গর্ভাবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন এবং করণীয়


596 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গর্ভাবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক পরিবর্তন এবং করণীয়
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক:
একজন মহিলার জন্য গর্ভবতী হওয়াটা যেমন আনন্দের তেমনি রোমাঞ্চকর। আনন্দ ও রোমাঞ্চের এ সময়টিতে কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্যের দিকে অত্যন্ত সতর্ক দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় একটু অসতর্কতায় স্বপ্নময় মা ডাক শোনার আশা ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

প্রথম তিন মাস : প্রস্রাব বা রক্ত পরীক্ষায় যদি বোঝা যায় আপনি সন্তান সম্ভবা তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। এ সময়ে অনেকের বমির ভাব হয়, বমিও হয়। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। খাবারে অরুচি তৈরি হয় বা নতুন কোনো খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে। এ সময়ে ফলিক এসিড সেবনে বাচ্চার মস্তিষ্ক সুগঠিত হয় এবং নিউরাল টিউব জটিলতা দূর হয়।

তিন থেকে পাঁচ মাস : প্রথম তিন মাসে যেসব খারাপ লাগছিল তার অনেকটাই দূর হয়ে যাবে। আরামদায়ক ঢিলেঢালা কাপড় পরুন। এ সময়টাতে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার বাচ্চা আপনার পেটের ভিতর নড়াচড়া করছে। আস্তে আস্তে বাচ্চার নড়াচড়া, ধাক্কাধাক্কি স্পষ্ট হবে।

পাঁচ থেকে সাত মাস : এ সময়ে আপনার পেট দ্রুত বাড়তে থাকবে। বাইরে থেকে দৃশ্যমান হবে আপনি গর্ভবতী। আগের চেয়ে ক্ষুধা বেড়ে যাবে। এ সময়ে সুষম খাবার খেতে হবে। যেমন রুটি, আলু, ভাত, মাংস, ডিম, দুধ, পনির, দুগ্ধজাতীয় খাবার, শস্যজাতীয় খাবার ইত্যাদি। এককথায় সহজে হজম হয় এমন খাবার খাবেন। এ সময় বেশি তেল চর্বিযুক্ত খাবার, ভাজাপোড়া পরিহার করুন। সবুজ পাতাযুক্ত সবজি, টমেটো, লেবু, আমলকী, বাদাম, খাবারযোগ্য হাড় ক্যালসিয়াম ও আয়রনের অভাব পূরণ করে।

সাত থেকে আট মাস : ভাবতে শুরু করুন আপনার বাচ্চার জন্য আপনি কি কি করতে চান। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছাতে শুরু করুন। আপনার আরও সন্তান থাকলে তাদের সঙ্গে সময় কাটান এবং নতুন অতিথির বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা দিন। একই রক্তের গ্রুপ সম্পন্ন বন্ধু বা আত্মীয় ঠিক রাখুন যিনি আপনাকে প্রয়োজনে রক্ত দিতে পারেন। হাঁটাহাঁটি সর্বোৎকৃষ্ট ব্যায়াম।

আট থেকে নয় মাস : যদি হাসপাতালে বাচ্চা প্রসব করান তবে আগে থেকেই কাপড় চোপড়, টাকা পয়সা, সেবাদানকারীর ব্যবস্থা করে রাখুন। পাশাপাশি বাড়ির বাচ্চাটি দেখাশোনার ব্যাপারটি নিশ্চিত করুন। প্রসব ব্যথা উঠার আগে প্রয়োজনীয় টেলিফোন নম্বর সংগ্রহে রাখুন। গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহগুলো অত্যন্ত দীর্ঘ মনে হয়। এ সময়ে এমন কিছু করুন যেন একঘেয়েমি না লাগে। তলপেটে শক্ত হয়ে আসা, কোমরের ব্যথা সামনে তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে যাওয়া, বারবার ব্যথা উঠা, পানি ভাঙা, রক্তমিশ্রিত স্রাব – প্রসব বেদনার লক্ষণ।

জেনে রাখা ভাল : গর্ভাবস্থায় সবকিছুর সঙ্গে মানিয়ে নিতে শরীরকে প্রচুর কাজ করতে হয়। কিছু পরিবর্তন আপনার কাছে অসুবিধাজনক মনে হতে পারে। যদি কোনো সমস্যা মারাত্মক হয়ে দেখা দেয় তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। বমিভাব প্রথমদিকের একটি সাধারণ সমস্যা তবে কেউ কেউ এতে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাচ্চা প্রসবে সহায়তার জন্য হাড় জোড়া ও মাংসপেশিগুলো এ সময় শিথিল হতে থাকে। এছাড়া মায়ের বহনকারী বাচ্চার ওজন এ ব্যথার কারণ।

লেখক : গাইনি বিশেষজ্ঞ, আনোয়ার খান, মডার্ন হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা।–সুত্র:-বাংলাদেশ প্রতিদিন।