গোপালগঞ্জের সাতপাড় ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে যে সকল প্রার্থীরা


396 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গোপালগঞ্জের সাতপাড় ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে যে সকল প্রার্থীরা
জানুয়ারি ১৬, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস.এম. সাথী ইসলাম, গোপালগঞ্জ অফিস :
গোপালগঞ্জে আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে জোরালো ভাবে জনসংযোগ ও মনোনয়ন দৌড়ে নেমে পড়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তপশীল ঘোষনার আগেই এসব প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ইতি মধ্যে অনেক সম্ভাব্য প্রার্থীরা পোস্টার, লিফলেট ছেপে ও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ও সমাবেশে যোগ দিয়ে তাদের প্রার্থীতার পক্ষে জনসমর্থন আদায়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে নিজেদের সাংগঠনিক ভীত, যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা প্রমাণে ব্যাপক ভাবে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সম্ভ্যাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা আলাদা আলাদা ভাবে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য উপজেলা, জেলা, স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতাদের দ্বারস্থ হচ্ছেন চালিয়ে যাচ্ছেন গ্রুপিং লবিং। তারা ভোটারদের কাছে দোয়া ও আশির্বাদ কামনা করছেন। সাতপাড় আওয়ামী লীগের দুর্গ হওয়ায় এখানে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। সাতপাড়ের সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও গোপালগঞ্জ-২ আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের আর্শীবাদ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দলের এসব নেতারা প্রত্যেকে দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে দলীয় মনোনয়ন না পেলে কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, কে মনোনয়ন পাবেন তা বলা মুশকিল। সব কিছু নির্ভর করছে আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা সেলিম ভাইয়ের উপর।
গতকাল সরেজমিনে সাতপাড় ইউনিয়নের সম্ভাব্য বিভিন্ন চেয়ারম্যান প্রার্থীদেও সাথে কথা হলে তারা বলেন, প্রনব বিশ্বাস বাপ্পি বলেন, আমি রাজনৈতিক পরিবারের লোক আমার দাদা এ ইউনিয়নে দীর্ঘ ৪৮ বছর চেয়ারম্যান ছিলেন আমার বাবা এ ইউনিয়নের একাধিকবার চেয়ারম্যান ছিলেন। আমি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ৩০ ভোটের ব্যবধানে হেরে গিয়েছিলাম এবারও নির্বাচন করবো। আমি যেহেতু রাজনৈতিক পরিবারের লোক যার কারনে নির্বাচনে বিজয়ে আমি শতভাগ আশাবাদী। আমি জনগনকে শ্রদ্ধা জানাই তাদের রায়ের প্রতি আমার সম্মান আছে। এবার এ ইউনিয়নের সাধারন ভোটাররা াামাকে চেয়ারম্যান হিসাবে দেখতে চায়।
গোপাল চন্দ্র মন্ডল খোকন বলেন, দলীয় প্রতিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হলে আমি প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নিব। এ ছাড়াও যদি আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম ভাই আমাকে মনোনয়ন দেন তা হলে আমি নির্বাচনে অংশ নিব। নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি। আমি নির্বাচনে বিজয়ী হলে সাতপাড় ইউনিয়কে ডিজিটাল ইউনিয়ন হিসাবে তৈরী করতে চাই যাতে করে এই ইউনিয়নটি দেশের মডেল ইউনিয়ন পরিষদ হিসাবে পরিচিতি পাবে।
ধনীন্দ্র নাথ বালা বলেন, দলীয় প্রতিকে বা দলীয় মনোনয়নে যদি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তবে সে নির্বাচনে আমি অংশ গ্রহন করবো না। মুলত আমি বিএনপি দলীয় লোক হওয়ার কারনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছিনা। তবে আমার বংশে যদি কাউকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় আমি তার পক্ষে কাজ করবো। তা ছাড়া আমি নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবো না।
সুজিত মন্ডল সুর্য্য বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি বিপুল সংখ্যক ভোট পেয়েছিলাম এবং তৃতীয় স্থানে ছিলাম। ১৯৯৩ সাল থেকে আমি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাথে জড়িত। ১৯৯৫-৯৬ সালে আমি সরকারি নজরুল ইসলাম কলেজের জিএস পদে নির্বাচিত হয়েছিলাম। শেখ ফজলুল হক সেলিম ভাই আমার রাজনৈতিক গুরু আমি বর্তমানে গোপালগঞ্জ জেলা যুবলীগের সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হিসাবে আছি। এ ইউনিয়নে সম্ভাব্য সকল চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক ও বর্তমান বিএনপি নেতা একমাত্র আমি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত আছি। আমি শতভাগ আশাকরি আমাকে এই ইউনিয়নে দলীয় ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি বিশ্বাস করি এবার এ ইউনিয়নের সাধারন ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করে চেয়ারম্যানের আসনে বসাবে। আমি নির্বাচিত হলে এই ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির, গীর্জাসহ সকল প্রকার উন্নয়ন কাজ করবো। আমি এ পর্যন্ত বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন করেছি। আমি আমার ইউনিয়নে ৫ থেকে ৭টি কালভাট, ২৫ থেকে ৩০টির মত টিউবয়েল স্থাপন করেছি। আমি এলাকার উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি আগামীতে আরো কাজ করার ইচ্ছা আছে। আমি ইউনিয়নের সাধারন মানুষের পাশে ছিলাম এখনও আছি ভবিষ্যতেও থাকবো।
বিধান চন্দ্র বালা বলেন, আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের কাছে দলীয় মনোনয়ন চাইবো। আর যদি দলীয় প্রতিকে নির্বাচন না হয় তাহলেও আমি নির্বাচনে প্রার্থী হব। বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি কারন আমার বংশে অনেক লোকজন তা ছাড়াও আমার আতœীয়-স্বজনও এ ইউনিয়নে বেশি তাদের ভোটেই আমি আগামীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হব।
এছাড়া নির্বাচনে অংশ নিবেন জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী রসময় বিশ্বাস তিনি গোপালগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আছেন। তিনি গত নির্বাচনে মোমবাতী প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। রসময় বিশ্বাস বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের অনুমতি ও মনোনয়ন নিয়ে আমি এবারও নির্বাচনে অংশ নিব। এবার বিজয়ের ব্যাপারে  আমি এবার শতভাগ আশাবাদি।