু’ধারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যেভাবে শত শত  ট্রাক রাখা হচ্ছে তা না দেখলে বর্ণনা করে বুঝানো যাবে না। বাড়ী থেকে সাতক্ষীরা শহরের উদ্দেশ্যে বের হলে জীবন বাঁচিয়ে আবার বাড়িতে ফিরতে পারবো এই নিশ্চয়তা নেই। ওই বৃদ্ধ উল্টো প্রশ্ন করে জানতে চান, বাবা এটা কি দেখার কেউ নেই ? এখানে কি কোন মানুষ বাস করে না ? চেয়ারম্যান,এমপি,মন্ত্রী, ডিসিরা কোথায় থাকে ? কে দেবে ৭০ উদ্ধ বয়স্ক এই বৃদ্ধ মানুষটির প্রশ্নের জবাব।
ছফুরননেছা মহিলা কলেজের এক মহিলা শিক্ষক জানান, সড়কে খানা,খন্দ,ধুলা, বালির কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখেনা। সাদা কাপড় পরে এই সড়ক দিয়ে একবার চলাচল করলে কামালনগর হাটের মোড় থেকে তার কলেজ পর্যস্ত কোয়াটার কিলোমিটর রাস্তা ভ্যানে যেতে সময় লাগার কথা মাত্র ৫ মিটিন। অথচ তার সময় লাগে প্রায় এক ঘন্টা,কোন কোন ক্ষেত্রে দেড় থেকে ২ ঘন্টা। মেইন সড়কের দু’ধারে ট্রাক রাখার কারণে দিনের অধিকাংশ সময় ওই এলাকায় লেগে থাকে দীর্ঘ জানজট। ওই কলেজ শিক্ষকের প্রশ্ন, এর কি কোন সমাধান হবে না ? সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখার কি কেউ নেই ? আর কতো দিন এভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হবে ?
এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে মেইন সড়কের ধার থেকে ট্রাক সরানো, দ্রুত রাস্তা সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবে স্থানীয় প্রশাসন। এ ব্যাপারে তারা সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান ও স্থানীয় এমপি মীর মোস্তাক আহমেদ রবির আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।