খুলনায় নির্যাতনে রাকিব হত্যা। প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও ফাঁসীর দাবিতে সোচ্চার খুলনাবাসী


535 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনায় নির্যাতনে রাকিব হত্যা। প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও ফাঁসীর দাবিতে সোচ্চার খুলনাবাসী
আগস্ট ৫, ২০১৫ খুলনা বিভাগ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনায় মোটর সাইকেল গ্যারেজে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে পেটে হাওয়া ঢুকিয়ে নিষ্ঠুর নির্যাতনে নিহত শিশু শ্রমিক মো. রাবিক হাওলাদার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে খুলনাবাসী। হত্যাকারীদের ফাঁসীর দাবিতে শ্লোগানে শ্লোগানে কেঁপে উঠছে গোটা নগরী। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র পিকসার প্যালেস মোড় থেকে শহীদ হাদিস পার্ক পর্যন্ত দীর্ঘ মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করছে বিভিন্ন মানবাধিকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিশু সংগঠন।
এদিকে, রাকিবের বাড়িতে এখনও চলছে কান্না আর আহাজারি। বিভিন্ন স্থান থেকে স্বজন ও সাধারণ মানুষ এসে রাকিবের মা, বোন ও বাবাকে শান্তনা দিচ্ছেন। কিন্তু রাকিবের মায়ের কান্না যেণ থামছেই না। তিনি কিছুক্ষণ পর পরই থেকে থেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন। মা আর ছোট বোনের গগন বিদারি কান্নায় সার্বিক পরিবেশ শোকে ভারি হয়ে উঠছে।
অপরদিকে, রাকিব হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর প্রাণকেন্দ্র পিকসার প্যালেস মোড় থেকে শহীদ হাদিস পার্ক পর্যন্ত দীর্ঘ মানব বন্ধন কর্মসূচী পালন করে খুলনার বিভিন্ন মানবাধিকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিশু সংগঠনগুলো। এতে খুলনা মহানগর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কৃষকলীগ নেতা শ্যামল সিংহ রায়, বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার প্রতিনিধি এ্যাড. মোমিনুল ইসলাম, মানবাধিকার সংস্থা অধিকার’র প্রতিনিধি মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, এসএম সোহরাব হোসেন, এ্যাড. অশোক কুমার সাহা এবং নিহত রাকিবের বাবা মো. নূরুল আলম ও ছোট বোন পারভীন আক্তার রিমিসহ খুলনার বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেন।
প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে রাকিবের পিতা মো. নূরুল আলম কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, ‘আমি আর কোন দিনই আমার কলিজার টুকরো রাকিবকে ফিরে পাবনা, কিন্তু যারা তাকে মেরেছে তাদের যেণ ফাঁসী হয়’। এমনকি তার আদরের ছোট বোন পারভীন আক্তার রিমিও ভাই হত্যাকারীদের ফাঁসী দাবি করেছে। এছাড়া অন্যান্য বক্তারা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠণ করে রাকিবসহ সকল শিশু হত্যার বিচার দাবি করেন।
##

রাকিব হত্যা মামলায় পুলিশের তিন সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠন :
————————————————————

খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনায় মোটর সাইকেল গ্যারেজে কম্প্রেসার মেশিন দিয়ে পেটে হাওয়া ঢুকিয়ে নিষ্ঠুর নির্যাতনে নিহত শিশু শ্রমিক মো. রাবিক হাওলাদার হত্যা মামলার তদন্ত মনিটরিং করতে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে বুধবার এ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটির প্রধান করা হয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব হাকিমকে। এছাড়া অপর দু’ সদস্য হলেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) শেখ মো. মনিরুজ্জামান মিঠু এবং সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. হুমায়ূন কবীর।
কেএমপি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশু রাকিব হত্যা মামলাটি যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ায় এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এ কমিটি সেটি পর্যবেক্ষণে রাখবে।
কমিটির সদস্য অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) শেখ মো. মনিরুজ্জামান মিঠু রাইজিংবিডিকে বলেন, মামলার সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করতে যে কোন ধরণের সহায়তা করবে এ কমিটি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দিক-নির্দেশনাও দেয়া হবে। এ মামলার তদন্তে সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হবে। দ্রুত চার্জশিট দাখিলের বিষয়টিও কমিটি পর্যবেক্ষণ করবে।
কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব হাকিম বলেন, এ মামলাটি যাতে চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে গ্রহন করা হয় সে জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালানো হবে। তিনি বলেন, এ ধরণের একটি ন্যাক্কারজনক ও লজ্বাজনক ঘটনা যা মুখে আনাও যায়না। মানুষ যে এত নিকৃষ্ট কাজ করতে পারে তা ভাবতেও ঘৃণা হয়। তিনি বলেন, হত্যাকান্ড সম্পর্কে গ্যারেজ মালিক শরীফের মা বিউটি বেগম কিছু তথ্য দিয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার আদালতে তার রিমান্ডের শুনানি হবে। আর শরীফ ও মিন্টু সুস্থ্য হলে তাদেরও প্রিজন সেল থেকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ২ আগষ্ট বিকেলে নগরীর টুটপাড়া কবরখানা সংলগ্ন শরীফ মটরস নামক একটি মোটর সাইকেল গ্যারেজের মধ্যে নিয়ে কিশোর রাকিবের বায়ূ পথে কম্প্রেশার মেশিন দিয়ে পেটে হাওয় ঢুকিয়ে নির্মমভাবে  হত্যা করা হয়।