খালেদার দেশে ফেরা নিয়ে নানা জল্পনা


362 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খালেদার দেশে ফেরা নিয়ে নানা জল্পনা
অক্টোবর ১১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
লন্ডন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কবে দেশে ফিরবেন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না দলের শীর্ষ নেতারাও। তবে দলের কোনো কোনো নেতা বলছেন, খালেদা জিয়ার দেশে ফিরতে বিলম্ব হতে পারে। কেউ বলছেন, ২১ অক্টোবরের পর বা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরতে পারেন বিএনপি নেত্রী।

ইতিপূর্বে একবার বিমানের টিকিট বুকিং বাতিল হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর বুকিং রয়েছে। খালেদা জিয়ার একটি চোখের অপারেশন এখনও হয়নি। একই সঙ্গে হাঁটুর চিকিৎসাও চলছে তার। গত কয়েক দিন ধরে জ্বর হওয়ায় যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক নেতা, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েকটি সাক্ষাতের কর্মসূচিও . পেছানো হয়েছে। এসব কারণে তার দেশে ফেরা বিলম্ব হতে পারে বলে মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।

তবে একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন, শুধু চিকিৎসার জন্য নয়; রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই বিএনপি চেয়ারপারসনের দেশে ফেরা বিলম্ব হতে পারে। লন্ডনে বড় ছেলে ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দল পুনর্গঠন থেকে শুরু করে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করছেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দলের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন, বিশেষ করে দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি আদায়ে বিদেশিদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরির বিষয়টিও থাকতে পারে।

এদিকে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে দল পুনর্গঠন কার্যক্রম থেকে শুরু করে বিএনপির যাবতীয় দলীয় কর্মকাণ্ড থমকে আছে। দলটির তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যন্ত সবাই তাকিয়ে আছেন তার দেশে ফেরার দিকে।
বিএনপির একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ বছরের শেষদিক নাগাদ দলের ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পরিকল্পনা থাকলেও তার কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি নেই। খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল এবং সব শেষে ছাত্রদলের পুনর্গঠনের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীরা। বিএনপির চলমান পুনর্গঠন কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন উপজেলা ও পৌর কমিটি, ছাত্রদলের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট কমিটিও রয়েছে চেয়ারপারসনের অনুমোদনের অপেক্ষায়। তার অনুপস্থিতির কারণে বিএনপির কয়েকটি জেলা কাউন্সিলের তারিখ নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান নেতারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, চেয়ারপারসন চিকিৎসা গ্রহণ শেষে শিগগিরই দেশে ফিরবেন। তবে দিনক্ষণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, চেয়ারপারসন কবে ফিরবেন সে সম্পর্কে কোনো তথ্য তাকে এখনও জানানো হয়নি। দলের মুখপাত্র ড. আসাদুজ্জামান রিপন সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়ার এখনও চিকিৎসা শেষ হয়নি। চিকিৎসা শেষ হলেই তিনি দেশে ফিরবেন।

এদিকে খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে ‘ষড়যন্ত্র’ করছেন বলে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে। কোনো নেতা এও বলছেন, খালেদা জিয়া শিগগির নাও ফিরতে পারেন। তবে বিএনপি নেতারা এসব বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেন, খালেদা জিয়া লন্ডনে বসে ষড়যন্ত্র করছেন। বিদেশে বসে তিনি দেশে খুন করাচ্ছেন। জবাবে গতকাল এক অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক গতকাল বলেন, চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন তার পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান। এ কারণে চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে অন্যরা সঠিক ধারণা পাচ্ছেন না। তবে এটুকু জানা গেছে, শিগগিরই তার চিকিৎসার প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে। এমএ মালেক জানান, এ সপ্তাহে সেখানে যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেবেন খালেদা জিয়া। সেখানে তাকে সংবর্ধনাও দেবেন প্রবাসী বিএনপির নেতাকর্মীরা। এমএ মালেক আরও জানান, এ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের বা বিদেশি কোনো নেতার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের বৈঠক হয়েছে বলে তার জানা নেই। তবে শিগগিরই এ ধরনের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।