খালের নেট পাটা অপসারনে গিয়ে হামলার শিকার তালার ইউএনও


1020 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খালের নেট পাটা অপসারনে গিয়ে হামলার শিকার তালার ইউএনও
নভেম্বর ৪, ২০১৯ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বি. এম. জুলফিকার রায়হান ::

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন কর্তৃক ইজারা বাতিল ঘোষনার পর সরকারি খাল উন্মুক্ত করতে নেটপাটা অপসারনের সময় জনগনের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইকবাল হোসেন। তাকে ও তার সঙ্গীদের ওপর ইজারা গ্রহনকারীদের পক্ষের লোকজন আজ সোমবার দুপুরে এই হামলা চালায়। তবে ইউএনও ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হননি। তার সঙ্গে থাকা লোকজন হামলার শিকার হয়েছেন।

তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের মাদরা বালিয়াদহা এলাকায় ইউএনও ইকবাল হোসেন লোকজন নিয়ে ইজারা বাতিল ঘোষিত খালগুলি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে নেটপাটা অপসারনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। দুপুর দেড়টার পর তিনি মাদরা বালিয়াদহার মধ্যবর্তী খোবরাখালী খালের পানি অপসারনে বাধা দুর করাচ্ছিলেন। গ্রামবাসী জানান এই খালটি স্থানীয় সমীর কুমার দাস এক বছর ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। পার্শ^বর্তী আরও দুই একটি খাল জনগনের পক্ষে ইজারা নিয়ে তারা মাছ চাষ করে আসছেন। ইউএনও ইকবাল হোসেন নেটপাটা অপসারন করতে গেলে তারা সম্মিলিতভাবে বাধা দেন এবং তাদের কাছে ইজারার কাগজপত্র আছে বলে দাবি করেন।

এসময় তারা কয়েকদিনের সময়ও প্রার্থনা করেন। তবে ইউএনও এতে সম্মত না হওয়ায় গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা ইউএনও ও তার সঙ্গীদের ঘিরে ধরে অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদের শার্ট ধরে টানাটানি এবং ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। ইউএনওকে রক্ষা করার জন্য গ্রামবাসী এগিয়ে এলেও একদল নারী ঝাঁটা নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। গ্রামবাসী তাদের মাছধরা জাল জোর করে ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তিনি নেটপাটা অপসারন কার্যক্রম স্থগিত রেখে এলাকা ত্যাগ করেন। এর আগে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গনেশ চন্দ্র হামলার ঘটনা স্বীকার করে বলেন বিষয়টি অনাকাঙ্খিত।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাগুরা ইউনিয়নের মাদরা গ্রামে ইউএনও ইকবাল হোসেন পুলিশ সদস্য ছাড়াই স্থানীয় কিছু লোকজন নিয়ে ইজারাভুক্ত খোবরাখালি জলমহাল, মাদরা পূজা মন্ডপের নিয়ন্ত্রাধিন জলমহালের একটি অংশ এবং বাইনতলা খাল জলমহাল উন্মক্ত করার জন্য অভিযানে নামে। খোবরাখালী জলমহাল সমীর কুমার দাস এবং বাইনতলা জলমহাল মাগুরাডাঙ্গা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ইজারা নিয়ে সেখানে মাছ চাষ করছে। কিন্তু ইউএনও ইকবাল হোসেন পূর্ব ঘোষনা ছাড়ায় জলমহাল উন্মুক্ত করতে সেখানে যান।

ইউএনও’র উপস্থিতিতে দূর্বৃত্তরা দুটি জলমহাল থেকে ৫ লক্ষ টাকার মাছ লুটপাট করে এবং পরিকল্পিত ভাবে খোবরাখালি জলমহালের ৫টি ঘর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়াসহ আসবাবপত্র লুটপাট করে। পরে পূজা মন্দির কমিটির নিয়ন্ত্রনাধিন খোবরাখালি জলমহালের একটি অংশ উন্মুক্ত করার চেষ্টাকালে গ্রামের লোকজন ইউএনওকে জলমহালের ইজারার কাগজপত্র আছে বলে জানিয়ে তারা কয়েকদিনের সময় প্রার্থনা করেন। কিন্তু ইউএনও তাতে সম্মত না হওয়ায় গ্রামবাসী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা ইউএনও এবং তাঁর সঙ্গী লোকজনের উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা ইউএনও’র শার্ট ধরে টানাটানি সহ ধাক্কাধাক্কি করে এবং একদল নারী ঝাঁটা নিয়ে তেড়ে আসে। একই সাথে মাছ লুটপাটকারী বালিয়াদহ গ্রামের কতিপয় দূর্বৃত্তদের সাথে মাদরা গ্রামবাসীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হলে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে সংবাদ পেয়ে তালা থানা ও খেশরা ক্যাম্প থেকে পুলিশ এসে ইউএনও ইকবাল হোসেনকে উদ্ধার কওে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে জানান, জেলা প্রশাসক মহোদয়’র নির্বাহী আদেশে ইজারা বাতিল হওয়া খালের বাঁধ ও নেটপাটা অপসারন করে খাল উন্মুক্ত করার সময় কিছু লোক হামলা করে। এ ঘটনায় তিনি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত না হলেও তার সঙ্গে থাকা লোকজন হামলার শিকার হয়েছেন এবং ঘটনার ভিডিও করায় তারা মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়েছে।

তালা থানার ওসি মেহেদী রাসেলের সাথে সর্বশেষ রাত পৌনে ১১ টার দিকে কথা হয়। তিনি হামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ভয়েস অব সাতক্ষীরাকে বলেন, পুলিশ হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল যেয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা অন্য কেউ এই হামলার ঘটনায় রাত পৌনে ১১ টা পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গস্খহণ করা হবে।

#