খুলনা মহানগর বিএনপি’র সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীন কোন্দল চরমে


334 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীন কোন্দল চরমে
অক্টোবর ৭, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওযাহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
খুলনা মহানগর বিএনপি’র সম্মেলনকে সামনে রেখে দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। মূলত: সম্মেলনের প্রথম ধাপে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড সম্মেলন করতে গিয়েই কোন্দলের সূত্রপাত। নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এতে করে দলের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মেনে সপ্টেম্বর থেকে খুলনা মহানগর বিএনপি’র কমিটি পূণর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ইতিমধ্যে ৬টি ওয়ার্ডে সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি ওয়ার্ডে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মহানগ’র বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সমর্থক বলে অভিযোগ রয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নগরীর ১৮ ও ২৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ দুটি ওয়ার্ডে সিলেকশনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাফিজুর রহমান মনিকে সভাপতি ও শফিকুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে বদরুল আনাম খান সভাপতি ও মেজবা উদ্দিন মিজু সম্পাদক হয়েছেন। ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ১৯ নম্বর ওয়ার্ড সম্মেলনে সুলতান আহমেদকে সভাপতি ও সরদার রবিউল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। ৩ অক্টোবর ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আহসান উল্লাহ বুলবুলকে সভাপতি ও মিজানুর রহমান খোকনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়।

কিন্তু তীব্র বিরোধীতার কারণে ৯ নম্বর ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা যায়নি।  ৫ অক্টোবর ২৫ নম্বর ওয়ার্ড সম্মেলনে নজরুল ইসলাম বাবুকে সভাপতি ও আনিসুর রহমান আরজুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়।
পদ না পাওয়া নেতাকর্মীদের অভিযোগ, নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র মানা হয়নি। ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করার কথা থাকলেও মহানগর সভাপতি সেটি করছেন না, বরং তার পছন্দের অনুসারীদের দিয়ে কমিটি গঠন করছেন। ফলে ত্যাগী নেতাকর্মীরা মূল্যায়িত হচ্ছেন না। এর বিরূপ প্রভাব দলের উপর পড়বে। দল ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

১৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা পকেট কমিটি চাই না, ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন চাই’।
৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র কাউন্সিলর মাসুদ গাজী বলেন, গত ৩ অক্টোবর ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফকরুল আলম পূর্বের কমিটি চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাউন্সিলরদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা কমিটি গঠন স্থগিত করতে বাধ্য হন। এ ওয়ার্ডের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী বাবুকে বহিস্কার করা হয়েছিলো। আর সাধারণ সম্পাদক কাজী শাহনেওয়াজ নিরু ধর্ষণ মামলার আসামি। কাজেই এই কমিটি ফের চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হলে তা মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মেনে নেবে না।
মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেভাবে সম্মেলন হওয়া উচিত সেভাবে হচ্ছে না। মহানগর সভাপতি গঠনতন্ত্র মানছেন না। সম্মেলনে করতে গিয়ে তিনি কোন সংবিধান খাটাচ্ছেন তা আমি জানি না। বরং কাউন্সিলের নামে মঞ্জু সমর্থক গোষ্ঠী গঠন করা হচ্ছে। ফলে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে যে উৎসব হওয়ার কথা তা হচ্ছে না। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে কোন উৎসাহ নেই।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক সামছুজ্জামান চঞ্চল বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সভাপতি বা সম্পাদক পদে ৪-৫ জন প্রার্থী থাকলে তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সমঝোতা করা হচ্ছে। অনিয়ম হলে লিখিত আপত্তি পড়তো। কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। তিনি বলেন, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের সম্মেলন শেষ করা হবে। এরপর কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী নগরীর ৮ থানা বিএনপি’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

এ ব্যাপারে মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলীয় চেয়ারপার্সন  বলেছেন, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন সেই সব ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আমরা সে নিদের্শনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। সেই আলোকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের কমিটিতে আনা হবে। এক্ষেত্রে সরাসরি ভোট বা কাউন্সিল হওয়ার কোন সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০০৯ সালে খুলনা মহানগর বিএনপি’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সভাপতি ও মনিরুজ্জামান মনিকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করা হয়।