খালেদার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন নয় : বিএনপি


363 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খালেদার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন নয় : বিএনপি
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত দিয়েছে বিএনপি। এ দাবি পূরণ না হলে জনগণ দেশে নির্বাচন হতে দেবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে দলটি।

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়াও সংসদ ভেঙে নিদর্লীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ভোটে সেনা মোতায়নের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা থেকে এসব দাবি জানান বিএনপি নেতারা। গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানান তারা। সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষদেরকে এই জাতীয় ঐক্যে আসার আহ্বান জানানো হয় জনসভা থেকে।

দুপুরে জনসভার কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জমায়েত হতে শুরু করেন। বিকেলের মধ্যে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত ওই জমায়েত বিস্তৃতি লাভ করে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যায় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের হাতে। সভাস্থলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এতে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, খালেদা জিয়াসহ দলের অনেক নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অবিলম্বে তাদের মুক্তি চাই। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপির সব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে; গণতন্ত্রকে মুক্তি দিতে হবে। এজন্য সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনে নিাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে পূনর্গঠন করতে হবে।

এসময় মির্জা ফখরুল দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি সবাই মিলে আসুন সব ভেদাভেদ ভূলে, কালবিলম্ব না করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, দেশকে রক্ষা করার জন্য, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার জন্য ঐক্যবদ্ধ হই।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছিলেন। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বলেছিলেন। সেই জাতীয় ঐক্য হবে বিশ্বাস করি।

মির্জা ফখরুল বলেন, তাদেরকে স্বাগত জানাই যারা আজকে এই ঐক্য গড়ছেন। তাদেরকেও আহ্বান জানাই- আসুন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই অপশাসনকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

এ সময় গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের জাতীয় ঐক্য গঠনকে স্বাগত জানান তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আর কারাগারে দেখতে চাই না। তার মুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে দেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। এসময় তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। নইলে এর জন্য আপনাদেরকেই দায় নিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি, খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে আওয়ামী লীগ। তাদের ভিতরে জিয়া পরিবারের ভীতি কাজ করছে। এর থেকে বাঁচার জন্য এখন নানারকম ফন্দিফিকির করছে। আওয়ামী লীগ এখন একটা দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। আপনারা রাজপথের জন্য প্রস্তত হোন। একদিকে নির্বাচন আর অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন হবে।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে। কারণ তাকে ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আর নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় এবং বিএনপি যদি নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসে তবে দেশে সুশাসন, সুশৃঙ্খল ও জনগণের মধ্যে শান্তি আসবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের গণতন্ত্র এখন নিখোঁজ, ঠিকানাবিহীন। এই গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে হলে খালেদা জিয়াকেও মুক্ত হতে হবে। তার মুক্তির সঙ্গেই গণতন্ত্রের মুক্তি মিলবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমদ আযম খান, জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ফজলুল রহমান, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব উন-নবী-খান সোহেল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন।