গণভবনে বৈঠকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি : ইসি রফিকুল


400 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গণভবনে বৈঠকে আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি : ইসি রফিকুল
নভেম্বর ৩০, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

গণভবনে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়নি বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. রফিকুল ইসলাম। তবে বঙ্গভবন বা গণভবনে নির্বাচনি প্রচারণা চালালে অবশ্যই আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে এবং সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

গত ২৭ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বিএনপি এটাকে নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাবেক সেনা কর্মকর্তারা দেখা করে সমর্থন জানিয়েছেন। নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন। এখানে আমার কাছে মনে হচ্ছে না যে কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন হতে পারে।’

তফসিল ঘোষণার পর এ বৈঠক হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সরকারে আছেন। সংবিধান অনুযায়ী তিনি লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হলেও অধিষ্ঠিত নয় বলে ওই ধারার জন্য প্রযোজ্য হবে। এখন তার বাসভবন ছেড়ে তো তিনি যেতে পারবেন না। তাহলে এটা কোথায় করবেন। কারও সঙ্গে যদি দেখা করতে চান, তাহলে কোথায় দেখা করবেন?’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবন বা গণভবনে নির্বাচনি প্রচারণা চালালে অবশ্যই আচরণবিধি লঙ্ঘন হবে। আমরা তখন ব্যবস্থা নেব।’

কোনো রাজনৈতিক দলের চাপ অনুভব করছেন কি না— এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো চাপে নেই। নির্বাচন কমিশনের প্রতি উভয়পক্ষের দাবি-দাওয়া আছে। এসব দাবি তারা প্রকাশ করছেন। এর মধ্যে যতটুকু যৌক্তিক দাবি হবে, ততটুকু বিবেচনা করবো।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা না নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে যারা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি, তারা ইসি ও আদালতে প্রতিকার চাইতে পারেন। সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ উঠলে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসনে রদবদলের বিষয়ে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘সব ওসিকে, সব ডিসিকে বদলাতে বিশাল বাজেটের দরকার হবে। এতে সরকারের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়ে যাবে। আর সব ওলটপালট করে কি তাদের মধ্যে পেশাদারিত্ব আনা যাবে? যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সরকার নই, নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকালীন হোক বা সাধারণ হোক— একটা সরকার আছে। সেই সরকারের হাতেই নির্বাহী ক্ষমতা ন্যস্ত আছে। তাদের দায়িত্ব আমাদের পালনের কথা না। তবে নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কেউ প্রভাব বিস্তার করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার বিষয়ে ইসি রফিকুল বলেন, এক্ষেত্রে একমাত্র সুযোগ হচ্ছে পোস্টাল ব্যালট। যেদিন প্রার্থী চূড়ান্ত হবে, চেষ্টা করবো যত দ্রুত সম্ভব পোস্টাল ব্যালট ছাপিয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে দিতে। যিনি ভোট দিতে চাইবেন, তিনি রিটার্নিং অফিসারের কাছে আবেদন করবেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঠিকানাসহ খাম পাঠিয়ে দেবেন। পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর পরে ভোটার মার্কাটা চিহ্নিত করে পাঠাবেন।

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে কোনো দেশের গণতন্ত্রের জন্য এটা সুখবর। নির্বাচনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রকাশ। এটাকে স্বাগত জানাই এবং ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও বেশি বিকশিত হবে।’

ভোটে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি রফিকুল বলেন, সিইসি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।