গুপ্তহত্যায় জড়িতদের অবশ্যই বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী


422 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গুপ্তহত্যায় জড়িতদের অবশ্যই বিচার হবে: প্রধানমন্ত্রী
মে ২০, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক
দেশে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সাম্প্রতিক গুপ্তহত্যায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘বিছিন্ন যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলো পরিকল্পিত। যুদ্ধাপরাধীর বিচার বানচালের ষড়যন্ত্রেই এসব ঘটানো হচ্ছে। কিন্তু যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের এরইমধ্যে আমরা গ্রেফতার করতে শুরু করেছি। তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করা হবে।’

বৃহস্পতিবার রাতে বুলগেরিয়ার রাজধানী সোফিয়ায় হোটেল মারিনেলায় দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের

পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

২০১৩ ও ২০১৪ সালে এবং গত বছরের প্রথম তিন মাস দেশজুড়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস, নৈরাজ্যের চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘অশুভ চক্র সারাদেশে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে, মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ এবং ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পণ্ড করার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার শক্ত হাতে এই ঘৃণ্য অপরাধ দমন করতে সমর্থ হয়।’

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই প্রথম ১৯৭৩ সালে দেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছিলেন।’

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড-পরবর্তী বাংলাদেশের পরিস্থিতিতে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যা করার পর অবৈধভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীরা সেই বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, সেই পরবর্তী সরকারগুলো কারাগারে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্ত করে দিয়ে তাদের রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত করে। তাদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীও বানায়। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার আবার সেই বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে। যদিও অনেকেই এই বিচার নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই আদালতের রায়ে যাদের ফাঁসি হয়েছে তাদের শাস্তি নিশ্চিত করেছি। যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এদের বিচারে আমরা বিশেষ কোনো বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করিনি। স্বাভাবিক বিচার ব্যবস্থায় বিচার করা হয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তর-পরবর্তী সরকারগুলো ইতিহাস বিকৃতির ষড়যন্ত্র করে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের মহান আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসকে ধূলিস্যাৎ করার ষড়যন্ত্র করে।’

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তারা দীর্ঘদিন নতুন প্রজন্মকেও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে না দিয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করেছিল। নতুন প্রজন্ম যেন স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে সেজন্য তার সরকার প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে সোফিয়াতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের নানা সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন ও শিগগিরই বুলগেরিয়াতে তারা যাতে কনস্যুলার সার্ভিস সুবিধা পান—সংশ্লিষ্টদের সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

এ সময় বুলগেরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আল্লামা সিদ্দিকী আগামী জুনের মধ্যে দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভিসাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধানে কনস্যুলার টিম পাঠিয়ে কনস্যুলার সার্ভিস চালুর আশ্বাস দেন।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বুলগেরিয়ার সর্বাত্মক সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বুলগেরিয়া বিশ্বে চতুর্থ দেশ হিসেবে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি উপস্থিত ছিলেন।###