খুলনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শামসুর রহমানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


418 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা শামসুর রহমানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নভেম্বর ১, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পাইকগাছা প্রতিনিধি :
খুলনা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠতা শামসুর রহমানের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ১৯১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার মটবাটি গ্রামের এক স¤্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন । তার পিতা ও পিতামহ ছিলেন অত্র এলাকার শিক্ষিত, প্রজ্ঞাবান ও ধার্মিক ব্যক্তিত্ব।

যুবক বয়সেই শামছুর রহমানের চিন্তা ভাবনা ছিল অবহেলিত সমাজের উন্নয়ন। দেশত্ববোধ আর অসহায় মানুষের কল্যানে কিছু করবার মানষিকবোধ। এরই ধারাবাহিকতায় সাংবাদিকতা পেশায় নিজেকে আতœনিয়োগ করেন শামছুর রহমান। এরপর সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষে তৎকালীন তিনি কয়েক জন সাংবাদিক বন্ধুকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন “খুলনা প্রেসক্লাব” এবং তিনি তার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন। এজন্য তার মৃত্যুর কয়েক বছর পূর্বে খুলনা প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে সাংবাদিক গণসংবর্ধনা প্রদান করা হয়। তিনি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কথা যাতে দেশে-বিদেশের, বিশেষতঃ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের মানুষের দৃষ্টিগোচর হয় সে জন্য তিনি কিশোর বয়স থেকে শুরু করেন সাংবাদিকতা। মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়া কালীন সময়ে উপমহাদেশের বিখ্যাত “আনন্দবাজার” পত্রিকায় তার লেখা ছাপা হতো। এরপর তিনি “পাকিস্তান অবজারভার” ইংরেজী দৈনিকে এবং এসোসিয়েট প্রেস অব পাকিস্তান (এপিপি) এর খুলনা আঞ্চলিক প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি কিছুদিন কৃষি বিভাগে সরকারী চাকুরিতে যোগ দেন। কয়েক বছর পর তিনি সরকারি চাকুরি ছেড়ে দিয়ে একটি পত্রিকা প্রকাশ করার সংকল্প করেন। ১৯৫০ সালে তিনি খুলনা থেকে “সাপ্তাহিক তওহীদ” নামক একটি পত্রিকা প্রকাশ শুরু করেন। তৎকালীন সময়ে উক্ত পত্রিকাটি (অধুনা লুপ্ত) অত্র অঞ্চলে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে।

তিনি সুদীর্ঘ ২২বছর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মুহাঃ শামসুর রহমান দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা “মুসলিম এইড লন্ডনের” বাংলাদেশ শাখার চেয়ারম্যান হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। খুলনার পাইকগাছায় তার প্রতিষ্ঠিত সিরাতুল হুদা হাফিজিয়া মাদ্্রাসা ও এতিমখানা এবং হোমিও দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র এখনও পরিচালিত আছে।

সাংবাদিকতার সুবাদে তিনি তৎকালীন সময়ের জাতীয় নেতাদের সংস্পর্শে আসার সুযোগ পান। তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে-ই-বাংলা এ, কে,এম ফজলুল হক, খাজা নাজিমুদ্দিন, খান এ সবুর ইত্যাদি প্রভাবশালী নেতাদের সন্নিধ্য লাভ করেন রাজনীতিক, সাংবাদিক ও সমাজসেবার অন্যতম ব্যক্তিত্ব মুহাঃ শামসুর রহমান। এছাড়াও তিনি ১৯৩৯ সালে কলকাতার ইসলামিয়া কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব ডিগ্রী (বি.এ) অর্জন করার পর প্রথমে ভারতের মেদিনীপুর জেলায় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রধান শিক্ষকের পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাচেলর শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তিনি ব্যাকার হোস্টেলের ছাত্রদের নিয়ে “কন্টাই রিলিফ কমিটি” গঠন করেন এবং তিনি সে কমিটির সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।

এ সময় তিনি গ্রামের দরিদ্র মানুষের দুরাবস্থা দেখে তা নিরসনের জন্য “পল্লী মঙ্গল” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তোলেন এবং গ্রামীণ মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে এ সংগঠনটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অতি শৈশবে তিনি নিজ গ্রামে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে একটি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন যা পরবর্তীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে চালু রয়েছে। স্থানীয় হাইস্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার অনেক অবদান আজও স্বীকৃত।

তিনি ১৯৬২ সালে খুলনাÑসাতক্ষীরার (পাইকগাছা, কয়রা, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর)  পাঁচটি উপজেলা মিলে একটি প্রভিন্সের এমএনএ নির্বাচিত হন। তিনিই যশোর থেকে সাতক্ষীরা ও খুলনা থেকে সাতক্ষীরা মহাসড়কের জন্য জাতীয় পরিষদে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে জাতীয় প্রতিরক্ষাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি সংসদে দৃঢ়তার সাথে বক্তব্য দেন। তার ক্ষুরধর ও মেধাবী বক্তব্যের কারনে যোগাযোগ মন্ত্রী তার বিরোধী মত থেকে সরে এসে এমএনএ শামসুর রহমানের প্রস্তাব সংসদে পাস করে মহাসড়কটির প্রাথমিক কাজ শুরু করতে বাধ্য হন। ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক, সাংবাদিকতা ও সমাজ সেবায় অত্যন্ত সৎ, স্বচ্ছ জীবন-যাপনকারী শামসুর রহমান ২০০৮ সালের ২ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন।