গুড়পুকুরের মেলা সাতক্ষীরাবাসীর প্রাণের উৎসব


768 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গুড়পুকুরের মেলা সাতক্ষীরাবাসীর প্রাণের উৎসব
সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

কৃষ্ণ ব্যানার্জী ::
সাতক্ষীরায় এখন চলছে মেলার উসৎব। এক দিকে জেলার কলারোয়া উপজেলায় চলছে মাসব্যাপী ইৃদ মেলা। আবার সাতক্ষীরার প্রানকেন্দ্র রাজ্জাক পাকে শুরু হল গুড়পুকুরের মেলা। বিনোদন প্রেমীদের জন্য শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলাকে ঘিরে চলছে উৎসবের আমেজ। গত রবিবার সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ রবি, জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোহাম্মাদ মহিউদ্দীন মেলাটির উদ্বোধন করেন। এ মেলাকে ঘিরে সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক এখন বিনোদন প্রেমীদের যেন মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। বসেছে হাজারো দোকানের পসরা। মেয়েদের সাজুগুজু থেকে শুরু করে থ্রি -পিচ, জুতা, শাড়ি, অত্যাধুনিক বাহারী সব জিনিসপত্র, সাংসারিক দ্রব্যাদী। স্বাচ্ছন্দ্য আর আনন্দের জন্য নাগর দোলার পরিবর্তে আনা হয়েছে ম্যাজিক নৌকা। রয়েছে বাহারি খাবারের চমকপ্রদ আইটেম। চকলেট থেকে শুরু করে সুগন্ধী পান চটপটি আর ফুসকা এনে দিয়েছে মেলার ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্যরকম স্বাদ। কি না পাওয়া যাচ্ছে এ মেলায়।
সরেজমিনে গতকাল বৃহস্পতিবার মেলার প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, তরুণ তরুণী, গৃহবধু ও সকল বয়সের মানুষের স্বাদ ও সাধ্যের মধ্যে মেলায় স্টল বসায় প্রাণ চঞ্চলতা এসেছে। মাঝে মধ্যে হঠাৎ বৃষ্টিতে ছন্দপতন ঘটলেও মেলায় সর্বলোকের সমাগমে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড় পুকুরের মেলা বলে কথা, বৃষ্টিতো হবেই। সাতক্ষীরা পৌরসভার দিঘীরপাড়ে লাল নীল হলূদ বাতিতে সন্ধ্যা নামলেই মেলার সৌন্দর্য যেন অন্যরকম। দিঘীর পানিতে বাতিগুলো খেলছে। সকাল থেকে মেলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হলেও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে একটু সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলে। নিরাপত্তা বেস্টনী যেন চাদরে মুড়িত। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সংলগ্ন গেট ও দক্ষিণপার্শ্বে সুলতানপুর সংলগ্ন গেট দিয়ে মেলায় প্রবেশে নেওয়া হয়েছে নিছিন্দ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা। তরে তরে সাজানো হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণের স্টল। এ মেলাটি সনাতন ধর্মালম্বীদের জন্য গড়ে উঠলেও অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী সাতক্ষীরাবাসী সাম্প্রদায়িকতার অন্যতম নিদর্শন হিসেবে গুড়পুকুরের মেলা যেন তারই প্রতিফলন। কোনো ধর্মের নয় গুড়পুকুরের মেলা সাতক্ষীরা বাসীর প্রাণের স্পন্দন।মেলার মালিক বীর মুক্তি যোদ্ধা মানিক সিকদার জানান, বৃষ্টির কারনে মেলায় লোকজন একটু কম, সকলের সহযোগিতা থাকলে মেলাটি সুন্দর ভাবে শেষ করা সম্ভব হবে। একইভাবে সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন বাংলা ও বাঙ্গালির সাংস্কৃতির মেলা এখন সাতক্ষীরার শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জে। সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুরে চলছে মাসব্যাপী ঈদ মেলা। এ মেলায় আনন্দের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে চালু করা হয়েছে র‌্যাফেল ড্র। মেলা পরিচালনাকারী রবিউল ইসলাম রবি জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মেলাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখানে কোন রকম অশ্লীল কিছুই হচ্ছেনা।একটি স্বার্থেন্বেষী কুচক্রীমহল বাঙ্গালি জাতির আনন্দ বিঘিœত করতে ব্যাপক তৎপর হয়ে উঠেছে চন্দনপুরের ঈদ মেলা বন্ধে। সাতক্ষীরার গুড়পুকুরের মেলা মাসব্যাপী উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মোহাম্মাদ মহিউদ্দীন এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সাতক্ষীরা বাসীর ঐতিহ্যবাহী উৎসবের নাম গুড়পুকুরের মেলা। শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে এ মেলাকে আনন্দঘন করতে আরও চমকপ্রদ করা হবে।