গড় আয়ু বেড়েছে ৩ মাস


144 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
গড় আয়ু বেড়েছে ৩ মাস
জুন ১২, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

বিবিএসের জরিপ

অনলাইন ডেস্ক ::

এক বছরে বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে তিন মাস।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (এমএসভিএসবি)-২০১৮ জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে গড় আয়ু বেড়ে হয়েছে ৭২ বছর তিন মাস। অর্থাৎ আজ যে শিশু বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে এবং বড় কোনো দুর্যোগ না হলে সে ৭২ বছর তিন মাস বাঁচবে। ২০১৭ সালে গড় আয়ু ছিল ৭২ বছর।

বুধবার আগারগাঁওয়ের বিবিএস ভবন মিলনায়তনে এসভিআরএস জরিপ প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তীর সভাপতিত্বে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস প্রকল্পের পরিচালক একেএম আশরাফুল হক।

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী পুরুষের চেয়ে নারীর গড় আয়ু বেশি। ২০১৮ সালে পুরুষের গড় আয়ু ৭০ বছর ৮ মাস। ২০১৭ সালে পুরুষের গড় আয়ু ছিল ৭০ বছর ৬ মাস। অন্যদিকে নারীর গড় আয়ু ৭৩ বছর ৫ মাস থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৩ বছর ৮ মাস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্বে নারীদের গড় আয়ু বেশি। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। তবে এক দশক আগেও পরিবারে নারীরা অবহেলার পাত্র ছিল। তারা অপুষ্টিতে ভুগত। এখন নারীদের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। এ কারণে নারীর গড় আয়ু বেড়েছে। গড় আয়ুর ক্ষেত্রে শ্রীলংকা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী গড় আয়ু ছাড়াও শিশু মৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, স্থূল মৃত্যুহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে বাংলাদেশের আরও অগ্রগতি হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ, টয়লেট সুবিধা, শিক্ষার হার, সাক্ষরতার হার এবং অন্যান্য সামাজিক সূচকেও ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে জনসংখ্যা এখন ১৬ কোটি ৪৬ লাখ। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা আট কোটি ২৪ লাখ এবং নারীর সংখ্যা আট কোটি ২২ লাখ। ২০১৭ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ২৭ লাখ, যার মধ্যে আট কোটি ১৪ লাখ পুরুষ এবং আট কোটি ১৩ লাখ নারী।

এখন মোট জনসংখ্যার ৫৪ দশমিক ৬ শতাংশের বয়স ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ জনসংখ্যা হলো শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সের। ৫০ থেকে ৫৯ বয়সের জনসংখ্যা আছে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ৬০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের জনসংখ্যা রয়েছে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপ অনুযায়ী, ২০১৮ জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ হার ২০১৭ সালে ছিল ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। প্রতি হাজারে স্থূল জন্মহার ২০১৮ সালে হয়েছে ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এর আগের বছরে এ হার ছিল ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি হাজারে) কমে হয়েছে ৫ শতাংশ। এ হার ৫ দশমিক ১ শতাংশ ছিল ২০১৭ সালে।

এক বছরের নিচের শিশু মৃত্যুহার কমে (প্রতি হাজারে) ২২ জনে নেমে এসেছে। এর আগের বছর এ হার ছিল হাজারে ২৪ জন। এক মাসের কম বয়সের শিশু মৃত্যুহার ১৭ থেকে কমে ১৬-তে নেমে এসেছে। বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর অনুপাত ১ দশমিক ৬৯, যা ২০১৭ সালে ছিল ১ দশমিক ৭২।

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী, এক বছরের মধ্যে পুরুষের তুলনায় তালাকপ্রাপ্ত ও বিপত্নীক নারীর হার বেড়েছে। ২০১৭ সালে বিপত্নীক, তালাকপ্রাপ্ত বা বিচ্ছিন্ন নারী ছিল ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। এ হার ২০১৮ সালেও ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। পুরুষের ক্ষেত্রে এ হার ২০১৭ সালে ছিল ১ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০১৮ সালেও অপরিবর্তিত রয়েছে।

বিবিএসের জরিপ অনুযায়ী বর্তমানে বাংলাদেশে ১০ জনের মধ্যে ৯০ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। ২০১৭ সালে এ হার ছিল ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে এখন স্যানিটারি টয়লেট সুবিধার মধ্যে আছে ৭৮ দশমিক ১ শতাংশ জনগণ। এ হার ২০১৭ সালে ছিল ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ। এখনও উন্মুক্ত জায়গায় টয়লেট করছে ২ শতাংশ মানুষ। ২০১৭ সালে এ হার ছিল ২ দশমিক ২৬ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে শিক্ষার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

জরিপের বিষয়ে অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। এ কারণে পরিসংখ্যানে সামাজিক সূচকের উন্নতি দেখা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পয়ঃনিস্কাশন, শিক্ষা খাতে অগ্রগতি হয়েছে। এতে সামাজিক অনেক সূচকে দ্রুত এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। অনেক সূচকে উন্নত দেশের চেয়ে দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

নজিবুর রহমান বলেন, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে যাচ্ছে। প্রতি ১০০ জনে এখন ৯০ জন বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। শিক্ষা খাতের উন্নয়নের কারণে মানুষ এখন সচেতন হয়েছে। সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্ত্তী বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরকারি যে কোনো উন্নয়ন কাজে এবং গবেষণা কাজের জন্য সহজ হবে।