গাবুরার নাপিতখালীর ভাঙন কবলিত বাঁধের বেহাল দশা


206 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গাবুরার নাপিতখালীর ভাঙন কবলিত বাঁধের বেহাল দশা
অক্টোবর ২২, ২০২০ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

পাঁচ দিন আগে কপোতাক্ষ নদীতে বিলীন হওয়া গাবুরার নাপিতখালী অংশের ভাঙন কবলিত উপকুল রক্ষা বাঁধ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাধা যায়নি। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াইশ ফুট জায়গাজুড়ে রিং বাঁধ দেয়া হলেও তুমুল বৃষ্টির কারনে বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অনন্যেপায় হয়ে স্থানীয়রা ভাঙন কবলিত অংশ রক্ষায় পলিথিন জড়িয়ে দিয়ে নদীর ঢেউ থেকে বাঁধের বাইরের অংশ আঘাত মুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে বৃষ্টি শুরুর পাশাপাশি কাজ বন্ধ হওয়াতে ভাঙনমুখে থাকা বাঁধের অবশিষ্ট অংশ নুতন করে নদীতে বিলীন হওয়ার আতংকে পড়েছে স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ চরম দুঃসময়ে কতৃপক্ষ, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কোন সাড়া না পেয়ে নিজ উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন তারা। তবে পাউবো কতৃপক্ষের দাবি আপাতত স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কার্যক্রম চালালেও বালু সমস্যার সমাধান হলে নির্ধারিত ঠিকাদার ভাঙন কবলিত অংশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর কাজ শুরু করবে।
জানা যায় গত শনিবার মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে ১৫ নং পোল্ডারের উপকুল রক্ষা বাঁধের নাপিতখালী অংশে প্রায় ষাট ফুট জায়গা পাশের কপোতাক্ষ নদীতে বিলীন হয়। পরের দিন দুপুরের দিকে ভাঙন কবলিত ঐ অংশে জনৈক মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে আব্দুর রশিদের বাড়ি পর্যন্ত বাঁধের আরও প্রায় দেড়শ ফুট জায়গা খাড়াভাবে নদীতে ধসে গেলে গোটা এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। নদীতে জোয়ারের চাপ না থাকা সত্ত্বেও সে সময়ে নাপিতখালী ও পাশের্^খালী গ্রামের কিছু অংশ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হলেও স্থানীয়রা তাৎক্ষনিকভাবে মাটি ফেলে লোকালয়ে পানির প্রবেশ আটকে দেয়।
উল্লেখ্য দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা প্রায় তিরিশ কিঃমিঃ বাঁধের কোন একটি অংশ ভাঙলে গোটা জনপদের অর্ধ্ব লাখ মানুষ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। আইলার আঘাতে ধ্বংস হওয়ার পর ১৫ নং পোল্ডারের ঐ উপকুল রক্ষা বাঁধ সম্প্রতি বুলবুল ও আম্ফানের দু’দফা আঘাতে মারাত্বক ঝুঁকিপুর্ন অবস্থায় পৌছায়। সামান্য ঝড়-বৃষ্টি আর জোয়ারের চাপ বৃদ্ধি হলেই বাঁধের বিভিন্ন অংশ নদীতে বিলীন হয়ে সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়।
স্থানীয়রা জানায় রোববার থেকে টানা পাঁচ দিন দুই শতাধিক গ্রামবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নাপতিখালীর ভাঙন কবলিত বাঁধের ভিতর দিয়ে মাটি ফেলে রিং বাঁধ নির্মানের চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই শত ফুটের মত রিং বাঁধ নির্মিত হলেও ঝুঁকি এড়াতে আরও প্রায় দুই শত ফুট রিং বাঁধ নির্মান করতে হবে। তারা আরও জানান নদীর চর দেবে যাওয়াতে তারা ভিতরের চিংড়ি ঘের শুকিয়ে দিয়ে সেখান থেকে মাটি সংগ্রহ করে রিং বাঁধ নির্মানের চেষ্টা করছে। তবে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার থেকে কাজ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে- উল্লেখ করে তারা বলেন, গ্রামবাসী রীতিমত পানিতে ডুব দিয়ে মাটি কেটে এনে রিং বাঁধ তৈরীর চেষ্টা চালাচ্ছে। দুপুরের পর নদীতে তুফান ওঠায় পলিথিন দিয়ে বাঁধের বাইরের অংশ মুড়িয়ে দিয়ে ঢেউয়ের আঘাত থেকে মুল বাঁধ রক্ষার চেষ্টা চলছে বলেও তারা জানায়।
বসবাসের ঘরসহ বসতভিটা পর্যন্ত ভাঙন মুখে পড়েছে- জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, চাঁদা তুলে পাইলিং এর জিনিসপত্র কেনাসহ বহিরাগত শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। ‘ওয়াপদা’ কিছু প্লাষ্টিকের বস্তা ছাড়া অদ্যবধি কোন সাহায্য দিয়ে ভাঙন মেরামতে এগিয়ে আসেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, প্রশাসন কিংবা কোন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এখন পর্যন্ত ভাঙন কবলিত অংশ পরিদর্শনে আসেনি। অগত্যা নিজেরা আরও কিছু শ্রমিক ডেকে নিয়ে পাঁচ দিন ধরে কাজ করছি বলেও জানান তিনি।
ভাঙনমুখে বসবাসকারী মিলন হোসেন ও আজিজুল হক আপন জানান, হঠাৎ আকাশ ভারী হয়েছে। তুফান শুরু হওয়ায় নদীতে জোয়ারের চাপ বাড়ার শংকাও জেগেছে। এখনই ভাঙন কবলিত বাকি অংশে রিং বাঁধ দেয়া না হলে অতি জোয়ারের সৃষ্টি হলেই গোটা এলাকা প্লাবিত হবে।
‘বাতাস পুবে বইতে শুরু করেছে’- জানিয়ে আমির আলী জানান, ব্যাপক বৃষ্টির কারনে বৃহস্পতিবার দুপুরের আগে সবাই কাজ ছেড়ে উঠে গেছে। তবে দুপুরের জোয়ারের ভাব দেখে আবারও গ্রামের লোকজন ঝুঁড়ি কোদাল নিয়ে কাজে নামে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ থাকলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন কবলিত ঐ অংশে রিং বাঁধ নির্মান সম্ভব হতো বলেও দাবি তার।
গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম বলেন, শাররীক অসুস্থতার কারনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এলাকার বাইরে থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে ভাঙন কবলিত অংশে রিং বাঁধ নির্মানের জন্য চল্লিশ হাজার টাকা দিয়েছি। গত দুই মাসেরও বেশী সময় ধরে সংলগ্ন অংশ ভাঙছে বলে কতৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও বিষয়টি তারা গুরুত্ব না দেয়াতে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগর অংশের সাব-ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাশেদুর রহমান বলেন, ভাঙন কবলিত নাপিতখালী এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের জন্য ঠিাকাদার নিযুক্ত রয়েছে। বালুর অভাবে কাজ শুরু করা যায়নি। জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করা হয়েছে। বালু সমস্যার সমাধান হলে শুক্রবার থেকে সেখানে জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর কাজ শুরু হবে। জিও ব্যাগ ডাম্পিং হলেই বাঙন রোধ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সেকশন অফিসার ও ওয়ার্ক এ্যাসিসট্যান্টকে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

#