খুলনায় মহিলা কাউন্সিলরের পুত্রকে গুলি করে হত্যা। পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার


474 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনায় মহিলা কাউন্সিলরের পুত্রকে গুলি করে হত্যা। পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার
আগস্ট ১৩, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ২ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর সাহিদা বেগমের ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম ওরফে নজু (২৭)কে মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাত সাড়ে দশটায় খুলনা যশোর মহসড়কের নতুন রাস্তা মোড়ের অদুরে নজুকে হত্যাকরে ফেলে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ নজুর কোমর থেেেক একটি চায়না পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার নিহতের পিতা দৌলতপুর বেবীটেক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সোহরাব হোসেন দাদো বাদী তিন জনকে আসমী করে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। এ হত্যা কান্ডের ঘটনায় দৌলতপুর থানার পুলিশ আসামীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রাখলেও কাওতে গ্রেফতার করতে পারেনি।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে নজু নতুন রাস্তার মোড়ে আড্ড মারছিল। এ সময় হত্যাকারীদের মধ্যে কেও একজন নজুকে ফোন করে ডেকে ডেকে নিয়ে যায়। নতুন রাস্তা মোড় ও বিজিবি ক্যাম্পের মাঝামাঝি এলাকায় বরফ কলের সামনে একটু নির্জন যায়গায় নজুর মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে। গুলিটি মাথার বামপাশ থেকে ঢুকে মাথার পিছন থেকে বের হয়ে যায় ফলে নজু ঘটনা স্থলে মৃত্যু বরণ করে। পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তর জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বৃহস্পাতিবার ময়না তদন্তশেষে নজুর লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার পর আসরের নামাযের  পরে নজুকে গোয়ালখালি কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানায় গত মঙ্গলবার দৌলতপুর পাবলা এলাকার চিহৃত মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের সাথে নজুর গোন্ডগোল হয়। একপার্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারমারির ঘটনা ঘটে। এতে নজুর মাথা ফেটে যায়। এ ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দৌলতপুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, নিহত নজুর বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানাসহ খুলনার বিভিন্ন থানায়  একাধীক মামলা রয়েছে। হরতাল অবরোধে গাড়ি ভাংচুর ও বোমা বিস্ফোড়নসহ বিএনপির নাশকতা মামলায় আটক করা হয়েছিল। সম্প্রতি নজু জেল থেকে বের হয়ে সোহেলর সাথে বিরোধে জড়ায়। তিনি বলেন সন্ত্রাসীরা পুর্ব পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যকান্ড ঘটিয়েছে। নিহতের পিতা বাদী হয়ে মাদক ব্যবসায়ী সোহেল, সেলিম ওরফে ডাকাত সেলিম ও তাইজুল ইসলাম রাজু ওরফে ভাগ্নে রাজুকে এজাহার নামীয় এবং আরো ৫/৬ জনকে আজ্ঞাত নামা আসামী করে মামলা দায়ের করেছেন বলে পুলিশ জানায়। তবে হত্যান্ডর সময় নজুর কোমর থেকে উদ্ধারকৃত পিস্তলটি নজুর না বলে তার মা সাহিদা বেগম জানান। তিনি বলেন হত্যাকান্ডর মোটিভ অন্যদিকে ঘোরাতে নজুর কোমরে পিস্তল রেখে চক্রান্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপরে ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, পিস্তলটি উদ্ধার করার পর আলমত হিসেবে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন পরিক্ষা, নিরিক্ষা ও ঘটনার সত্যতা গভির ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।