খুলনায় জামাই’র বিরুদ্ধে মেয়ে হত্যার অভিযোগ, বিচার দাবী


463 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনায় জামাই’র বিরুদ্ধে মেয়ে হত্যার অভিযোগ, বিচার দাবী
অক্টোবর ১৩, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে মেয়েকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধ পিতা অশোক কুমার ঘোষ। যৌতুক না দেয়া এবং নিজ বৌদির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণেই এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটানো হয়। কিন্তু ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে হত্যার পর মুখে বিষ ঢেলে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেও চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তারা। মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি মেয়ে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করেন।
সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার তুলসীডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা পিতা অশোক কুমার ঘোষ লিখিত অভিযোগে বলেন, প্রায় ৬ বছর আগে তার চতুর্থ কন্যা মিতা রানী ঘোষকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মালতিয়া গ্রামের মৃত. সন্তোষ ঘোষের ছেলে সুকর্ণ ঘোষের সাথে বিবাহ দেন। কিন্তু বিবাহের কিছু দিন পর থেকে জামাই সুকর্ণ ঘোষ যৌতুক দাবী করে। মেয়ের সুখের জন্য প্রায়ই তাকে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দেয়া হয়। কিন্তু তারপরও বিভিন্ন সময় আরও যৌতুক দাবি করে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এরই মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবনে অর্ঘ ঘোষ নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও মেয়ের ওপর জামাই ও তার পরিবারের নির্যাতন কমবে বলে ধারণা করা হলেও তা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, জামাই সুকর্ণ ঘোষ তার বৌদি অসিমা ঘোষের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আমার মেয়ে মিতা রানী ঘোষ তাতে বাঁধা হয়ে দাঁড়ানোর কারণে গত ৮ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় স্বামী সুকর্ণ ঘোষ ও তার বৌদি অসিমা ঘোষ, মাতা ঊষা ঘোষ, বড় ভাই বিকর্ণ ঘোষ ও ছোট কাকীমা সংঘবদ্ধ হয়ে মিতাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে তার মুখে বিষ ঢেলে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে আমার বড় মেয়ে রঞ্জিতা জামাই সুকর্ণকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে বউদি মেরেছে, বউদির কাছে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে সুকর্ণ মেরেছে- এভাবে তারা আমার মেয়ের মৃত্যু নিয়েও ছিনিমিনি খেলা শুরু করেছে। এমনকি আমার একমাত্র নাতি শিশু অর্ঘকেও তারা আটক করে রেখেছে। আমাদের কাছে আসতে দিচ্ছেনা। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিতে গেলে গোবিন্দ ঘোষ নামে স্থানীয় একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে দিয়ে আমাদের উপর হামলা এবং কোন প্রকার মামলা না করতে হুমকি দেয়া হয়। এমনকি আমরা গোপনে ডুমুরিয়া থানায় গেলেও থানার সেকেন্ড অফিসার এস.আই মহসিন মামলা গ্রহণ না করে বের করে দেয়। পরবর্তীতে মৃত্যুর আলামত নষ্ট করতে দ্রুত মৃতদেহ পুড়িয়ে ফেলা হয়। পুলিশকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে বলা হয়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা যে কোন সময় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যদের বড় ধরণের ক্ষতি করতে পারে। ঘটনার সাথে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীসহ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। #