খাস জমি বিতরণ ও সরকারি সেবা প্রদানে ভূমিহীন তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে


109 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খাস জমি বিতরণ ও সরকারি সেবা প্রদানে ভূমিহীন তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সাতক্ষীরা এলাকায় প্রণয়নকৃত ভূমিহীনদের তালিকা দারিদ্র বিমোচনে অনেকটা সহায়ক হতে পারে। একটি চূড়ান্ত ভূমিহীন তালিকা খাসজমি বন্দোবস্ত এবং সেফটি-নেট কর্মসূচীর উপকারভোগী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। উপজেলার সকল দপ্তর এই তালিকা ব্যবহার করে তাদের টার্গেট অনুযায়ী দরিদ্র/হতদরিদ্র্র পরিবার চিহ্নিত করে তাদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে পারবে। উপজেলা প্রশাসন এই তালিকাটি ব্যবহার করে প্রকৃত ভূমিহীনদের হাতে খাসজমি বিতরণের পাশাপাশি সরকারের নানাবিধ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে পারবে। এমন মন্তব্য করেছিলেন সাতক্ষীরার সাবেক জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।
তিনি আরও বলেছিলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের এখন থেকে বারে বারে অসহায় মানুষের তালিকা তৈরী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতে হবে না; এই তালিকা তারা ব্যবহার করতে পারবেন। উপরন্তু তালা ও আশাশুনি উপজেলায় কর্মরত দেশি-বিদেশী যে কোন এনজিও এই তালিকার সহযোগিতা নিতে পারবে। তালিকাটিতে ভূমিহীনদের নামের পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর রয়েছে। এ কারণে জাতীয়ভাবেও কোন ভূমিহীনকে চিহ্নিত করতে হলেও তা অনায়াসে করা যাবে। তালিকাটি প্রতি বছর আপডেট করার সুযোগ রয়েছে।
উত্তরণ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ মনিরুজ্জামান জমাদ্দার বলেন, একখ- জমির আশা, কার না থাকে। আর যদি মানুষটি হয় ভূমিহীন, তবেতো এই আশা রীতিমতো স্বপ্ন। একখ- জমিকে ঘিরে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকা- একটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা গড়ে তোলা। তিনিও বিশ^াস করতেন, খাসজমি ভূমিহীনদের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে দেশ সমৃদ্ধ হয়ে গড়ে উঠবে। এ কারণেই তিনি স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশের ভূমি দখল (সীমিতকরণ) অধ্যাদেশ-১৯৭২/ পিও ৯৮ জারি করেন। এর মাধ্যমে কয়েক লাখ ভূমিহীনের মাঝে খাসজমি বিতরণ করে তাঁদের দুঃখ দূর করেন। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হওয়ার পরের বছর ১৯৯৭ সালে পিতার পথ ধরে কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮৭ সালের কৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালাটি সংশোধন ও ত্রুটিমুক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালে তালা উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের বর্তমান সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। তখন তাঁর ঐকান্তিক ইচ্ছায় উত্তরণ-এর সার্বিক সহযোগিতায় তালা উপজেলায় ভূমিহীন বাছাই ও তালিকা তৈরি করা হয়। যা সকল মহলে প্রশংসিত হয়। ভূমিহীন বাছাই ও তালিকা তৈরির এই কাজটি ‘তালা মডেল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তালা উপজেলায় ভূমিহীন পরিবার চিহ্নিত হয়েছে ১৫ হাজার ২০৬টি। ওই কাজের ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন আশাশুনি উপজেলায় ভূমিহীনদের তালিকা প্রস্তুত করে। কার্যক্রমটি বাস্তবায়নে আর্থিক এবং কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ‘উত্তরণ’ এবং এতে অর্থায়ন করেছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের অর্থায়নে আমার প্রকল্পের মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলায় একটি চূড়ান্ত ভূমিহীন তালিকা তৈরি করতে আগ্রহী।
এদিকে আশাশুনী উপজেলায় ১৯ হাজার ৬৮১টি ভূমিহীন পরিবার চিহ্নিত হয়েছে। উপজেলায় মোট গৃহহীন পরিবার রয়েছে ৫২৫৭টি। উপজেলা প্রশাসন বর্তমানে এই ৫২৫৭টি পরিবারের মধ্যে থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মুজিব-বর্ষের ঘর বিতরণ করছে। প্রণীত তালিকায় প্রতিটি পাতায় অংশগ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও ইউপি চেয়ারম্যানগণের স্বাক্ষর রযেছে। তালিকাটি ইতোমধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিস উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় (ইউএনও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
কেন্দ্রীয় ভূমি কমিটির সভাপতি এডঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, বর্তমান সরকার ভূমিহীনদের খাস জমি বন্দোবস্ত ও গৃহহীনদের ঘরের ব্যবস্থা করেছে। সাতক্ষীরায় ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলন সংগ্রামের ফলে ভূমিহীনরা অনেক খাস জমি বন্দোবস্ত পেয়েছে। এজন্য তিনি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি বলেন, সাতক্ষীরা জেলায় অনেক খাস জমি ভূমিদস্যুরা দখল করে রেখেছে। মৎস্যজীবী জেলে সম্প্রদায় জলাশয়, জলাভূমি ভোগ করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, তালা ও আশাশুনি উপজেলায় মতো সাতক্ষীরার সকল উপজেলায় চূড়ান্ত ভূমিহীন তালিকা তৈরি হলে খাসজমি বন্দোবস্ত এবং সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচীর উপকারভোগী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি