গ্রামীণ টেলিকম : চাকরিচ্যুতদের মামলায় আইনজীবীর ফি ১৬ কোটি টাকা


112 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গ্রামীণ টেলিকম : চাকরিচ্যুতদের মামলায় আইনজীবীর ফি ১৬ কোটি টাকা
আগস্ট ২, ২০২২ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের কাছ থেকে মামলা পরিচালনা ফি বাবদ ১৬ কোটি টাকা নিয়েছেন আইনজীবী ইউসুফ আলী। পাশাপাশি অন্যান্য ফি বাবদ শ্রমিকদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে আরও ১০ কোটি টাকা।

বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চে আজ মঙ্গলবার ইউসুফ আলীর পক্ষে হলফনামা আকারে এ তথ্য জানানো হয়। আদালতে ইউসুফ আলীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, রবিউল আলম বুদু, সাঈদ আহমেদ রাজা ও ব্যারিস্টার অনীক আর হক। অন্যদিকে গ্রামীণ টেলিকমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান।

শুনানিতে আইনজীবী আহসানুল করীম বলেন, আইনজীবী ফি নিয়েছেন ১৬ কোটি টাকা। ১০ কোটি টাকা অন্যান্য ফি। তখন আদালত বলেন, এটা সাধারণ ব্যাপার! আপনি বলুন যে আপনি এত টাকা ফি নিয়েছেন। বাকিটা দুদক, নাকি বাংলাদেশ ব্যাংক দেখবে- সেটা তাদের ব্যাপার। আদালত আরও বলেন, ১০ কোটি টাকার (অন্যান্য ফি বাবদ) বিষয়ে বিস্তারিত বলুন। এত লুকোচুরি কেন? সম্পূর্ণভাবে বলতে হবে নির্দিষ্ট করে। তখন ইউসুফ আলীর আইনজীবীরা বলেন, তাঁরা সম্পূরক হলফনামার মাধ্যমে সবকিছু নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করে দেবেন। এরপর আদালত তাঁদের দুই দিন সময় দেন। এর মধ্যে আলোচিত এই মামলায় কোন খাতে কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে বিস্তারিত জানাতে হবে ইউসুফ আলীর আইনজীবীদের।

গত ৩০ জুন গ্রামীণ টেলিকমের চাকরিচ্যুত শ্রমিকদের কাছ থেকে আইনজবীবী কত টাকা ফি নিয়েছেন- তা জানতে চান হাইকোর্ট। এ ছাড়া শ্রমিকরাও কত টাকা বকেয়া পেয়েছেন, তার তথ্য দাখিলের পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত নথিও তলব করা হয়। ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে শ্রমিকদের মামলায় আপসের মাধ্যমে ১২ কোটি টাকা ফি গ্রহণের অভিযোগ ওঠায় হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ইউসুফ আলীর পক্ষে হাইকোর্টে প্রতিবেদন আকারে ফি বাবদ নেওয়া টাকার তথ্য আদালতে দাখিল করেন তাঁর আইনজীবীরা।

বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় ২০১৬ সালে গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাবেক ১৪ কর্মী। পরে বকেয়া পরিশোধ চেয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে ৯৩টি মামলা করেন তাঁর প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কর্মীরা। ঢাকার শ্রম আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ১০৭টি মামলা দায়ের হয়। এসবের একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন (বি-২১৯৪) সিবিএর সঙ্গে আলোচনা না করেই এক নোটিশের মাধ্যমে গ্রামীণ টেলিকমের ১০০ কর্মীকে ছাঁটাই করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান স্ব্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে এই ছাঁটাই করা হয়। ওই নোটিশের বিরুদ্ধে আবেদন করা হলে ওই ১০০ কর্মীকে নিয়োগ দিতে আদেশ দেন হাইকোর্ট। এরই মধ্যে গত ৭ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমের অবসায়ন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। যার ধারাবাহিকতায় পাওনা পরিশোধ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে গ্রামীণ টেলিকম। কিন্তু পাওনা পরিশোধের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় বিষয়টি নিয়ে ফের শুনানি হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, আইনজীবী অপসের নামে শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিয়েছেন। অনেক শ্রমিক এখনও পাওনা বুঝে পাননি।

#