ঘুমের শত্রু স্মার্টফোন


429 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘুমের শত্রু স্মার্টফোন
আগস্ট ২৮, ২০১৫ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
সারাদিন কর্মক্লান্ত দিন শেষে রাতে নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের দিন যেন শেষ। দিন দিন কমে যাচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক ঘুমের প্রবণতা। নিদ্রাহীনতার প্রভাব কাটাতে অনেকেই দ্বারস্থ হচ্ছেন ডাক্তারের। কিন্তু কেন? গবেষণা জানাচ্ছে, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি বা টেলিভিশনের আলো ঘুমের জন্য দায়ি হরমোনের বারোটা বাজিয়ে দেয়। আর অতিমাত্রায় এসব প্রযুক্তি নির্ভরতাই ডেকে নিয়ে আসছে অনিদ্রা।

রাতের বেলা মাত্র এক ঘণ্টা স্মার্টফোন, ট্যাবলেট পিসি, টেলিভিশন ইত্যাদির পর্দার আলোর সংস্পর্শে আসলে টিনএজারদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে মারাত্মকভাবে। এমনকি বিছানায় গড়াগড়ি দিয়েও পার করা লাগতে পারে গোটা রাত।আর বর্তমানে তো স্মার্টফোন বিছানাতেও অন্যতম সঙ্গী, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পর্দার আলোর কারণে শরীরে ঘুমের জন্য দায়ি হরমোনের নিঃসরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রোড আইল্যান্ড’স ব্রাউন ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, বয়স্ক কৈশোরদের তুলনায় প্রাথমিক পর্যায়ের বয়ঃসন্ধিকালে বা ৯ থেকে ১৫ বছর বয়সি ছেলে ও মেয়েদের ‘স্লিপ বায়োলাজি’ রাতের বেলা আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে থাকে।

গবেষণাগারের পরীক্ষায় গবেষকরা দেখেন, রাতের বেলা একই পরিমাণ উজ্জ্বল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সিদের তুলনায় আরও তরুণদের শরীরে ঘুমের জন্য দায়ী হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

আলো যত বেশি উজ্জ্বল হয়, মেলাটোনিনের উৎপাদন ততটাই কমে।

আর ছেলে মেয়ে উভয়ের ক্ষেত্রেই এই প্রভাব সমান।

গবেষণার জ্যেষ্ঠ গবেষক, মনোরোগবিদ্যা ও মনুষ্য আচরণবিদ্যার অধ্যাপক মেরি সারস্কাডন বলেন, ”রাতে সামান্য আলো যেমন স্ক্রিনের আলো ঘুমের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার জন্য যথেষ্ট।”

যেসব শিক্ষার্থী ট্যাবলেট, কম্পিউটার, টেলিভিশন, এমনকি পড়ার জন্য চাদরের নিচে টর্চলাইট ব্যবহার করেন, তাদের ‘সার্কাডিয়ান ক্লক’ বা শরীরের ২৪ ঘণ্টার জৈবিক ঘড়ির হিসাবে গোলমাল বেঁধে যায়।

সারস্কাডন বলেন, ”এই কারণে রাতে ঘুম আসে না এবং পরদিনে সকালে স্কুলের জন্য সময় মতো ঘুম থেকে উঠতেও সমস্যা হয়।”

জার্নাল অফ ক্লিনিকাল এন্ডোক্রিনোলজি অ্যান্ড মেটাবলিজম নামক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণার প্রতিবেদনে গবেষকরা জানান, ঘুমের সময় শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের এই ধরনের ‘স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো উচিত। অন্তত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের দিকে তাকিয়ে।—সুত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন