খুলনা সংবাদ ॥ ডুমুরিয়ার শাহপুর-মধুগ্রাম কলেজ সরকারীকণের ঘোষনা : এলাকায় উল্লাস


607 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
খুলনা সংবাদ ॥ ডুমুরিয়ার শাহপুর-মধুগ্রাম কলেজ সরকারীকণের ঘোষনা : এলাকায় উল্লাস
জুলাই ২৪, ২০১৫ খুলনা বিভাগ
Print Friendly, PDF & Email

খুলনা প্রতিনিধি :
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর-মধুগ্রাম কলেজটি জাতীয়করণের ঘোষনা দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাবিদ নারায়ন চন্দ্র চন্দ’র হাতে পৌছেছে।
ডুমুরিয়ার সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত মহাবিদ্যালয়টি সরকারীকরণের ঘোষনা দেয়ায় এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ঊল্লাস দেখা দিয়েছে। সরকারীকরণের ঘোষনা দেয়ায় শাহপুর মধুগ্রাম কলেজে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাবিদ নারায়ন চন্দ্র চন্দকে শুক্রবার সকালে তাৎক্ষণিক সম্বর্ধনা দেয়া হয়।
সম্মর্ধনার জবাবে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে শাহপুর মধুগ্রাম কলেজকে জাতীয়করণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই কলেজটি ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনের সময়ে ওই এলাকার মানুষের ঐকান্তিক চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালিন সময়ে কলেজের ছাত্র শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ও অবদান রয়েছে। কলেজটি সরকারীকরণের ফলে কলেজে শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
শাহপুর মধূগ্রাম করেলেজর অধ্যক্ষ মো: আমিনুর রহমান বলেন, ডুমুরিয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ডুমুরিয়ায় একটি কলেজ সরকারীকরণের। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় কলেজটি জাতীয়করণের ঘোষনা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী কলেজের আবেদনের সাথে নিজস্ব ডিও লেটার (ডিমান্ড অর্ডার) দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদেও সাবেক চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হাদী সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা খুলনার উন্নয়নে যথেষ্ঠ আন্তরিক। তারই অংশ হিসেবে এই কলেজটি জাতীয় করণ করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তিনি এ জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা  , স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাবিদ নারায়ন চন্দ্র চন্দকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয় সংসদ সদস্য  মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিক্ষাবিদ নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, ডুমুরিয়ার সবচেয়ে প্রাচিনতম এই কলেজটি। সে কারণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কলেজটি জাতীয়করন করা হয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছরের ৬ মে এ সংক্রান্ত আবেদনে ব্যক্তিগতভাবে ডিও লেটার দিয়েছিলাম। প্রায় আড়াই মাস পর কলেজটি জাতীয় করণের ঘোষনা দেয়া হল। তিনি বলেন, ডুমুরিয়া সদরের ডুমুরিয়া কলেজ এবং শহীদ স্মৃতি মহিলা মহাবিদ্যালয়টি যাতে দ্রুত জাতীয়করণ করা হয় এ জন্য প্রধানমন্ত্রীর সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করব। তিনি বলেন, এই কলেজ দুটিও জাতীয়করণের জন্য ডিও লেটার দিয়েছি।
ঊল্লেখ্য শাহপুর মধূগ্রাম কলেজটি ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে এটি একাডেমিক স্বীকৃতি ( প্রশাসনিক অনুমোদন) পায়। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষক রয়েছেন ৭৩ জন, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে ১৩ জন। কলেজে বাংলা ও একাউন্টিংক বিষয়ে সম্মান শ্রেণী, স্নাতক, উচ্চ মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা (বিএম শ্রেণী) ,  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম চালু রয়েছে। কলেজ ক্যাম্পাসটি ১৩ একর জমির উপর স্থাপিত।

ডুমুরিয়া অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বীজতলা ॥ বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বীজ

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি:
শুরুহয়েছে আমন চাষাবাদের মৌসুম। চলছে বীজতলায় বীজ বপন ও চারা উৎপাদনের কাজ। কিন্তু চাষীরা উন্নতমানের ঊফসী জাতের ধানের বীজ পাচ্ছেন না। বাজারে ঊফসী জাতের যে বীজ ধান পাওয়া যাচ্ছে তা মান সম্মত নয় বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
এদিকে অবিরাম বর্ষণে খুলনার নয় উপজেলায় আমন চাষের জন্য তৈরী বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। দ্বিতীয় দফা বীজতলা তৈরী কওে চারা উৎপাদন দুরহ হয়ে পড়েছে। কৃষকেরা ঘরে থাকা বীজ দিয়েই আমনের চারা উৎপাদনের জন্য বীজতলায় বুনেছে। কিন্তু সেই চারা ২/৩ইঞ্চি মাত্র লম্বা হওয়ার পর তা পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সকল বীজতলায় এখনও হাটুপানি। কবে নাগাদ পানি সরবে তা এখনও বলা কঠিন। অনেকে বীজতলায় উঁচু বাঁধ দিয়ে চারা রক্ষা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডুমুরিয়া উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র মন্ডল জানান, মাদারতলা বিলে তিনি ১৫ বিঘা জমিতে আমন আবাদ করেন। এবার সেখানে রোচন করতে ৩ মন (১২০ কেজি) বিভিন্ন জাতের ধান বীজ বুনেছিলেন। গত কয়েকদিনের লাগাতার বর্ষাও কারণে সেই বীজতলার উৎপাদিত পারা পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন,দেশী জাতের ধানের বীজ প্রতিবছর বাড়িতে সংরক্ষণ করতে হয়। যা সংরক্ষণে ছিল তা আগেই বপন করা হয়েছে। বাজারে বর্তমানে মানসম্মত বীজ পাওয়া যাচ্ছে না।
ডুমুরিয়ার ৭ নম্বর শোভনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল গণি জানান, শোভনার কযেকটি বিলে ব্যাপকহাওে আমন আবাদ হয়ে থাকে। সে সকল জমিতে আমন চাষের জন্য কৃষকরা বীজতলায় বীজ বপন করেছিলেন। কিন্তু তা পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার বিলগুলোর মাঝ দিয়ে বয়ে চলা খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। ভরাট হওয়া খালগুলো খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, যে খালগুলো এখনও বেঁচে আছে সেখানে অনেকে নেট পাটা দিয়ে ঘিরে মাছ চাষ করছে। ফলে সুষ্টু পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাচ্ছে না।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণের ফলে উপজেলার বিভিন্ন বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকের বীজতলা ডুবে গেছে। এ কারণে কৃষক বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এ উপজেলায় ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর ( ১ হেক্টর= ২.৪৭ একর) জমিতে আমন ধানের চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঊফসী জাতের ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টও ও স্থানীয় জাতের ২হাজার ৬৫০ হেক্টও নির্ধারন করা হয়েছে। শ্রাবেনের ১৫ তারিখ থেকে ভাদ্র মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আমনের চারা রোপন করতে হয়। কিন্তু এবার শুরুতে বৃষ্টি না হওয়ায় কৃষকেরা সময় মত বীজতলা তৈরী করতে পারেনি। দেরীতে বীজ বপন করায় চারা এখনও লম্বা হয়ে না পারায় বিলে পানি বেশী হওয়ায় ছোট চারা তলিয়ে গেছে। তিনি জানান, ডুমুরিয়ায় বিএডিসি থেকে মাত্র ৭৮.৬৬ মে.টন বীজ ধান বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যার মোট চাহিদার মাত্র ৭ভাগ।