গাবুরা দ্বীপের মানুষ আর ত্রাণ চায়না


1236 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গাবুরা দ্বীপের মানুষ আর ত্রাণ চায়না
নভেম্বর ১২, ২০১৯ জাতীয় দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

* চাই টেকসই বেঁড়িবাধ,আশ্রয় কেন্দ্র ,সুপেয় পানি

* খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের বুলবুল দুর্গত এলাকা পরিদর্শন

এম কামরুজ্জামান, গাবুরা থেকে ফিরে :
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবন উপকূলবর্তী “গাবুরা” অনিরাপদ একটি বদ্বীপ। প্রমত্ত খোলপেটুয়া নদী ও কপোতাক্ষ নদ বেষ্টিত এই বদ্বীপের ১৫ টি গ্রামে ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। যে কোন দুর্যোগে এ জনপদের মানুষের আতঙ্কের কোন শেষ থাকে না। ২০০৯ সালের ঘুর্ণিঝড় আইলায় তান্ডবে গাবুরা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। আজও সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি এখানকার মানুষ। এরই মধ্যে গত শনিবার গভীর রাতে ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের ভয়াল ছোবল গাবুরা বদ্বীপকে আবারও লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। সাড়ে ৭ হাজার পরিবারের বসবাস ঝুকিপূর্ণ এই জনপদে। গাবুরা বদ্বীপে ১৫টি ঘর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই জরাজিন্ন। দুর্যোগের সময় ১০ হাজারের বেশি মানুষ এখানে আশ্রয় নিতে পারেনা। বাকী প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে অন্যত্রে সরিয়ে নিতে হয়। বেড়িবাঁধের অবস্থা খুবই নাজুক। ঘুর্ণিঝড়ের সময় তো দূরের কথা একটু ভরা জোয়ার উঠলেই এখানকার মানুষের আতঙ্কের আর শেষ থাকে না।

গাবুরা দ্বীপের মানুষ আর ত্রাণ চায় না। তারা চায় টেকশই বেঁড়িবাঁধ নির্মান , নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র, সুপেয় পানি এবং বিধ্বস্ত রাস্তাঘাট সংস্কার। খুলনা বিভাগীয় কমিশনার ড মো: আনোয়ার হোসেন হাওলাদা মঙ্গলবার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা এলাকায় ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিন পরিদর্শনে আসলে স্থানীয়রা তার কাছে সেই দাবিই জানালেন।

বিভাগীয় কমিশনার এ সময় দুর্গতদের উদ্দেশ্যে বলেন ‘সীমাবদ্ধতা বলে আমাদের আর কিছু নেই। কোন কিছুর অভাব আর আমাদের নেই। সরকারের পরিস্কার ঘোষণা যেখানে যা প্রয়োজন তা করতে হবে। গাবুরাসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষ যেকোন দুর্যোগে অনিরাপদে থাকে। সারা বছরই তাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক কাজ করে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মানে সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী বছর থেকে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মানের কাজ শুরু হবে। শুধু বেড়িবাঁধ নয়, ঝুকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সর ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বুলবুলের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে সচ্ছতা ও জবাবদিতিা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জেলা প্রশানকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, ত্রান নিয়ে যেন কোন ধরনের অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ না ওঠে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী হয় সেজন্য স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে’।

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার নদীপথে গাবুরা, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ঝুকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদে গেলে দুর্গত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ সেখানে ভীড় জমায়। বিভাগীয় কমিশনার এ সময় তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাঁতিনাখালী এলাকার ১০০ জন ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন। বিকেলে তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভায় যোগদেন।

শ্যামনগরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল, শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান এস এম আতাউল হক দোলন, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো: কামরুজ্জামান, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর আলম, সাবেক চেয়ারম্যান স.ম লেলিন, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার বিভাগীয় কমিশনারের সাথে ছিলেন।

এদিকে, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের ছোবলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ তাদের বাড়িঘরে ফিরে আবারও ঘুরে দাঁড়ানোর জল জীবনযুদ্ধে নেমে পড়েছে। গাবুরা গ্রামের ইদ্রিস আলী (৬০), ফারুক হোসেন (৫০), চাঁদনিমুখা গ্রামের লিয়াকত আলী গাজী (৬৫) জানান, জরুরী ভিত্তিতে তাদের বাড়ি-ঘর নির্মান সামগ্রী প্রয়োজন। তাদের চিংড়ি ঘের, জমির ফসল সবই নষ্ট হয়েগেছে। অনেকেই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: কামরুজ্জামান জানান, বুলবুলের আঘাতে অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি মাটিতে পড়েগেছে। এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগ কাজ করছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরো ৩ থেকে ৪দিন সময় লাগবে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের আঘাতে পুরো জেলার মানুষ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কি পরিমান ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারনের জন্য মঙ্গলবার সকাল থেকে জেলার ৭৮টি ইউনিয়নে কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষয়ক্ষরিত প্রকৃত চিত্র নিরুপন করে সরকারের কাছে পাঠানো হবে। তিনি বলেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরীর ক্ষেত্রে কোন ধরনের কারচুপির অভিযোগ উঠতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

#