খুলনায় বাবা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মেয়েকে হত্যা । লাশ গুম


622 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনায় বাবা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মেয়েকে হত্যা । লাশ গুম
সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
খুলনা নগরীর লবনচরা থানার হযরত বুড়ো মৌলভী (র.) দরগা এলাকায় শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তরা বৃদ্ধ বাবা ইলিয়াস চেীধূরী (৭০) এবং তার ব্যাংক কর্মকর্তা মেয়ে পারভীন সুলতানা (২৫) কে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর লাশ বাথরুমের সেফটি ট্যাংকির মধ্যে ফেলা দেয়। তবে বিষয়টি প্রথমে ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও কোন অর্থ বা মালামাল লুট না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বিষয়টিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে উল্লেখ্য করেছে। তবে ঘটনার কোন ক্লু উদঘাটন করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত উড়নাসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে।

এদিকে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাবা-মেয়ের লাশের পোষ্টমর্টেম করা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় এখনও কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একই পরিবারের বাবা-মা ও তাদের দু’ সন্তানকে আটক করেছে।

নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানান, শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, লবনচরা থানার ৩নং দরগা সড়কে অবস্থিত ‘ঢাকাইয়া হাউজ-এ.পি ভিলা’ নামক বাড়িটি খাঁ খাঁ করছে। ৯ ফুটের সু-উচ্চ দেয়াল দিয়ে ঘেরা বাড়িটি। বাইরে থেকে গেট বন্ধ করা। পোষ্ট মর্টেম শেষে লাশ গ্রহণ করতে পরিবারের সদস্যরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করায় বাড়িটি ফাঁকা রয়েছে। সকাল সাড়ে ১০ টারদিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি ওই বাড়ি পরিদর্শনে এসে তালা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় দেখা যায়, একটি টিনসেড আধাপাকা বাড়ি। ঘরের বাইরেই (বাউন্ডারির ভেতরে) থাকা বাথরুমের দু’টি ভাঙ্গা সেফটি ট্যাংক। হত্যাকান্ডের পর বাবা-মেয়েকে এর মধ্যেই ঢুকিয়ে রাখা হয়। এছাড়া হত্যাকান্ডের আর কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল তছনছ করা ছিল।

স্থানীয়রা জানান, ইলিয়াস চৌধূরী গত তিন বছর আগে দরগা রোডে বাড়ি নির্মান করে সেখানেই বসবাস শুরু করেন। স্ত্রী’র ইন্তেকাল এবং নিজেও অসুস্থ্য থাকায় ছোট মেয়ে পারভীন সুলতানাকে কাছে রাখেন। চার সন্তানের মধ্যে বাকি দু’ মেয়ের একজন খুলনা নগরীর ময়লাপোতা এলাকায় এবং অন্যজন ঢাকায় বসবাস করেন। আর একমাত্র ছেলে রেজাউল আলম চৌধূরী বিপ্লব খুলনা নগরীর সিমেট্রী রোডে এপি টেলিকম নামক একটি মোবাইলের শো-রুম দিয়ে ব্যবসা করেন। দীর্ঘ দিন ধরে বাড়িতে বাবা ও মেয়েই থাকতেন। কিন্তু মেয়ে পারভীন সুলতানা এক্সিম ব্যাংক খুলনার কালিবাড়ী শাখায় ক্যাশ কর্মকর্তা পদে কর্মরত থাকায় তিনি অফিসে গেলে বৃদ্ধ বাবা একাই বাড়িতে থাকতেন। এর বাইরে প্রতিবেশিদের সাথেও তাদের তেমন কোন দেখা-সাক্ষাৎ বা সম্পর্ক ছিলনা। কিন্তু হঠাৎ করে এ ধরণের খবরে হতভম্ব হয়ে বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন তারা।

নিহত ইলিয়াস চৌধূরী’র ছেলে রেজাউল আলম চৌধূরী বিপ্লব জানান, তাদের সাথে কারো কোন শত্রুতা ছিলনা। তারপরও কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটলো- সে বিষয়ে তিনি কিছুই বুঝে উঠতে পারছেননা। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করায় তিনি তেমন কিছু বলতে রাজি হননি। তবে ঘটনার পর তাদের অন্য দু’ বোন ও স্বজনরা শোকে ভেঙ্গে পড়ায় এ ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের করা হয়নি বলেও জানান তিনি।
এদিকে, প্রতিবেশি রোজিনা খাতুন অভিযোগ করেন, শনিবার রাত ৩টার দিকে লবনচরা থানা পুলিশ তাদের ঘুম থেকে ডেকে তোলে। এরপর তার বৃদ্ধ পিতা নওয়াব আলী (৬০), মা নাসিমা বেগম (৪০) এবং ভাই মোক্তাজুল ইসলাম (১৯) ও আজিজুল ইসলামকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাদের থানায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তার বড় ভাই মোক্তাজুল ইসলাম গ্রীল মিস্ত্রি এবং ছোট ভাই আজিজুল ইসলাম লায়ন্স স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

এ ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নিবাস চন্দ্র মাঝি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। অর্থ-সম্পদ নিয়ে পূর্ব শত্র“তা বা ব্যক্তিগত কোন বিরোধের জের ধরে এটি ঘটানো হয়েছে। তবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে প্রবেশের পর তাদের চিনে ফেলার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। কিন্তু বিষয়টিকে তিনি শুধুমাত্র ডাকাতির জন্য বলে মানতে রাজি হননি। তবে দ্রুত ঘটনার ক্লু উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের বিষয়ে আশ্বস্ত করে তিনজনকে আটকের কথা জানান তিনি।

তবে লবনচরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সরদার মোশারফ হোসেন চারজনকে আটকের কথা স্বীকার করে বলেন, প্রতিবেশি হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় নেয়া হয়েছে।
এদিকে, ডাকাতদের হাতে জোড়া হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশ এলাকার মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা একনজর দেখতে ওই বাড়িতে ভিড় করছেন।