ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড পুলিশিং কমিটির সভাপতি অ্যাড. জিল্লুর রহমানকে অব্যাহতি !


346 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড পুলিশিং কমিটির সভাপতি অ্যাড. জিল্লুর রহমানকে অব্যাহতি !
অক্টোবর ৩০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
শালিশী বৈঠকের নামে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পুলিশিং কমিটির সভাপতি অ্যাড: জিল্লুর রহমানকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলার বড়দল গ্রামের কাশেম আলী সরদারের ছেলে রবিউল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়।

লিখিত অভিযোগে রবিউল ইসলাম জানান, তিনি শহরের খুলনা রোড মোড়স্থ রাকিব স্টিল হাউজের মালিক। তিনি যাতে সুষ্ঠুভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে না পারেন সে জন্য শহরের পলাশপোল এলাকার মৃত অজিয়ার রহমানের ছেলে আলফাজ উদ্দীন গত ২১ অক্টোবর সদর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যে মামলা দায়ের করে। মামলা নং-৩২। এরপরও আলফাজ উদ্দীন পৌর সভার ৯ নং ওয়ার্ডের পুলিশিং কমিটির কাছে তার বিরুদ্ধে আরো একটি অভিযোগ দেয়। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৩ অক্টোবর বিকাল ৪ টার দিকে  নোটিশের মাধ্যমে তাকে ৯ নং ওয়ার্ডের পুলিশিং কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমানের মধুমল্লারডাঙ্গিস্থ বাড়িতে ডাকা হয়। এসময় পলাশপোল এলাকার আনছারুজ্জামান ও মাসুমসহ অজ্ঞাত আরো ৬/৭ জন সেখানে উপস্থিত ছিল।

শালিশী বৈঠকে পুলিশিং কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমান তাকে বলে যে আলফাজের মামলা থেকে বাঁচতে হালে তাদেরকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। এক পর্যায় আলফাজ উদ্দীন তার কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা পকেট থেকে তুলে নেয় এবং আরো দুই লাখ টাকা আগামী শুক্রবারের মধ্যে দিতে বলে। এসময় সভাপতি জিল্লুর রহমান তার কাছে থাকা ইসলামী ব্যাংক লিঃ সাতক্ষীরা শাখার তার নামীয় সঞ্চয় হিসাব ২৬৩৩৯ চেক বই তুলে নিয়ে চেকের একটি পাতায় ১০ হাজার টাকার অংক বসিয়ে তার স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। তারা পুলিশিং কমিটির লোক বলে এনিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে  একের পর এক আরো মিথ্যে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়া হয়। এঘটনার পর তিনি প্রতিকার চেয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

রবিউল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পুলিশিং কমিটির সভাপতি এ্যাডঃ জিল্লুর রহমানকে সভাপতির দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। একই সাথে রবিউল ইসলামকে ৩৮ হাজার টাকা  পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শফিক-উদ-দৌলা সাগরের মাধ্যমে ফেরত দেয়া হয়।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শালিশী বৈঠকের নামে অবৈধ ভাবে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের পুলিশিং কমিটির সভাপতি এড. জিল্লুর রহমানকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। একই সাথে তার ৩৮ হাজার টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অ্যাড: জিল্লুর রহমান ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকমকে জানান, আমার বিরুদ্ধে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহনের যে অভিযোগ করা হয়েছিল তা মিথ্যে। আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য এ ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ওসি সাহেব আমাকে ডেকে ছিল। উনি সবকিছু শুনে বলেছেন এ ধরনের কাজে আর না জড়ানোর জন্য।