খুলনায় শিশু রাকিব হত্যার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শরীরে নির্যাতনের ১১ স্থান চিহ্নিত


462 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনায় শিশু রাকিব হত্যার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে শরীরে নির্যাতনের ১১ স্থান চিহ্নিত
আগস্ট ৮, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
খুলনায় শিশু রাকিব হাওলাদারকে পৈশাচিক নির্যাতনে তার শরীরের ভেতর এবং বাইরের ক্ষতিগ্রস্থ ১১টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। নিহত হওয়ার পর লাশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে এসব স্থান চিহ্নিত করা হয়। রিপোর্টে শরীরের অভ্যন্তরে (গলা থেকে মলদ্বার পর্যন্ত) অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, ক্ষুদ্রান্ত ও বৃহদান্ত এবং প্রশ্রাবের থলি ফেঁটে যাওয়াকেই মৃত্যুর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন শিশু রাকিবের লাশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ময়নাতদন্ত রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছেন। রোববার ডাকযোগে রিপোর্টটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ কমিশনারের কাছে প্রেরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ময়নাতদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, কম্প্রেসার মেশিনের প্রচন্ড বাতাসের আঘাতে রাকিবের মলদ্বার, নাড়ি, ক্ষুদ্রান্ত, বৃহদান্ত ও প্রশ্রাবের থলি ফেঁটে যায়। এতে পেটের ভেতরে অতিমাত্রায় রক্তক্ষরণ হয়। রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়। পেটের মধ্যে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া প্রচন্ড বেগে বাতাস ভেতরে প্রবেশ করায় শিশুটির ফুসফুস চুপসে এবং দু’ হাতের ১০টি আঙ্গুল ও কবজি এবং দু’ পায়ের গোড়ালিতে কালসিরা (রক্ত জমাট) হয়ে যায়।
ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুতকারী ডা. ওয়াহিদ মাহমুদ রবিন শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাইজিংবিডিকে জানান, বাতাসের আঘাতে শিশু রাকিবের পেটের মধ্যে মলদ্বার থেকে গলা পর্যন্ত ১১ ফুট স্থানে রক্ত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। রিপোর্ট প্রস্তুত হলেও শনিবার সরকারি ছুটি থাকায় রোববার তিনি ডাকযোগে রিপোর্টের কপি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ কমিশনারের কাছে প্রেরণ করবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ৩ আগস্ট মোটরসাইকেলে হাওয়া দেয়া কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ শিশু রাকিবের মলদ্বারে ঢুকিয়ে তার পেটে হাওয়া দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের মোটর সাইকেল গ্যারেজ শরীফ  মোটর্সের মালিক শরীফ, তার মা বিউটি বেগম এবং সহযোগী মিন্টু মিয়াকে ক্ষুব্ধ জনতা গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।