গাবুরার উপকূল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ফাটল, আতংকে শতাধিক পরিবার


132 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গাবুরার উপকূল রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ফাটল, আতংকে শতাধিক পরিবার
মে ১৩, ২০২০ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

শ্যামনগর উপজেলার দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার উপকুল রক্ষা বাঁধের নাপিতখালী ও টেকেরহাট অংশে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। দিনে দিনে ফাটল বড় হতে থাকায় ও সংলগ্ন অংশের বাঁধ দেবে যাওয়াতে ঐ দুটি অংশে উপকুল রক্ষা বাঁধ পাশের নদীতে বিলীন হওয়ার শংকা তৈরী হয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা একাধিকবার ঝুঁকিপুর্ন এলাকা পরিদর্শন সত্ত্বেও ভাঙন রোধে কাজ শুরু না করায় বাঁধের পাশে বসবাসরত পরিবারগুলোতে আতংক দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে ৫ নং পোল্ডারের নাপিতখালী অংশে প্রায় ৩০০ ফুট এবং টেকেরহাট অংশে ২০০ ফুটের মত উপকুল রক্ষা বাঁধে জায়গা বিশেষ এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত ফেটে গেছে। কোন কোন অংশের বাঁধ আট থেকে দশ ইঞ্চি পর্যন্ত দেবেও গেছে। দুটি পয়েন্টের ফাটল ধরা ও দেবে যাওয়া অংশ দেখে সহজে অনুমান করা যাচ্ছে যেকোন মুহুর্তে সংলগ্ন অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

পাশের কপোতাক্ষ নদীর চর দেবে যাওয়াতে এমন অবস্থার তৈরী হয়েছে উল্লেখ করে স্থানীয়রা জানায় শুরুতে ফাটল কয়েক ইঞ্চি হলেও এক মাসের ব্যবধানে তা এক থেকে দেড় ফুটে আকার নিয়েছে। এখনই ভাঙন রোধে উদ্যোগ না নিলে যেকোন মুহুর্তে ঐ অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন শংকা তাদের।

নাপিতখালীর ফাটল ধরা অংশে বসবাসরত মিজানুর রহমান মোড়ল জানায় একমাস আগে হঠাৎ করেই পাশের চর নদীতে দেবে যাওয়ায় বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। দিনে দিনে ফাটল বড় হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন বাঁধ নদীতে বিলীন হলে মুহুর্তের মধ্যে সেখানকার বিশটির বেশী পরিবারের বসতঘর ভাঙনে চলে যাবে।
ভাঙনমুখে থাকা বসতঘরের মালিক আজিজুল হক ও ইস্রাফিল গাজী জানায়, আগের দু’বারের ভাঙনে জমি-জায়গা শেষ হয়ে গেছে। এবার নুতন ভাঙনে পড়লে শেষ সম্বল বসতঘর হারিয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিতে হবে।

টেকেরহাট অংশের ভাঙনমুখে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসকারী সিরাজুল ইসলাম জানায় প্রতিনিয়িত ভাঙন আতংকে রয়েছে তারা। ভাঙনমুখে থাকা বাঁধ কখন নদীতে বিলীন হয় সে উদ্বেগে পরিবারের লোকজনকে নিয়ে রাতে নির্ঘুম কাটাতে হচ্ছে।

ভয়াবহ ফাটল ধরা ও দেবে যাওয়া অংশের বাঁধ নদীতে বিলীন হলে কয়েক ঘন্টার মধ্যে গোটা গাবুরা ইউনিয়ন সাগরের পানিতে তলিয়ে যাবে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ বেশ কয়েকবার পাউবোর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেলেও বাজেট না থাকার কথা বলে অদ্যবধি ভাঙন ঠেকানোর কোন ব্যবস্থা নেয়নি। নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধিসহ ঝড়ো আবহাওয়া দেখা দিলে ঝুঁকিপুর্ন অংশের বাঁধ অবশিষ্ট থাকবে না বলেও শংকা তাদের।

স্থানীয়রা জানায় আইলার পর থেকে রাস্তার অভাবে মানুষ উপকুল রক্ষা বাঁধকে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করে। এছাড়া সুন্দরবন সংলগ্ন নদী বেষ্টিত গাবুরাকে ঘিরে থাকা কপোতাক্ষ নদীর তীব্র ঢেউ প্রতিনিয়ত আছড়ে পড়ছে উপকুল রক্ষা বাঁধে। এসব কারনে দিনে দিনে দুর্বল হয়ে পড়া বাঁধের চর হঠাৎ দেবে যাওয়াতে ঐ দুটি অংশের বাঁধ মারাত্বক ঝুকিপর্ন হয়ে পড়েছে।

গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ¦ মাসুদুল আলম বলেন, ভাঙন দিনে দিনে ভয়ংকর হয়ে উঠছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বালি ভর্তি বস্তা ডাম্পিং না করলে আইলার সময়কার মত গোটা গাবুরা আবারও সাগরের সাথে একাকার হয়ে যাবে। বাঁধ নদীতে বিলীন হলে মুহুর্তেই দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার প্রায় বিয়াল্লিশ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্ট পোল্ডারের দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, নাপিতখালী ও টেকেরহাটের ভাঙন খুবই মারাত্বক পর্যায়ে পৌছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। বাজেট ও নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই ভাঙন দেখা দেয়া ঐ দুটি অংশে কাজ শুরু করা হবে।

#