খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী


127 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খালেদা জিয়া গ্রেনেড হামলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী
আগস্ট ২১, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় গণভবন থেকে অনলাইনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৬তম বার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গিয়ে খালেদা জিয়া (তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী) গ্রেনেড হামলা চালানোর ষড়যন্ত্র করেছিলেন। ওই হামলার সাথে জড়িতরা পরে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিল যে খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমানও সেই ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন।’

শুক্রবার দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন। খবর ইউএনবির।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা দলীয় কার্যালয়ে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা একুশে আগস্টের হামলা হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যদি সরকার (তৎকালীন) থেকে পৃষ্ঠপোষকতা না করা হতো, তাহলে ২১ আগস্টের মতো এমন গ্রেনেড হামলা চালানো সম্ভব ছিল না। বিএনপি-জামায়াত সরকার এ হামলা চালাতে সন্ত্রাসী ও জঙ্গিদের জড়ো করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে এবং তাদের নিরাপদে বিদেশে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে। তারা মনে করেছিল হামলায় আমি মারা গেছি। কিন্তু যখন জানল আমি মারা যায়নি তখন জঙ্গিদের দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল তারা।’
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে ঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগ। ছবি: ফোকাস বাংলা

হামলার পর পুলিশ হতাহতদের উদ্ধারের পরিবর্তে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ ও লাটিপেটা করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতপন্থী চিকিৎসকরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আওয়ামী লীগের আহত নেতা-কর্মীদের চিকিৎসা দেননি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো রোগীকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। তারা যদি (বিএনপি-জামায়াত সরকার) সরাসরি এ হামলার সাথে জড়িত না হতো তাহলে কি এভাবে তারা বাধা দিত?

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘হত্যাকাণ্ড চালানো তাদের অভ্যাস ছিল। কারণ তারা দেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত চক্র যে বিষবৃক্ষ লাগিয়েছিল, বাংলাদেশ এখনও তার ফল ভোগ করছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আমরা একে একে এসব উপড়ে ফেলছি।’

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদল আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন তিন শতাধিক মানুষ। হামলায় বেঁচে যাওয়া অনেকে আজও পঙ্গুত্ব নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

ওই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের নেতারা মানববর্ম তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন।