খুলনায় সোহাগ হত্যার বিচার দাবিতে মানব বন্ধন ওসি’র হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাদি !


416 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনায় সোহাগ হত্যার বিচার দাবিতে মানব বন্ধন ওসি’র হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বাদি !
জুলাই ২৯, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা ব্যুরো :
সোহাগ খলিফা হত্যাকান্ডের প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতার এবং হত্যাকারীদের সহায়তার অভিযোগে বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্লা’র শাস্তি দাবি করে বুধবার খুলনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানব বন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন সহায়তা  কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এ মানব বন্ধন চলে।
মানব বন্ধন শেষে একই দাবিতে পুলিশ সুপারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি পেশ করা হয়। প্রকৃত খুনীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় ওসি’র অব্যাহত হুমকিতে নিহতের পিতা ও মামলার বাদি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে স্বারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়।
স্বারকলিপিতে নিহতের পিতা ও মামলার বাদি আব্দুল বারিক খলিফা উল্লেখ করেন, গত ১৩ জুলাই রাতে তার ছোট ছেলে সোহাগ খলিফা স্থানীয় আলুতলা খেয়াঘাটে যায়। সেখানে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিবেশি লিয়াকত সোহাগকে তার দোকানে বসিয়ে কৌশলে বিষ মিশ্রিত রুটি ও চা পান করায়। যা  বাদির বড় ছেলে সুমন ঘেরে যাওয়ার পথে দেখতে পায়। কিন্তু সে বুঝতে না পেরে চলে যায়। এক পর্যায়ে সোহাগ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে দোকানের পেছনে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ পুটিমারি বিলে ফেলে দিয়ে আসে। পরবর্তীতে হত্যাকারীরাই ছেলে নিহত হওয়ার ঘটনায় জিডি করার কথা বলে তাকে বটিয়াঘাটা থানার ওসি’র কাছে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে সেখানে আগে থেকে টাইপকৃত একটি কাগজে তাকে স্বাক্ষর করতে বলা হয়। লেখাপড়া না জানায় তিনি স্বাক্ষর করলে ওসি মনিরুজ্জামান মোল্লা কাগজটি রেখে দিয়ে বলেন, ‘যান জিডি হয়ে গেছে’। পরদিন বারিক খলিয়া জানতে পারেন তার ছেলে হত্যাকান্ডের ঘটনায় নিরীহ ১৫ জনের নামে মামলা হয়েছে। মূলত: হত্যাকান্ডের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ওসি মনিরুজ্জামান মোল্লা’র যোগসাজসে প্রকৃত হত্যাকারীদের আড়াল করতেই ওই মামলাটি করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি প্রকৃত খুনীদের চিহ্নিত করে গত ২৭ জুলাই বটিয়াঘাটা উপজেলার শান্তিনগর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু লিয়াকত হোসেন বয়াতি, জামাল হোসেন বয়াতি, সোহাগ বয়াতি ও সওকত বয়াতির নাম উল্লেখ করে খুলনার নালিশী আমলী আদালত ‘গ’ অঞ্চলে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় বটিয়াঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্লা’র বিরুদ্ধেও সন্ত্রাসীদের সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। এ কারণে ওসি প্রতিনিয়ত বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে হুমকি দিচ্ছেন। ফলে তিনি পলাতক জীবন-যাপন করছেন বলেও অভিযোগ করেন। তবে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান উপস্থিত না থাকায় তার প্রতিনিধি হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সি, এ হালিম স্বারকলিপি গ্রহন করে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।
এর আগে আসক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মানব বন্ধনে এলাকার দু’ শতাধিক নারী পুরুষ সোহাগ খলিফা হত্যাকান্ডের প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতার এবং পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্লা’র শাস্তি দাবি করেন। এতে সংস্থার উপদেষ্টা আব্দুস সালাম মন্টু, এ্যাড. মো. লিটন, মো. হাতেম, নিহত সোহাগের পিতা আব্দুল বারিক খলিফা প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।