খুলনা শিপইয়ার্ডে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী


373 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনা শিপইয়ার্ডে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজের উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৫ খুলনা বিভাগ জাতীয়
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
মাত্র দুই বছর আগে পাঁচটি ছোট যুদ্ধজাহাজ (পেট্রোল ক্রাফট)  তৈরি করে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন অধ্যায় শুরু করেছিল খুলনা শিপইয়ার্ড। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার বড় আকারের অত্যাধুনিক আরো দুটি যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ কাজ শুরু করছে সংস্থাটি। সশস্ত্র বাহিনীতে এগুলো লার্জ পেট্রোল ক্রাফট বা এলপিসি নামে পরিচিত। দেশের মাটিতে বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ এটাই প্রথম। আর সেই যুদ্ধজাহাজের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর খুলনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।

শিপইয়ার্ড সূত্র জানায়, জাহাজ নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালের ৩০ জুন নৌবাহিনীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করে খুলনা শিপইয়ার্ড। প্রতিটি জাহাজের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। একই ধরনের দু’টি এলপিসি চীন থেকে তৈরি করতে খরচ হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, লার্জ পেট্রোল ক্রাফট প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬৪ দশমিক ২ মিটার এবং প্রস্থ ৯ মিটার। এর গভীরতা হবে ৪ মিটার। সমুদ্রপথে ঘণ্টায় ২৫ নটিক্যাল মাইল বেগে চলবে। জাহাজে ৭০ জন একসাথে থাকতে পারবেন। শুরুর দুই বছরের মধ্যে যুদ্ধ জাহাজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে। চীনের যুদ্ধজাহাজ বিশেষজ্ঞরা এতে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছেন।
জানা গেছে, এ বছরের শুরতে নৌবাহিনীর জন্য দু’টি এলপিসি কেনার বিষয় আলোচনা হলে শিপইয়ার্ডের পক্ষ থেকে খুলনায় জাহাজ নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়। ইতিপূর্বে এলপিসিগুলো চীন থেকে তৈরি করা হত। তবে দেশের মাটিতে এত বড় উদ্যোগ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনেকে। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ নৌবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সুপারিশে এলপিসি নির্মাণের দায়িত্ব দেয়া হয় খুলনা শিপইয়ার্ডকে ।
খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এস. ইরশাদ আহমেদএ প্রতিনিধিকে জানান, দেশের মাটিতে তৈরি যুদ্ধজাহাজ বিদেশ থেকে আমদানির চাইতে অনেক বেশি সক্ষমতা সম্পন্ন হবে। লার্জ পেট্রোল ক্রাফট হলেও এগুলোতে করভেটের (আরও বড় আকৃতির যুদ্ধজাহাজ) অধিকাংশ সুবিধা এখানে থাকবে। থাকবে স্বয়ংক্রিয় মিসাইলসহ অত্যাধুনিক সব যুদ্ধাস্ত্র। আরও থাকবে একটি মাল্টি রোল গান, একটি সিঙ্গেল ব্যারেল গান, দুটি ট্রিপল টুবার টর্পেডো লাঞ্চার, দু’টি নেভিগেশন রাডার, একটি এয়ার অ্যান্ড সারফেস সার্চ রাডার, একটি ট্রাকিং রাডার এবং একটি হাল মাউন্টেড সোলার থাকবে। এই এলপিসি শত্রুপক্ষের সাবমেরিন সনাক্ত এবং তার ওপর আক্রমণ করতে সক্ষম। এটি দিয়ে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় টহলও দেয়া যাবে।
তিনি বলেন, যুদ্ধ জাহাজের পে¬ট, ইঞ্জিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আমদানি করা হবে। শিপইয়ার্ডের ২৫০ জন শ্রমিক ও প্রকৌশলী জাহাজ নির্মাণ কাজে অংশ নিচ্ছেন। চীনের বিশেষজ্ঞরা এখানে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দিচ্ছে।