খুলনাসহ সারাদেশে পাটকল শ্রমিকরা ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে ৫ দিনের অন্দোলন কর্মসুচি ঘোষনা করেছে


374 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনাসহ সারাদেশে পাটকল শ্রমিকরা ৫ দফা বাস্তবায়নের দাবীতে ৫ দিনের অন্দোলন কর্মসুচি ঘোষনা করেছে
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা ব্যুরো :
খুলনাসহ দেশব্যাপী পাটকল গুলিতে ফের শ্রমিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্রমিকদের বকেয়া মজুরী, পাট মৌসুমে অর্থের অভাবে পাট ক্রয় করতে ব্যর্থ এবং পাটকল শ্রমিকদের ৫ দফা দাবী বাস্তবায়নের দাবীতে শ্রমিকদের অন্দোলন অব্যহত আছে। সম্প্রতি বিজেএমসির চেয়ারম্যান শ্রমিকদের নিয়ে বিভ্রান্তমুলক বক্তব্য প্রদান করায় দেশ ব্যাপী পাটকল শ্রমিকদের ভিতরে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
গত শুক্রবার দেশের সকল পাটকল শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব জুট মিলস সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদ বিশাল শ্রমিক সমাবেশের মধ্যে দিয়ে আবারো ৫ দিনের আন্দোলন কর্মসুচির ডাক দিয়েছে। সমাবেশে ঢাকা রাজশাহি, চট্রগ্রাম ও খুলনা জোনের পাটকল শ্রমিক নেতাদের উপস্থিতিতে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় স্ব-স্ব শিল্পাঞ্চল এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও লাঠি মাছিল, ১৪ সেপ্টেম্বর খুলনাসহ সকল শিল্প শহর ও জেলা শহরে লাল পতাকা মিছিল, ১৫ সেপ্টেম্বর পাটকল গুলির স্কুলের কমল মতি ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে রাজপথে মানবন্ধন, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত মিলের প্রশাসিনক ভবন ঘেরাও এবং ১৮ সেম্পেম্বর শিল্প এলাকায় ফের শ্রমিক সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসুচি ঘোষনা করেন শ্রমিক নেতারা। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিলস সিবিএ-নন সিবএ ঐক্য পরিষদের আহবায়ক মোঃ সোহরাব হোসেন। বক্তৃতা করেন শ্রমিক নেতা মোঃ শাহ আলম, পরিষদের সদস্য সচিব এস,এম জাকির হোসেন, প্লাটিনাম জুট মিলের সিবিএর সভাপতি কাওসার আলী মৃধা, সাধারণ সম্পাদক মোঃ খলিলুর রহমান, যশোর জেজেআই জুট মিলের সিবিএর সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মল্লিক, নরসিংদির ইউ,এম,সি জুট মিলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোশারেফ হোসেন, চট্রগ্রাম হাফিজ জুট মিলের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা ডেমরার করিম জুট মিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুল হোসেন, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের সাবেক সভাপতি মোঃ আবু তাহের, রাজশাহী জুট মিলের সিবিএর সভাপতি মোঃ ইমদাদ হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা। আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা জানান, শ্রমিকদের ৬ থেকে ৭ সপ্তাহর মজুরী বকেয়া পড়ে আছে। যার কারনে দ্রব্যমুল্যর উর্ধ্বগতির বাজারে চরম অর্থ সংকটে দিন কাটাচ্ছে পাটকল শ্রমিকরা। এমত অবস্থায় সম্প্রতি বিজেএমসির চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) হুমায়ূন খালিদ পাটকল গুলিতে ৩০-৩৫ শতাংশ শ্রমিককে বসিয়ে বসিয়ে মজুরী প্রদান ও ১২-১৩ হাজার অতিরিক্ত শ্রমিককে নিয়োগ দেয়ায় বিজিএমসির ব্যায় ৩০-৪০ শতাংশ বেড়ে যাওয়াযর মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। খুলনার শ্রমিক নেতারা বিজিএমসির জুটয়ারম্যানের এ মন্তব্যকে ভুল ও বিভ্রান্তকর বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন পাটকলগুলিতে ২০০৪ সালের সেট-আপ অনুযায়ী দেশের ১৭টি পাটকলে লোকবলের প্রয়োজন ৩৮ হাজার ২শ ৮২ জন, বর্তমানে লোকবল রয়েছে ৩১ হাজার ২শ জন। শ্রমিকনেতারা বলেন লোকবালের ঘাটিতি রয়েছে ৭০৮২ জন। অন্যদিকে পাটক্রয় করে মিলগুলিকে উৎপাদন মুখি করে রাখতে যেখানে প্রয়োজন প্রায় ৫শ কোটি টাকা সেখান মাত্র ২৬ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। বর্তমানে পাটের মুল্য বাজারে কম থাকা স্বত্বেও খুলনা যশোর অঞ্চলের ৯টি পাটকলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট কাচাঁপাটের প্রয়োজন ১১,০৭,৪৩৫ কুইন্টল। কিন্তু মিলগুলিতে অর্থের অভাবে চাহিদা অনুযায়ী পাট ক্রয় করতে পারছেনা। একদিকে লোকবল সংকট অন্যদিকে পাটের অভাবে দেশের ১৭টি পাটকল কাংক্ষিত উৎপাদন দিতে পারছেনা। শ্রমিক নেতারা বলেন পাট মৌসুমে বাজেট অনুযায়ী স্ব-স্ব মিলে অর্থ বরাদ্ধ না দিলে পরবর্তিতেপাটের দাম  মন প্রতি ৪-৫শ টাকা বেড়ে যাবে। এখন পাট ক্রয় করতে না পারলে লোকসানের সংখ্য বৃদ্ধি পাবে। এদিক বিবেচনা না করে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের রুটি রুজীতে হাত দেয়ার পরিকল্পনা করছে।