গভীর রাতে এ কোন রূপে এম.পি. জগলুল


564 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গভীর রাতে এ কোন রূপে এম.পি. জগলুল
আগস্ট ১৪, ২০১৮ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

বিজয় মন্ডল ::

শ্যামনগরে গভীর রাতে এ কোন রূপে দেখা গেল সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার এমপিকে। সময় তখন রাত ১২ টা। চারিদিকে তখন প্রকৃতির নিস্তব্দতা। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন তখন গ্রামের খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। পোকামাকড়ের চিনচিন শব্দে মুখরিত চারপাশ। রাস্তাঘাট জনশুন্য।

এমন মূহুর্তে নিজ নির্বাচনী এলাকার অসহায় অনাহারে থাকা এক পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী ও কিছু নগত অর্থ নিয়ে হাজির হন এমপি জগলুল।

বিষয়টি জানাজানি হয় সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া সেই ভিডিওতে দেখা যায় কাঁধে চাউলের ব্যাগ আর হাতে মুরগি নিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২ টার সময় একজন গরীব অসহায় পরিবারের জীর্ণ কুঠিরের সামনে হাজির হয়ে পরিবারের সদস্যদের ডাকাডাকি করতে থাকেন এমপি জগলুল।

ডাকাডাকির একপর্যায়ে পরিবারের এক সদস্য বেরিয়ে আসলে তাকে উদ্দেশ্যে করে এমপি বলেন-

“শুনলাম তোমরা আজ না খেয়ে আছো। আমাকে একজন ফোন করে বললো। তাইতো আমি কিছু জিনিসপত্র নিয়ে এলাম তোমাদের জন্য। কিছু টাকাও এনেছি তোমরা পছন্দ মত কিছু কিনে নিয়ো। কয়েকদিন এগুলো খেতে লাগো, মমতাময়ী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আবার়ো চাল সহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে”

এসময় টর্চের আলোয় অসহায় পরিবারটির একমাত্র বসত ঘরের জীর্ণ অবস্থা দেখতে পান সাংসদ। তিনি এসময় তাদের আশ্বস্ত করে বলেন-

“আমি যত দ্রুত সম্ভব তোমাদের জন্য একটি ভালো ঘরের ব্যবস্থা করে দেবো। তোমাদের এই ভাঙা ঘরে আর থাকতে হবে না”

এরপর পরিবারটির কাছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য দোয়া ও আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। তারপর দরিদ্র মানুষটিকে তার মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করার অনুরোধ করেন তিনি।

নিজের অনুভূতি ব্যাক্ত করতে গিয়ে এমপি জগলুল হায়দার বলেন-

“তখন সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২ টা। বাসায় শুয়ে বিশ্রাম করছি। হঠাৎ মোবাইল ফোনটি বেজে ওঠে।
ফোন রিসিভ করে জানতে পারি শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের আমির আলী গাজীর পরিবারের সদস্যরা খাবারের অভাবে অর্ধাহারে এবং অনাহারে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

পরিবারটির জন্য মন কেঁদে ওঠে।
সংবাদ দাতাকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলি এবং তাদের জন্য খাবার নিয়ে এখনই আসছি বলে জানাই।

তারপর বাসা থেকে চাল, ডাল, তেল এবং পার্শ্ববর্তী ফার্ম থেকে মুরগী নিয়ে নিজে মোটরসাইকেল চালিয়ে রওনা হই।
সেখানে পৌঁছে দেখি সংবাদ দাতা ছেলেটি আমির গাজীর বাড়ির সামনে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।

তাকে সাথে নিয়ে খাবারের ব্যাগ নিজে কাঁধে নিয়ে উক্ত বাড়িতে যাই এবং তাদেরকে ঘুম থেকে ডেকে তুলি।
অসহায় পরিবারটির সদস্যদের কাছে খাবারগুলো দেই এবং নগদ আর্থিক সহায়তা করি।
তাদের জীর্ণ কুটির দেখে যতদ্রুত সম্ভব ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য কথা দেই।
তাদের কাছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য দোয়া চাই”

এসময় তিনি আরো বলেন- শুধু আজ বলে নয় বহু আগে থেকেই অসহায় মানুষের সেবা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি। আমার অজান্তে সংবাদ দাতা ছেলেটি সম্পূর্ণ ঘটনা তার মোবাইলে ধারণ করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।