ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া——-


478 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া——-
অক্টোবর ১১, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গাজী মোমিন উদ্দীন:
ঘর হইতে দুই পা ফেলিয়া, কথাটির সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। কাজ আর ব্যস্ততার যান্ত্রিক এই জীবনে কিছুটা হলেও একঘেয়েমীভাব দূর করতে, বদ্ধজীবন থেকে বেরিয়ে খোলা বাতাসে নি:শ্বাস নিতে, ছকবাধা অবস্থার পরিবর্তনে জীবনকে একটু শান্তি দিতে, স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দিতে, চেনা-জানার ভান্ডার আরও সমৃদ্ধ করতে ও জ্ঞান লাভের আশায় বাড়ি থেকে বের হয়ে কোন অজানা অচেনা অথচ গুরুত্বপুর্ন জায়গা পরিদর্শন অভিজ্ঞতার নামই ভ্রমন। কেউ বলে শিক্ষা সফর.  কেউ বলে ট্যুর ইত্যাদি। যে যে নামেই বলুক ঘর হতে বের হওয়ার বিকল্প পথে ভ্রমনের সুযোগ নেই। তাছাড়া ভ্রমনের  জন্য পরিশীলিত সুন্দর একটা মন। মনের দরজা জানালা খোলা রাখাও জরুরী। মনের অন্দরমহলে উকি দেয়া সাধগুলির বাস্তবে রুপদানই হলো ভ্রমন। অর্থ, শারীরিক সামর্থ্য, ইচ্ছাশক্তি আর অনুকুল পরিবেশের মিশেলে ভ্রমনের পরিবেশ পুর্নতা পায়। নিয়মিত ভ্রমনের অংশ হিসেবে এবার আমরা বেরিয়েছিলাম দুর্গাপুজার ছুটিতে। প্রথম দিন  ৭ অক্টোবর ঢাকার বিকেএসপি, সাভার স্মৃতিসৌধ ও গাজীপুরের সফিপুরে আনসার একাডেমী দেখি। ঘুরে ফিরে বেশ ভালই দেখা হয়েছে। পরদিন শনিবার যাওয়া হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের দিকপাল হুমায়ুন আহমেদের সমাধিসৌধ গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে।  এখানকার মনোরম পরিবেশ আর হুমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে বেশ জানাশোনার পর আমরা যাই দেশের বৃহত্তম সাফারি পার্ক বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক গাজীপুরে। এক অসাধারন দর্শনীয় স্থান এটি। হাজার হাজার দর্শনার্থীর জমজমাট আড্ডায় মুখরিত এই পার্কের বিশাল আয়তন ঘুরে সারাদিন গেল। একেবারে সন্ধ্যায় ফিরে জয়দেবপুর হয়ে আমাদের অস্থায়ী ঠিকানা সফিপুরে চলে আসলাম। রাত পোহালেই আবার আমরা বের হলাম। রবিবারে আশুলিয়ার কিছু দর্শনীয় স্থান ঘুরে প্রচন্ড বর্ষায় রণেভঙ্গ হলো। মাটি হল রবিবার। সোমবার অনেক সকালে বের হয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বেড়িয়ে সোজা উত্তরায়। সেখানে বিমানবন্দর এলাকায় কিছু সময় কাটিয়ে গাড়িতে সোজা গুলিস্থান। সেখান থেকে লালবাগ গেলাম। অফুরান সুন্দরের পসরা সাজিয়ে লালবাগ কেল্লা যেন সবাইকে আনন্দ দিতেই প্রস্তুত। সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এই দর্শনীয় স্থানটি রবিবার বন্ধ থাকে। এরপর রিক্সায় সোজা কামরাঙ্গীরচর এলাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে। নৌকা ভ্রমনে ওপারে ব্রাহ্মনকিত্তায় উঠে বাবুবাজার ব্রিজ। সেখান থেকে আবার নৌকা ভ্রমন অনেক সময়। রাতের তারাভরা আকাশের রোশনীতে নৌকা ভ্রমন খুব উপভোগ্য ছিল। তারপর সহকর্মী আবু নাসিমের বাসায় রাতযাপন। রাত পোহানোর সাথে সাথে বের হয়েই সদরঘাটে আহসান মঞ্জলে। কিন্তু বিধিবাম। সরকারি ছুটিজনিত কারনে বন্ধ থাকায় দেখার সাধ মিটল না। আসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত এই বিদ্যাপীঠে ফজলুল হক ও শহিদুল্লাহ হল হয়ে রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে মধুর ক্যান্টিনে রসমালাইয়ের সাধ নিলাম। এরপর কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে গিয়ে অল্প সময় কাটিয়ে কলাভবনের সামনে দিয়ে আসলাম বিজয় একাত্তর ও জসীম উদদীন হলের দিকে। প্রিয় ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের ছাত্র মাহবুব কে নিয়ে আসলাম শিশু পার্কে। সাবিরের অনেক আনন্দের পর বিকালে তিনজনের বাসায় ফেরা। অনেক জায়গা বেড়ানোর ইচ্ছে থাকলেও বেরসিক বর্ষার কারনে অতৃপ্ত মন নিয়ে ফিরতে হল। তিনজনের ভ্রমনের এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষক হিসেবে ক্লাসে ছাত্রদের বাস্তবজ্ঞান বিতরনে কাজ করা যাবে। মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের কন্টেন্ট বানাতে ভ্রমনের ছবি কাজে লাগানো যাবে। বহুমুখী মুনাফা লাভের আমাদের ভ্রমন শেষ হলেও পরিশেষে বলতেই হয় অন্তরে অতৃপ্তি রবে সাঙ্গ করে মনে হবে শেষ হয়েও হইলনা শেষ।

লেখক:
গাজী মোমিন উদ্দীন
সহকারী শিক্ষক
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়